ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৮০ দিনে বিচার না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট সাগরে গভীর নিম্নচাপ, বন্দরে সতর্কসংকেত বহাল রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদিপাহাড়ে সাইফুল হত্যাকান্ড : সিহাব নামের যুবক আটক চকরিয়ায় শিক্ষার্থীকে অপহরণ : যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি জোবায়ের, সা: সম্পাদক ওসমান জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধি কক্সবাজারে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবাসহ ১৩৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেপ্তার ২৯ হলদিয়ায় কিশোরকে মারধর করে অপহরণ : থানায় অভিযোগ দায়ের মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

দখল-ভরাটের সংকুচিত হচ্ছে পেকুয়ার ফুটখালী খাল

পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে সরকারি খাল দখল করে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, খাস খতিয়ানভুক্ত এ প্রবাহমান খালটি দখল ও ভরাটের কারণে দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি প্রবাহ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টইটং ইউনিয়নের ফুটখালী খালের বিভিন্ন অংশে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক গতি থামিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও খালের জমি মাটি ফেলে ভরাট করে পাশের ফসলি জমির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। আবার কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা। এতে খালের প্রস্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক বলেন, একসময় প্রায় ১০০ ফুট প্রশস্ত এ খালটি এখন অনেক স্থানে ৩০ ফুটেরও কমে নেমে এসেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে বাধা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাইছড়ি মৌজায় অবস্থিত ফুটখালী খালটি পাহাড়ি উৎস থেকে নেমে নিম্নাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সরিয়ে জলাবদ্ধতা কমাতে এ খালের বড় ভূমিকা রয়েছে। খালটি আশপাশের কৃষিজমির সেচেরও অন্যতম উৎস।

স্থানীয় কৃষক ফিরোজ আহমদ বলেন, “এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বোরো চাষাবাদ হয়। খাল ভরাট ও দখল চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়বে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে খালের বিভিন্ন অংশ দখল করছেন। খাল উদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে ফুটখালী খাল দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, সরকারি খাল দখলের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে জবরদখল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম মাহাবুব বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১৮০ দিনে বিচার না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

দখল-ভরাটের সংকুচিত হচ্ছে পেকুয়ার ফুটখালী খাল

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে সরকারি খাল দখল করে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, খাস খতিয়ানভুক্ত এ প্রবাহমান খালটি দখল ও ভরাটের কারণে দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি প্রবাহ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টইটং ইউনিয়নের ফুটখালী খালের বিভিন্ন অংশে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক গতি থামিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও খালের জমি মাটি ফেলে ভরাট করে পাশের ফসলি জমির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। আবার কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা। এতে খালের প্রস্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক বলেন, একসময় প্রায় ১০০ ফুট প্রশস্ত এ খালটি এখন অনেক স্থানে ৩০ ফুটেরও কমে নেমে এসেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে বাধা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাইছড়ি মৌজায় অবস্থিত ফুটখালী খালটি পাহাড়ি উৎস থেকে নেমে নিম্নাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সরিয়ে জলাবদ্ধতা কমাতে এ খালের বড় ভূমিকা রয়েছে। খালটি আশপাশের কৃষিজমির সেচেরও অন্যতম উৎস।

স্থানীয় কৃষক ফিরোজ আহমদ বলেন, “এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বোরো চাষাবাদ হয়। খাল ভরাট ও দখল চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়বে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে খালের বিভিন্ন অংশ দখল করছেন। খাল উদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে ফুটখালী খাল দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, সরকারি খাল দখলের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে জবরদখল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম মাহাবুব বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।