ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

দখল-ভরাটের সংকুচিত হচ্ছে পেকুয়ার ফুটখালী খাল

পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে সরকারি খাল দখল করে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, খাস খতিয়ানভুক্ত এ প্রবাহমান খালটি দখল ও ভরাটের কারণে দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি প্রবাহ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টইটং ইউনিয়নের ফুটখালী খালের বিভিন্ন অংশে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক গতি থামিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও খালের জমি মাটি ফেলে ভরাট করে পাশের ফসলি জমির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। আবার কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা। এতে খালের প্রস্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক বলেন, একসময় প্রায় ১০০ ফুট প্রশস্ত এ খালটি এখন অনেক স্থানে ৩০ ফুটেরও কমে নেমে এসেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে বাধা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাইছড়ি মৌজায় অবস্থিত ফুটখালী খালটি পাহাড়ি উৎস থেকে নেমে নিম্নাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সরিয়ে জলাবদ্ধতা কমাতে এ খালের বড় ভূমিকা রয়েছে। খালটি আশপাশের কৃষিজমির সেচেরও অন্যতম উৎস।

স্থানীয় কৃষক ফিরোজ আহমদ বলেন, “এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বোরো চাষাবাদ হয়। খাল ভরাট ও দখল চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়বে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে খালের বিভিন্ন অংশ দখল করছেন। খাল উদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে ফুটখালী খাল দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, সরকারি খাল দখলের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে জবরদখল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম মাহাবুব বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

দখল-ভরাটের সংকুচিত হচ্ছে পেকুয়ার ফুটখালী খাল

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে সরকারি খাল দখল করে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, খাস খতিয়ানভুক্ত এ প্রবাহমান খালটি দখল ও ভরাটের কারণে দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি প্রবাহ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টইটং ইউনিয়নের ফুটখালী খালের বিভিন্ন অংশে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক গতি থামিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও খালের জমি মাটি ফেলে ভরাট করে পাশের ফসলি জমির সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। আবার কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা। এতে খালের প্রস্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

স্থানীয় কৃষক আজিজুল হক বলেন, একসময় প্রায় ১০০ ফুট প্রশস্ত এ খালটি এখন অনেক স্থানে ৩০ ফুটেরও কমে নেমে এসেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে বাধা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাইছড়ি মৌজায় অবস্থিত ফুটখালী খালটি পাহাড়ি উৎস থেকে নেমে নিম্নাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত সরিয়ে জলাবদ্ধতা কমাতে এ খালের বড় ভূমিকা রয়েছে। খালটি আশপাশের কৃষিজমির সেচেরও অন্যতম উৎস।

স্থানীয় কৃষক ফিরোজ আহমদ বলেন, “এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে বোরো চাষাবাদ হয়। খাল ভরাট ও দখল চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়বে।”

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে খালের বিভিন্ন অংশ দখল করছেন। খাল উদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা অবিলম্বে ফুটখালী খাল দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, সরকারি খাল দখলের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিন তদন্ত করে জবরদখল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম মাহাবুব বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।