ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে অপহরণের দুই দিন পর রোহিঙ্গা কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে মুক্তিপণ আদায়ের পরও অপহৃত ঈদগাঁওর ২ বাসিন্দা উদ্ধার পেকুয়ার শিলখালীতে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ২ মুরগির ওজনে কারসাজি : ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বলে বিক্রি, অন্য দোকানে ওজন ২ কেজি ২০০ গ্রাম বিষপান করে উখিয়া হাসপাতালে দিনমজুর মমতাজ : অ্যাম্বুলেন্স দিল না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জসিম উদ্দিন হেলাল কে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে : দোয়া কামনা পরিবারের ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় অফিসারের নিয়োগকৃত পশ্চিম গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন কমিটি বাতিল বাঁকখালী নদীকে সংকটাপন্ন ঘোষণা, দখলদার উচ্ছেদে হাইকোর্টের পুর্ণাঙ্গ রায় চট্রগ্রামে পুলিশের উপর হামলা: সন্ত্রাসী ‘বিহারী বগা’কে প্রধান করে ২৭১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রান্নাঘর রেস্টুরেন্টসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি শাহীন,সহ-সভাপতি সেলিম, সম্পাদক ফারুক কলেজে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইমতিয়াজের মৃত্যু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার

জাতীয়ভাবে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপিত হবে: উপদেষ্টা ফারুকী

  • টিটিএন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • 408

বাংলাদেশের অন্যতম সংগীতসাধক, দার্শনিক লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি বিলুপ্ত ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদের উদাহরণ টেনে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একটা দেশকে ফিজিক্যাল কলোনি বানানোর আগে প্রথম যে কাজটা করতে হয়—সেটা হচ্ছে তাকে ইন্টেলেকচুয়াল কলোনিতে রূপান্তরিত করা। তাকে প্রতিনিয়ত বোঝানো যে, তোমার কোনো সংস্কৃতি নাই। থাকলেও তোমার সংস্কৃতি লো কালচার (নিচুমানের সংস্কৃতি)।

তিনি বলেন, যেমন ধরেন ‌‘লালনের গান’। হেজেমনিক কালচারের (আধিপত্যবাদের সংস্কৃতি) ফ্রেমের সাথে মিলছে না বলে এটাকে হাই আর্ট (উচ্চমার্গীয় শিল্প) মানতে পারল না আমাদের উপনিবেশিক মন। ভদ্রসমাজ তখন চিন্তা করল এটাকে নিয়ে কী করা যায়? সহজ সমাধান হিসেবে ট‍্যাগ দিয়ে দিল ‘ফোক’।

মানে মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) না, সাব-কালচার (উপ-সংস্কৃতি)। তারপর ধরেন রক মিউজিক। এটা নিয়েও ভদ্রসমাজ বিপদে পড়ে গেল। একেতো তাদের সেট করা ‘হেজেমনিক ফ্রেমে’ হাই আর্ট হিসাবে ধরা যাচ্ছে না। সহজ সমাধান করল ট‍্যাগ দিয়ে ‘অপসংস্কৃতি’। এইভাবে আমাদের রাষ্ট্র বা এস্টাবলিশমেন্ট (বিদ্যমান প্রথা) চিরকাল আমাদের গৌরবময় ঐশ্বর্যগুলোকে রাষ্ট্রীয় উদযাপন ও স্বীকৃতির বাইরে রেখেছে।

আজকের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এই কথা জানিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, চব্বিশ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের দায় হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের চর্চা এবং অংশগ্রহণে যে সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠেছে সেটাকে উদযাপন করা। এই উদযাপন জাতিকে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।

পাশাপাশি এই উদযাপন বাইরের দুনিয়ায় আমাদের নিজেদের কালচারাল আইডেন্টিটি (সাংস্কৃতিক পরিচয়) তৈরিতে সাহায্য করে। এর প্রথম ধাপ হিসাবে আজকে (২৮ আগস্ট) ক‍্যাবিনেটে লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আরও কয়েকজন কালচারাল আইকন এবং কনটেমপোরারি মাস্টারকে (সমসাময়িক বিদ্বজ্জন) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এস এম সুলতানের জন্মদিনকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি আলোচনা করেছি, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বড় কালচারাল ফেনোমেনাগুলো নিয়ে। যেমন হুমায়ূন আহমেদ। আমার মনে হয় না তার চেয়ে বেশি প্রভাব আমাদের লেখকদের মধ‍্যে কেউ রাখতে পেরেছেন। আলোচনা করেছি বাংলাদেশি রক আইকনদের উদযাপন করার বিষয়ে।’

সবশেষে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বব ডিলানের একটি গানের কথা জুড়ে দিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, লালন উদযাপন করা দিয়ে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে তাকাতে শুরু করলাম। এটা কেবল শুরু। আমি নিশ্চিত সেদিন বেশি দূরে না যখন কনটেমপোরারি মাস্টার আর্টিস্টদেরও আমরা সেলিব্রেট করব রাষ্ট্রীয়ভাবে। ধরা যাক, আইয়ুব বাচ্চুর কথাই। বাংলাদেশের এমন কোনো বর্গকিলোমিটার এলাকা পাওয়া যাবে না যেখানে তার গান বাজে নাই। তার মানের মিউজিশিয়ান যেকোনো দেশের জন্যই গর্বের। তার জন্মদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করতে মৃত‍্যুর কত শ’ বছর পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? দ্য আনসার, মাই ফ্রেন্ড, ইজ ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড (বন্ধু, সেই উত্তর বাতাসে ভেসে বেড়ায়)।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ অক্টোবর হলো লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস। ১৮৯০ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সূত্র: যমুনা টিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে অপহরণের দুই দিন পর রোহিঙ্গা কিশোরী উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক

জাতীয়ভাবে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপিত হবে: উপদেষ্টা ফারুকী

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের অন্যতম সংগীতসাধক, দার্শনিক লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্টে তিনি বিলুপ্ত ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদের উদাহরণ টেনে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, একটা দেশকে ফিজিক্যাল কলোনি বানানোর আগে প্রথম যে কাজটা করতে হয়—সেটা হচ্ছে তাকে ইন্টেলেকচুয়াল কলোনিতে রূপান্তরিত করা। তাকে প্রতিনিয়ত বোঝানো যে, তোমার কোনো সংস্কৃতি নাই। থাকলেও তোমার সংস্কৃতি লো কালচার (নিচুমানের সংস্কৃতি)।

তিনি বলেন, যেমন ধরেন ‌‘লালনের গান’। হেজেমনিক কালচারের (আধিপত্যবাদের সংস্কৃতি) ফ্রেমের সাথে মিলছে না বলে এটাকে হাই আর্ট (উচ্চমার্গীয় শিল্প) মানতে পারল না আমাদের উপনিবেশিক মন। ভদ্রসমাজ তখন চিন্তা করল এটাকে নিয়ে কী করা যায়? সহজ সমাধান হিসেবে ট‍্যাগ দিয়ে দিল ‘ফোক’।

মানে মেইনস্ট্রিম (মূলধারা) না, সাব-কালচার (উপ-সংস্কৃতি)। তারপর ধরেন রক মিউজিক। এটা নিয়েও ভদ্রসমাজ বিপদে পড়ে গেল। একেতো তাদের সেট করা ‘হেজেমনিক ফ্রেমে’ হাই আর্ট হিসাবে ধরা যাচ্ছে না। সহজ সমাধান করল ট‍্যাগ দিয়ে ‘অপসংস্কৃতি’। এইভাবে আমাদের রাষ্ট্র বা এস্টাবলিশমেন্ট (বিদ্যমান প্রথা) চিরকাল আমাদের গৌরবময় ঐশ্বর্যগুলোকে রাষ্ট্রীয় উদযাপন ও স্বীকৃতির বাইরে রেখেছে।

আজকের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে—এই কথা জানিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, চব্বিশ পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের দায় হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের চর্চা এবং অংশগ্রহণে যে সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠেছে সেটাকে উদযাপন করা। এই উদযাপন জাতিকে আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।

পাশাপাশি এই উদযাপন বাইরের দুনিয়ায় আমাদের নিজেদের কালচারাল আইডেন্টিটি (সাংস্কৃতিক পরিচয়) তৈরিতে সাহায্য করে। এর প্রথম ধাপ হিসাবে আজকে (২৮ আগস্ট) ক‍্যাবিনেটে লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে আরও কয়েকজন কালচারাল আইকন এবং কনটেমপোরারি মাস্টারকে (সমসাময়িক বিদ্বজ্জন) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এস এম সুলতানের জন্মদিনকে ‘ক’ শ্রেণির জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি আলোচনা করেছি, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের বড় কালচারাল ফেনোমেনাগুলো নিয়ে। যেমন হুমায়ূন আহমেদ। আমার মনে হয় না তার চেয়ে বেশি প্রভাব আমাদের লেখকদের মধ‍্যে কেউ রাখতে পেরেছেন। আলোচনা করেছি বাংলাদেশি রক আইকনদের উদযাপন করার বিষয়ে।’

সবশেষে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বব ডিলানের একটি গানের কথা জুড়ে দিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, লালন উদযাপন করা দিয়ে আমরা রবীন্দ্র-নজরুলের বাইরে তাকাতে শুরু করলাম। এটা কেবল শুরু। আমি নিশ্চিত সেদিন বেশি দূরে না যখন কনটেমপোরারি মাস্টার আর্টিস্টদেরও আমরা সেলিব্রেট করব রাষ্ট্রীয়ভাবে। ধরা যাক, আইয়ুব বাচ্চুর কথাই। বাংলাদেশের এমন কোনো বর্গকিলোমিটার এলাকা পাওয়া যাবে না যেখানে তার গান বাজে নাই। তার মানের মিউজিশিয়ান যেকোনো দেশের জন্যই গর্বের। তার জন্মদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করতে মৃত‍্যুর কত শ’ বছর পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? দ্য আনসার, মাই ফ্রেন্ড, ইজ ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড (বন্ধু, সেই উত্তর বাতাসে ভেসে বেড়ায়)।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ অক্টোবর হলো লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস। ১৮৯০ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সূত্র: যমুনা টিভি