ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন কক্সবাজারে বিএনপির দাপট: সালাহউদ্দিন ৪, ফরিদ ৩, কাজল ২ ও শাহজাহান ৫ বার এমপি জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার: ড. আলী রিয়াজ টেকনাফে উদ্ধার কিশোর,১ রোহিঙ্গাসহ চক্রের ৪ জন আটক প্রধান উপদেষ্টার বার্তা: নির্বাচনী আচরণে প্রশংসিত জামায়াত আমির শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই: প্রেস সচিব ‘আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে’: তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে ইউনূস পিএসজির শিরোপা স্বপ্নে বড় ধাক্কা ২৯৭ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ ইসির ফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ, ইতিহাস জানেন? নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত এসে গেছে…

চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক : তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ আবার মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায়।

দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। এরপর তিনি পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীকে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।

সূএ:প্রথম আলো

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান

This will close in 6 seconds

চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার পরিবারের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক : তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০২:৩৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ আবার মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায়।

দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। এরপর তিনি পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীকে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।

সূএ:প্রথম আলো