ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন

কক্সবাজার সৈকতে অরিত্র নিখোঁজের একমাস – আশা ছাড়ছে না পরিবার

বেড়াতে এসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে বন্ধুদের সাথে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান (২২)।

গত ৮ জুলাই সকালে এই ঘটনায় অরিত্রের সাথে সাগরে তলিয়ে যান তার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু ঢাকার মিরপুরের কে এম সাদমান রহমান ও আসিফ মোহাম্মদ। ঘটনার প্রায় তিন ঘন্টার পর সৈকতের বালিয়াড়িতে ভেসে সাদমানের মরদেহ এবং পরদিন ৯ জুলাই আসিফের মরদেহ সৈকতের নাজিরারটেক পয়েন্টে। এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো বগুড়ার বাসিন্দা অরিত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সি-সেফ লাইফ গার্ড এর সমন্বয়ে অরিত্রকে খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়, ড্রোন উড়িয়ে সাগরে তল্লাশি করে বিমানবাহিনী।

অরিত্র নিখোঁজের পরপরই কক্সবাজার চলে আসে তার পরিবার। ছেলে’কে খুঁজে পাওয়ার আশায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ উদ্ধার দলের সাথে টানা দুই সপ্তাহ সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছুটেছেন অরিত্রের বাবা-মা।

ঢাকায় একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেন অরিত্রের বাবা সাকিব হাসান, ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি তিনি।

মুঠোফোনে সাকিব বলেন, ‘ আমি কেনো এখনো আমার ছেলে পেলাম না? সবাই তো চেষ্টা করছে, পিতা হিসেবে আমি খুব হতাশ। ‘

আবেগাপ্লুত এই পিতা আরো বলেন, ‘ অরিত্র হাসান আমার একমাত্র সন্তান, আমি যতদিন বেঁচে
থাকবো তাকে ফিরে পেতে সব চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। যেকোনো অবস্থাতেই হোক না কেনো আমি এক টুকরো অরিত্রকেও হলে ফিরে পেতে চাই। ‘

উদ্ধার তৎপরতা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘ আমরা সবধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছি, কিন্তু একমাসে কোনো ফলাফল আসেনি। তারপরেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে অরিত্রের সন্ধানে করণীয় তৎপরতা বজায় রাখতে।’

অরিত্রের উদ্ধার অভিযানে শুরু থেকে কাজ করেছে সৈকতে সতর্কতা করার পাশাপাশি ডুবে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধারে নিয়োজিত সি-সেফ লাইফগার্ড।

বেসরকারি প্রকল্পটির কর্মী মোহাম্মদ ওসমান জানালেন, ‘ অরিত্রের পরিণতি কি ঘটেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমরা উদ্ধার অভিযানে গিয়ে জলদস্যুর ফাঁদেও পড়েছি। গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের বলে রেখেছি, কোনো লাশ ভাসতে দেখলে যাতে জানানো হয়।’

অরিত্রর মা জেসমিন আক্তার এখনো অপেক্ষায় আছেন—যদি কোনো এক ঢেউয়ে ভেসে আসে অরিত্র।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

কক্সবাজার সৈকতে অরিত্র নিখোঁজের একমাস – আশা ছাড়ছে না পরিবার

আপডেট সময় : ০২:০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

বেড়াতে এসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে বন্ধুদের সাথে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী অরিত্র হাসান (২২)।

গত ৮ জুলাই সকালে এই ঘটনায় অরিত্রের সাথে সাগরে তলিয়ে যান তার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বন্ধু ঢাকার মিরপুরের কে এম সাদমান রহমান ও আসিফ মোহাম্মদ। ঘটনার প্রায় তিন ঘন্টার পর সৈকতের বালিয়াড়িতে ভেসে সাদমানের মরদেহ এবং পরদিন ৯ জুলাই আসিফের মরদেহ সৈকতের নাজিরারটেক পয়েন্টে। এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো বগুড়ার বাসিন্দা অরিত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সি-সেফ লাইফ গার্ড এর সমন্বয়ে অরিত্রকে খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়, ড্রোন উড়িয়ে সাগরে তল্লাশি করে বিমানবাহিনী।

অরিত্র নিখোঁজের পরপরই কক্সবাজার চলে আসে তার পরিবার। ছেলে’কে খুঁজে পাওয়ার আশায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ উদ্ধার দলের সাথে টানা দুই সপ্তাহ সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছুটেছেন অরিত্রের বাবা-মা।

ঢাকায় একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেন অরিত্রের বাবা সাকিব হাসান, ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি তিনি।

মুঠোফোনে সাকিব বলেন, ‘ আমি কেনো এখনো আমার ছেলে পেলাম না? সবাই তো চেষ্টা করছে, পিতা হিসেবে আমি খুব হতাশ। ‘

আবেগাপ্লুত এই পিতা আরো বলেন, ‘ অরিত্র হাসান আমার একমাত্র সন্তান, আমি যতদিন বেঁচে
থাকবো তাকে ফিরে পেতে সব চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। যেকোনো অবস্থাতেই হোক না কেনো আমি এক টুকরো অরিত্রকেও হলে ফিরে পেতে চাই। ‘

উদ্ধার তৎপরতা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘ আমরা সবধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছি, কিন্তু একমাসে কোনো ফলাফল আসেনি। তারপরেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে অরিত্রের সন্ধানে করণীয় তৎপরতা বজায় রাখতে।’

অরিত্রের উদ্ধার অভিযানে শুরু থেকে কাজ করেছে সৈকতে সতর্কতা করার পাশাপাশি ডুবে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধারে নিয়োজিত সি-সেফ লাইফগার্ড।

বেসরকারি প্রকল্পটির কর্মী মোহাম্মদ ওসমান জানালেন, ‘ অরিত্রের পরিণতি কি ঘটেছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমরা উদ্ধার অভিযানে গিয়ে জলদস্যুর ফাঁদেও পড়েছি। গভীর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের বলে রেখেছি, কোনো লাশ ভাসতে দেখলে যাতে জানানো হয়।’

অরিত্রর মা জেসমিন আক্তার এখনো অপেক্ষায় আছেন—যদি কোনো এক ঢেউয়ে ভেসে আসে অরিত্র।