ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা বিদ্যা ও জ্ঞানের আরাধনায় মুখর কক্সবাজার—নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে সরস্বতী পূজা। জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব করতে চায়’ যুক্তরাষ্ট্র ‘১৭ বছরকে ম্লান করে দিয়েছে গত ১৭ মাস, মানুষ বুঝে বলে পরিবর্তন চায়’- আনোয়ারী এমনভাবে ফার্স্ট হতে হবে যেন কেউ রেকর্ড ভাঙতে না পারে : সালাহউদ্দিন মাছ লুটের প্রতিবেদন করায় সাংবাদিক হিরুর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন: ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের উদ্বেগ ‘বেহেশত পাব’ এমন ভ্রান্তকথায় কান দিবেন না – প্রথম নির্বাচনি সভায় শাহজাহান চৌধুরী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জেলার একমাত্র বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হেভিওয়েট ৩ প্রার্থী: কক্সবাজারের ৪ টি আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু .. টেকনাফে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক আজ থেকে শুরু নির্বাচনী প্রচারণা নির্বাচনে প্রার্থীদের ৪৮ শতাংশ ব্যবসায়ী, পেশা রাজনীতি ২ শতাংশের কম বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হক বীর প্রতীক মারা গেছেন সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খানের মৃত্যু, প্রধান উপদেষ্টার শোক “গণভোট ও নির্বাচনে বাংলাদেশ বেতার” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সরানো হলো ‘মুক্তিযুদ্ধহীন’ সেই আলপনা

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দেয়ালগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মূলক গ্রাফিতি মুছে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শৈল্পিক আলপনা। পরে বিতর্ক তৈরি হলে মুছে ফেলার পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন।

নতুন আলপনাগুলো দেখতে অনেকটা ‘বিয়েবাড়ি’তে ব্যবহৃত আলপনা সাদৃশ্য হওয়ায় জনসাধারণের নজরে আসার পর সামাজিক মাধ্যম সহ জেলার সাংস্কৃতিক-সামাজিক অঙ্গনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার কিছু আগে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিককর্মী আব্দুর রশিদ মানিক বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্টে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ কক্সবাজার শহীদ মিনারে বিজয় দিবসের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু রংতুলিতে যে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতি নেই ।এটি আসলে দুঃখজনক, আমরা এর আগে দেখেছি এখানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি-বাণী রাখা হয়েছিল।’

যেখানে মন্তব্যের ঘরে রোকসানা আক্তার রক্সি নামে একজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ির কিংবা বৈশাখেরই আলপনা। কারা করেছে?’। এছাড়াও কাব্য সৌরভ নামে একজন মন্তব্য করেন ‘এটা তো আলপনা মিনার হয়ে গেলো।’

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জিনিয়া শারমিন রিয়া বলেন, ‘ এখানে এমন না যে বিয়ে হচ্ছে বা নববর্ষ পালন করা হচ্ছে, যে এভাবে আলপনা আকতে হবে।মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার এখানে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক কিছু থাকার দরকার ছিলো।’

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র মাইনুদ্দিন হাবিব বলেন, ‘ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেশের প্রতিটি প্রজন্মের কাছে গৌরবের,যারা এই সাজ-সজ্জায় জড়িত তাদের উচিত ছিলো এখানে সেই ইতিহাসকে প্রাধান্য দেওয়া কিন্তু তা হয়নি উল্টো পরিবেশটাকে একরকম দৃষ্টিকটু করে ফেলা হয়েছে।’

বিতর্কের পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সরজমিন পরিদর্শনে এসে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান আলাপনাগুলো সরাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘ আলপনাগুলো মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রাতে ৯ টার দিকে দেখা যায়, প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারের দেয়ালগুলো প্রথমে লাল-সাদা কাপড়ে ঢেকে রঙ দিয়ে আলপনা মুছে ফেলার কর্মতৎপরতা চলছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড: প্রধান উপদেষ্টা

This will close in 6 seconds

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সরানো হলো ‘মুক্তিযুদ্ধহীন’ সেই আলপনা

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দেয়ালগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মূলক গ্রাফিতি মুছে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শৈল্পিক আলপনা। পরে বিতর্ক তৈরি হলে মুছে ফেলার পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন।

নতুন আলপনাগুলো দেখতে অনেকটা ‘বিয়েবাড়ি’তে ব্যবহৃত আলপনা সাদৃশ্য হওয়ায় জনসাধারণের নজরে আসার পর সামাজিক মাধ্যম সহ জেলার সাংস্কৃতিক-সামাজিক অঙ্গনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার কিছু আগে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিককর্মী আব্দুর রশিদ মানিক বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্টে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ কক্সবাজার শহীদ মিনারে বিজয় দিবসের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু রংতুলিতে যে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতি নেই ।এটি আসলে দুঃখজনক, আমরা এর আগে দেখেছি এখানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি-বাণী রাখা হয়েছিল।’

যেখানে মন্তব্যের ঘরে রোকসানা আক্তার রক্সি নামে একজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ির কিংবা বৈশাখেরই আলপনা। কারা করেছে?’। এছাড়াও কাব্য সৌরভ নামে একজন মন্তব্য করেন ‘এটা তো আলপনা মিনার হয়ে গেলো।’

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জিনিয়া শারমিন রিয়া বলেন, ‘ এখানে এমন না যে বিয়ে হচ্ছে বা নববর্ষ পালন করা হচ্ছে, যে এভাবে আলপনা আকতে হবে।মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার এখানে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক কিছু থাকার দরকার ছিলো।’

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র মাইনুদ্দিন হাবিব বলেন, ‘ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেশের প্রতিটি প্রজন্মের কাছে গৌরবের,যারা এই সাজ-সজ্জায় জড়িত তাদের উচিত ছিলো এখানে সেই ইতিহাসকে প্রাধান্য দেওয়া কিন্তু তা হয়নি উল্টো পরিবেশটাকে একরকম দৃষ্টিকটু করে ফেলা হয়েছে।’

বিতর্কের পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সরজমিন পরিদর্শনে এসে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান আলাপনাগুলো সরাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘ আলপনাগুলো মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রাতে ৯ টার দিকে দেখা যায়, প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারের দেয়ালগুলো প্রথমে লাল-সাদা কাপড়ে ঢেকে রঙ দিয়ে আলপনা মুছে ফেলার কর্মতৎপরতা চলছে।