ঢাকা ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী কক্সবাজারে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের স্বীকৃতি: জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে ফিচারড SURGE Bangladesh শহরের কুতুবদিয়া পাড়ার আলোচিত রোজিনাকে আটক করেছে পুলিশ বিয়ের অতিথি ১০০ ছাড়ালে জনপ্রতি ১০০০ টাকা ট্যাক্স বসানোর দাবি এমপির বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে আইসিসিতে চিঠি সাবেক বিসিবি সভাপতির টেকনাফে সড়কের দুই পাশে কলেমা লেখা সাদা পতাকা আ’র’কা’ন আ’র্মি প্রধানের বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার খবর কতটুকু সত্য? মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রোজিনা গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমীরের উদ্যোগে মুক্ত হলো হাসপাতাল বিলের জন্য আটকে থাকা রিয়াজের মরদেহ মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সবুজ উদ্যোগ -কক্সবাজারে ১ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ মহেশখালীতে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি অহিদুল গ্রেপ্তার  কক্সবাজার সদর থানায় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আগুন ​”ব্লাড ক্যান্সারে মারা যাওয়া টেকনাফের শিক্ষার্থী রিয়াজের মরদেহ আটকে আছে হাসপাতালে, সাহায্যের আবেদন

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সরানো হলো ‘মুক্তিযুদ্ধহীন’ সেই আলপনা

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দেয়ালগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মূলক গ্রাফিতি মুছে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শৈল্পিক আলপনা। পরে বিতর্ক তৈরি হলে মুছে ফেলার পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন।

নতুন আলপনাগুলো দেখতে অনেকটা ‘বিয়েবাড়ি’তে ব্যবহৃত আলপনা সাদৃশ্য হওয়ায় জনসাধারণের নজরে আসার পর সামাজিক মাধ্যম সহ জেলার সাংস্কৃতিক-সামাজিক অঙ্গনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার কিছু আগে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিককর্মী আব্দুর রশিদ মানিক বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্টে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ কক্সবাজার শহীদ মিনারে বিজয় দিবসের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু রংতুলিতে যে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতি নেই ।এটি আসলে দুঃখজনক, আমরা এর আগে দেখেছি এখানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি-বাণী রাখা হয়েছিল।’

যেখানে মন্তব্যের ঘরে রোকসানা আক্তার রক্সি নামে একজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ির কিংবা বৈশাখেরই আলপনা। কারা করেছে?’। এছাড়াও কাব্য সৌরভ নামে একজন মন্তব্য করেন ‘এটা তো আলপনা মিনার হয়ে গেলো।’

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জিনিয়া শারমিন রিয়া বলেন, ‘ এখানে এমন না যে বিয়ে হচ্ছে বা নববর্ষ পালন করা হচ্ছে, যে এভাবে আলপনা আকতে হবে।মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার এখানে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক কিছু থাকার দরকার ছিলো।’

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র মাইনুদ্দিন হাবিব বলেন, ‘ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেশের প্রতিটি প্রজন্মের কাছে গৌরবের,যারা এই সাজ-সজ্জায় জড়িত তাদের উচিত ছিলো এখানে সেই ইতিহাসকে প্রাধান্য দেওয়া কিন্তু তা হয়নি উল্টো পরিবেশটাকে একরকম দৃষ্টিকটু করে ফেলা হয়েছে।’

বিতর্কের পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সরজমিন পরিদর্শনে এসে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান আলাপনাগুলো সরাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘ আলপনাগুলো মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রাতে ৯ টার দিকে দেখা যায়, প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারের দেয়ালগুলো প্রথমে লাল-সাদা কাপড়ে ঢেকে রঙ দিয়ে আলপনা মুছে ফেলার কর্মতৎপরতা চলছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সরানো হলো ‘মুক্তিযুদ্ধহীন’ সেই আলপনা

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দেয়ালগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ মূলক গ্রাফিতি মুছে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শৈল্পিক আলপনা। পরে বিতর্ক তৈরি হলে মুছে ফেলার পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন।

নতুন আলপনাগুলো দেখতে অনেকটা ‘বিয়েবাড়ি’তে ব্যবহৃত আলপনা সাদৃশ্য হওয়ায় জনসাধারণের নজরে আসার পর সামাজিক মাধ্যম সহ জেলার সাংস্কৃতিক-সামাজিক অঙ্গনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার কিছু আগে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিককর্মী আব্দুর রশিদ মানিক বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্টে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ কক্সবাজার শহীদ মিনারে বিজয় দিবসের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু রংতুলিতে যে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতি নেই ।এটি আসলে দুঃখজনক, আমরা এর আগে দেখেছি এখানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি-বাণী রাখা হয়েছিল।’

যেখানে মন্তব্যের ঘরে রোকসানা আক্তার রক্সি নামে একজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ির কিংবা বৈশাখেরই আলপনা। কারা করেছে?’। এছাড়াও কাব্য সৌরভ নামে একজন মন্তব্য করেন ‘এটা তো আলপনা মিনার হয়ে গেলো।’

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জিনিয়া শারমিন রিয়া বলেন, ‘ এখানে এমন না যে বিয়ে হচ্ছে বা নববর্ষ পালন করা হচ্ছে, যে এভাবে আলপনা আকতে হবে।মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার এখানে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক কিছু থাকার দরকার ছিলো।’

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র মাইনুদ্দিন হাবিব বলেন, ‘ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেশের প্রতিটি প্রজন্মের কাছে গৌরবের,যারা এই সাজ-সজ্জায় জড়িত তাদের উচিত ছিলো এখানে সেই ইতিহাসকে প্রাধান্য দেওয়া কিন্তু তা হয়নি উল্টো পরিবেশটাকে একরকম দৃষ্টিকটু করে ফেলা হয়েছে।’

বিতর্কের পর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সরজমিন পরিদর্শনে এসে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান আলাপনাগুলো সরাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘ আলপনাগুলো মুছে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

রাতে ৯ টার দিকে দেখা যায়, প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারের দেয়ালগুলো প্রথমে লাল-সাদা কাপড়ে ঢেকে রঙ দিয়ে আলপনা মুছে ফেলার কর্মতৎপরতা চলছে।