ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প ধ্বংসের পায়তারা চলছে – এমপি কাজল : উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি তাঁর ইনানীর আগুন নিয়ে বাপেক্স প্রতিনিধি দলের সতর্কবার্তা—জোর করে নেভালে ঘটতে পারে বড় বিপর্যয় লোহাগাড়ার ইউএনওর সঙ্গে বিএনপি নেতা জাহেদ চৌধুরীর বাকবিতণ্ডা পেকুয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামাল হোসেনের জানাজা দুপুর ২ টায় ঘূর্ণিঝড় “অর্ণব” বুধবার আঘাত হানতে পারে : কক্সবাজারে ৩ নং সংকেত ১০ মরদেহ হস্তান্তরের দিন উদ্ধার নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ : নিহত বেড়ে ১১ ১০ দিন পর মিলল মুক্তার দেহাবশেষ, গলার লকেটেই স্ত্রীকে চিনলেন স্বামী কক্সবাজারে এসে পৌঁছাল মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম ট্রেন, পর্যটন মৌসুমে বাড়তি সুবিধার আশা পর্যটনের পাশাপাশি সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যাবে কক্সবাজার: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পেকুয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামাল হোসেনের ইন্তেকাল জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’, সারাদেশে বৃষ্টির আভাস টেকনাফের বাহারছড়ার রিদুয়ান বাহিনীর সদস্য আব্দুর রহিম আটক মাটি থেকে বের হচ্ছে আগুন, গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ইনানী চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ মিথ্যা দাবি খোকন চেয়ারম্যানের : চাইলেন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত

লোহাগাড়ার ইউএনওর সঙ্গে বিএনপি নেতা জাহেদ চৌধুরীর বাকবিতণ্ডা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়েছেন এক বিএনপি নেতা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং একপর্যায়ে ভূমি অফিসে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা বিএনপি নেতা এ টি এম জাহেদ চৌধুরী।এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলছিল।ওই সময় বিএনপি নেতা এ টি এম জাহেদ চৌধুরী ভূমি অফিসের দুর্নীতির ব্যাপারে ইউএনও মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দের কাছে অভিযোগ করেন।পাশে উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) মং এছেন ছিলেন।

এ বিষয়ে এ টি এম জাহেদ চৌধুরী জানান, তাঁদের একটি পারিবারিক জায়গার বিরোধ নিয়ে আগের নারী এসিল্যান্ডের সময়ে কোনো নোটিশ ছাড়াই গোপনে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।নোটিশ গোপনকারীকে বদলির পর নতুন দায়িত্ব পাওয়া সার্ভেয়ারও একই কাজ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এই অনিয়মের প্রতিবাদে তাঁরা সাতকানিয়া কোর্টে একটি মামলা করেন, যার সমন ইতিমধ্যে এসিল্যান্ড অফিসে এসেছে।কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আসার আগেই শুনানি ছাড়া তিন-চার মাস আগে তাঁর খতিয়ান বাতিল করে দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।এই বিষয়টি জানতে মঙ্গলবার এসিল্যান্ডের কাছে গেলে সেখানে উপস্থিত তহসিলদারের সঙ্গে তাঁর তর্ক বেধে যায়।এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি চললে এলাকার লোকজন এসে অফিসে তালা মেরে দেবে বলে তিনি তহসিলদারকে সতর্ক করেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকায় এ ধরনের অনিয়ম চললে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে উল্লেখ করে এলাকার মানুষের স্বার্থে তিনি এই প্রতিবাদ করেছেন বলে জানান।

এদিকে, বিএনপি নেতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলাকালে একজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে কিছু কথা বলতে চান। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কথা শোনার আশ্বাস দেন ইউএনও। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যক্তি তখন জানান, তিনি আগুন লাগাতে নয়, তালা মারতে এসেছেন।

ইউএনও জানান, অনুষ্ঠান শেষে সমস্যার কথা বলতে বললে ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এসিল্যান্ড দুর্নীতি করেছেন। জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতির প্রমাণ থাকলে প্রচলিত আইনে শাস্তির ব্যবস্থা আছে এবং এ বিষয়ে তিনি সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু ওই ব্যক্তি আবারও তালা মারার কথা বললে ইউএনও তাঁকে সরকারি অফিসে তালা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।

ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি চিৎকার করে কথা বলছিলেন, তাই বাধ্য হয়ে তাঁকেও উচ্চস্বরে কথা বলতে হয়। তিনি আবারও আইনি পথে এগোনোর পরামর্শ দিলে ওই ব্যক্তি তা মানতে রাজি হননি এবং তালা দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর যে যার মতো চলে যান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প ধ্বংসের পায়তারা চলছে – এমপি কাজল : উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি তাঁর

লোহাগাড়ার ইউএনওর সঙ্গে বিএনপি নেতা জাহেদ চৌধুরীর বাকবিতণ্ডা

আপডেট সময় : ১০:০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভূমি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়েছেন এক বিএনপি নেতা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং একপর্যায়ে ভূমি অফিসে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা বিএনপি নেতা এ টি এম জাহেদ চৌধুরী।এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলছিল।ওই সময় বিএনপি নেতা এ টি এম জাহেদ চৌধুরী ভূমি অফিসের দুর্নীতির ব্যাপারে ইউএনও মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দের কাছে অভিযোগ করেন।পাশে উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) মং এছেন ছিলেন।

এ বিষয়ে এ টি এম জাহেদ চৌধুরী জানান, তাঁদের একটি পারিবারিক জায়গার বিরোধ নিয়ে আগের নারী এসিল্যান্ডের সময়ে কোনো নোটিশ ছাড়াই গোপনে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।নোটিশ গোপনকারীকে বদলির পর নতুন দায়িত্ব পাওয়া সার্ভেয়ারও একই কাজ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এই অনিয়মের প্রতিবাদে তাঁরা সাতকানিয়া কোর্টে একটি মামলা করেন, যার সমন ইতিমধ্যে এসিল্যান্ড অফিসে এসেছে।কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আসার আগেই শুনানি ছাড়া তিন-চার মাস আগে তাঁর খতিয়ান বাতিল করে দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।এই বিষয়টি জানতে মঙ্গলবার এসিল্যান্ডের কাছে গেলে সেখানে উপস্থিত তহসিলদারের সঙ্গে তাঁর তর্ক বেধে যায়।এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি চললে এলাকার লোকজন এসে অফিসে তালা মেরে দেবে বলে তিনি তহসিলদারকে সতর্ক করেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকায় এ ধরনের অনিয়ম চললে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে উল্লেখ করে এলাকার মানুষের স্বার্থে তিনি এই প্রতিবাদ করেছেন বলে জানান।

এদিকে, বিএনপি নেতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলাকালে একজন ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে কিছু কথা বলতে চান। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর কথা শোনার আশ্বাস দেন ইউএনও। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যক্তি তখন জানান, তিনি আগুন লাগাতে নয়, তালা মারতে এসেছেন।

ইউএনও জানান, অনুষ্ঠান শেষে সমস্যার কথা বলতে বললে ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এসিল্যান্ড দুর্নীতি করেছেন। জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতির প্রমাণ থাকলে প্রচলিত আইনে শাস্তির ব্যবস্থা আছে এবং এ বিষয়ে তিনি সহায়তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু ওই ব্যক্তি আবারও তালা মারার কথা বললে ইউএনও তাঁকে সরকারি অফিসে তালা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।

ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি চিৎকার করে কথা বলছিলেন, তাই বাধ্য হয়ে তাঁকেও উচ্চস্বরে কথা বলতে হয়। তিনি আবারও আইনি পথে এগোনোর পরামর্শ দিলে ওই ব্যক্তি তা মানতে রাজি হননি এবং তালা দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর যে যার মতো চলে যান।