মহেশখালীর মাতারবাড়িতে বনবিভাগের সরকারি চরের জায়গা দখল করছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
জানাযায় মাতারবাড়ি মৌজার বারো ঘোনা সংলগ্ন এলাকার পশ্চিমে উজানটিয়া খালের দক্ষিণ অংশের প্রায় ৩৫ একর জমি দখল করেছে তারা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মাতারবাড়ি ওয়াপদা পাড়া এলাকার মো. হাদিস, মিয়াজির পাড়ার মো. ইয়াছিন ও মুমিনুল হক এই দখলে সশরীরে নেতৃত্বে দিচ্ছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, চরের ওই অংশে খালের পানিপ্রবাহকে বাঁধাগ্রস্ত করে চরের এই জায়গা দখল করে বাঁধ দিয়ে লবণ মাঠে রূপান্তর করার জন্য স্থাপনা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্যারা ও চরের এই জায়গা দখল করে লবণ মাঠে রূপান্তর করা হচ্ছে। যারা দখল করছে তারা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাথে জড়িত।
এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইয়াছিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন এটি তার নানার লিজ নেওয়া জায়গা। লিজের কাগজপত্রাদি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, এইরকম কোনো ডকুমেন্টস নেই। তাহলে সরকারের জায়গায় কিভাবে তিনি দখল করেছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তিনি একা নন সেখানে দলীয় অনেকে যুক্ত রয়েছে। দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের কথায় তারা স্থাপনা করেছেন বলে জানান তিনি।’
জানতে চাইলে অপরজন মুমিনুল হক বলেন, ‘জায়গাটি পরিত্যক্ত কোনো মাছের প্রজেক্ট হয় না, তাই বিএনপির দলীয় বেকার লোকজন যদি এটা চাষবাস করে লবণের মাঠ করে চলতে পারে তাহলে সমস্যা কোথায়।
মাতারবাড়ি বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বলেছেন, সরকারও বলেছে এইরকম জায়গা থাকলে চাষবাস করে খাও, তাই আমরা এটা লবণ মাঠ করতেছি। আমাদের সাথে আরো অনেক দলীয় লোকজন রয়েছে।’ দাবি করেন তিনি।
দলীয় লোকজনের কথায় এভাবে সরকারি জায়গা দখল করা যায় কিনা বা সরকারি দপ্তরের কোনো অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে মুমিনুল হক বলেন, ‘সরকারি দপ্তরের কোনো অনুমতি নেই, বর্তমান মাতারবাড়ি বিএনপির লিগ্যাল কমিটির সবাই এটা লবণ মাঠ করতে বলেছে।’
এই বিষয়ে জানতে অপর অভিযুক্ত মো. হাদিসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে বলেন, ‘আমার একার পক্ষে এটা সম্ভব না ভাই, আমাদের মাতারবাড়ির দলীয় লোকজনের সাথে আমিও শেয়ার দিয়ে এটা করছি।’
পরে মোহাম্মদ শাহেদ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে মাতারবাড়ি স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক দাবি করে প্রতিবেদক-কে মুঠোফোন কল করে বলেন, ‘এটা সরকারি জায়গা। এটা চাষবাস করার জন্য আমাদের দলীয় পোলাপাইনদের বলেছে নেতাকর্মীরা।’
কোন নেতা বলেছে এবং সরকারের কোনো অনুমতি রয়েছে কিনা জানতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের কোনো অনুমতি নেই দলীয় সিনিয়র নেতাদের কথায় এটা করেছেন বলে দাবি তার।
জানতে চাইলে মহেশখালী উপকূলীয় (গোরকঘাটা রেঞ্জ) রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রনি আলী জানান, এই বিষয়ে তিনি প্রথম জেনেছেন। তবে কেউ সরকারি জায়গা দখল করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























