ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে চেইন্দায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি যাত্রী নিহত বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ২৫ জন, ১৭ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক লোহাগাড়ায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি, তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গায়েব উখিয়ায় কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজারে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি চকরিয়ায় ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ৩ জন আটক শহরে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে পর্যটকের মৃত্যু ৭০ বছর পর আসাম থেকে নৌপথে পণ্য এলো বাংলাদেশে আ.লীগ সমঝোতা চাইলে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা শিশুদের মানুষের মতো মানুষ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি মানবিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে মহেশখালীর কলেজ ছাত্রের মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টি

১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি, তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গায়েব

০৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব দ্য চিফ কন্ট্রোলার অব ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস (সিসিআই) অপরিশোধিত ক্রুড বা অপরিশীলিত লবণ আমদানির অনুমতি সংক্রান্ত একটি সরকারি পত্র জারি করে। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ২৫১টি নিবন্ধিত লবণ মিলের জন্য মোট ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির সুপারিশ করেছে।

সরকারি পত্রে ২৬.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৯৯.০০২৩.২৬.২৪৭ প্রদত্ত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বরাদ্দের হিসাব করলে বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়। পত্রের মূল বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম তালিকায় ৬টি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যেককে ২,৫০০ মেট্রিক টন করে মোট ১৫,০০০ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় তালিকায় ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যেককে ৫৪৩ মেট্রিক টন করে মোট ১,২৯,২৩৪ মেট্রিক টন লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ দুই তালিকার মোট বরাদ্দ দাঁড়ায়—

১৫,০০০ + ১,২৯,২৩৪ = ১,৪৪,২৩৪ মেট্রিক টন।

কিন্তু একই সরকারি পত্রে মোট সুপারিশকৃত পরিমাণ বলা হয়েছে ১,৫০,০০০ মেট্রিক টন।

ফলে সরল গাণিতিক হিসাবে দেখা যায়—

১,৫০,০০০ − ১,৪৪,২৩৪ = ৫,৭৬৬ মেট্রিক টন।

অর্থাৎ, সরকারি পত্রে উল্লেখিত মোট ১.৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির পরিমাণের বিপরীতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাদ্দের হিসাবে ৫,৭৬৬ মেট্রিক টন লবণের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

এখানেই তৈরি হচ্ছে মূল প্রশ্ন—১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গেল কোথায়?

বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সরকারি পত্রের প্রতিষ্ঠানসংখ্যা পর্যালোচনা করলে। পত্রের মূল অংশে বিসিক-এর সুপারিশের ভিত্তিতে ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হলেও একই অংশে প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যথাক্রমে ৬ ও ২৩৮টি, অর্থাৎ মোট ২৪৪টি। ফলে ২৫১টি সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যায়ও ৭টি প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য রয়েছে।

শুধু তাই নয়, সরকারি পত্রের দ্বিতীয় তালিকার শিরোনামে প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ২৩৭টি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পত্রের মূল বিবরণে একই তালিকার জন্য ২৩৮টি প্রতিষ্ঠান বলা হয়েছে।

যদি দ্বিতীয় তালিকায় ২৩৭টি প্রতিষ্ঠান ধরা হয়, তাহলে ২৩৭ × ৫৪৩ = ১,২৮,৬৯১ মেট্রিক টন। এর সঙ্গে প্রথম তালিকার ১৫,০০০ মেট্রিক টন যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ১,৪৩,৬৯১ মেট্রিক টন। সে ক্ষেত্রে ১.৫ লাখ টনের সঙ্গে পার্থক্য আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৬,৩০৯ মেট্রিক টন।

অতএব, সরকারি পত্রে মোট আমদানির পরিমাণ, প্রতিষ্ঠান সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বরাদ্দ—এই তিনটি হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এখানে কোনো অনিয়মের অভিযোগ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না। বরং সরকারি নথিতে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি সরল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসাবগত প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আমদানির অনুমতির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকায় কেন পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন? অবশিষ্ট ৫,৭৬৬ মেট্রিক টন কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন বরাদ্দের আওতায় রয়েছে?

বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠান তালিকা, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বরাদ্দ এবং ১.৫ লাখ মেট্রিক টনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ বা স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন।

কারণ, সরকারি একটি অনুমোদনপত্রে যখন মোট ১,৫০,০০০ মেট্রিক টন আমদানির কথা বলা হয়, তখন সেই পরিমাণের প্রতিটি মেট্রিক টনের হিসাবও স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য থাকা প্রত্যাশিত।

প্রশ্নটি তাই খুবই সরল—১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো; কিন্তু হিসাবের খাতায় ৫,৭৬৬ টন লবণ নেই কেন?

ট্যাগ :

১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি, তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গায়েব

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

০৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব দ্য চিফ কন্ট্রোলার অব ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস (সিসিআই) অপরিশোধিত ক্রুড বা অপরিশীলিত লবণ আমদানির অনুমতি সংক্রান্ত একটি সরকারি পত্র জারি করে। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ২৫১টি নিবন্ধিত লবণ মিলের জন্য মোট ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির সুপারিশ করেছে।

সরকারি পত্রে ২৬.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৯৯.০০২৩.২৬.২৪৭ প্রদত্ত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বরাদ্দের হিসাব করলে বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়। পত্রের মূল বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম তালিকায় ৬টি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যেককে ২,৫০০ মেট্রিক টন করে মোট ১৫,০০০ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় তালিকায় ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যেককে ৫৪৩ মেট্রিক টন করে মোট ১,২৯,২৩৪ মেট্রিক টন লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ দুই তালিকার মোট বরাদ্দ দাঁড়ায়—

১৫,০০০ + ১,২৯,২৩৪ = ১,৪৪,২৩৪ মেট্রিক টন।

কিন্তু একই সরকারি পত্রে মোট সুপারিশকৃত পরিমাণ বলা হয়েছে ১,৫০,০০০ মেট্রিক টন।

ফলে সরল গাণিতিক হিসাবে দেখা যায়—

১,৫০,০০০ − ১,৪৪,২৩৪ = ৫,৭৬৬ মেট্রিক টন।

অর্থাৎ, সরকারি পত্রে উল্লেখিত মোট ১.৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির পরিমাণের বিপরীতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাদ্দের হিসাবে ৫,৭৬৬ মেট্রিক টন লবণের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

এখানেই তৈরি হচ্ছে মূল প্রশ্ন—১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গেল কোথায়?

বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সরকারি পত্রের প্রতিষ্ঠানসংখ্যা পর্যালোচনা করলে। পত্রের মূল অংশে বিসিক-এর সুপারিশের ভিত্তিতে ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হলেও একই অংশে প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যথাক্রমে ৬ ও ২৩৮টি, অর্থাৎ মোট ২৪৪টি। ফলে ২৫১টি সুপারিশকৃত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যায়ও ৭টি প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য রয়েছে।

শুধু তাই নয়, সরকারি পত্রের দ্বিতীয় তালিকার শিরোনামে প্রতিষ্ঠান সংখ্যা ২৩৭টি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পত্রের মূল বিবরণে একই তালিকার জন্য ২৩৮টি প্রতিষ্ঠান বলা হয়েছে।

যদি দ্বিতীয় তালিকায় ২৩৭টি প্রতিষ্ঠান ধরা হয়, তাহলে ২৩৭ × ৫৪৩ = ১,২৮,৬৯১ মেট্রিক টন। এর সঙ্গে প্রথম তালিকার ১৫,০০০ মেট্রিক টন যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ১,৪৩,৬৯১ মেট্রিক টন। সে ক্ষেত্রে ১.৫ লাখ টনের সঙ্গে পার্থক্য আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৬,৩০৯ মেট্রিক টন।

অতএব, সরকারি পত্রে মোট আমদানির পরিমাণ, প্রতিষ্ঠান সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বরাদ্দ—এই তিনটি হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এখানে কোনো অনিয়মের অভিযোগ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না। বরং সরকারি নথিতে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি সরল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসাবগত প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আমদানির অনুমতির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকায় কেন পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন? অবশিষ্ট ৫,৭৬৬ মেট্রিক টন কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন বরাদ্দের আওতায় রয়েছে?

বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠান তালিকা, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বরাদ্দ এবং ১.৫ লাখ মেট্রিক টনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ বা স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন।

কারণ, সরকারি একটি অনুমোদনপত্রে যখন মোট ১,৫০,০০০ মেট্রিক টন আমদানির কথা বলা হয়, তখন সেই পরিমাণের প্রতিটি মেট্রিক টনের হিসাবও স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য থাকা প্রত্যাশিত।

প্রশ্নটি তাই খুবই সরল—১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো; কিন্তু হিসাবের খাতায় ৫,৭৬৬ টন লবণ নেই কেন?