ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য টেকনাফের ক্রীড়াঙ্গনে শৃংখলা ফেরাতে ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত : যে কোনো ক্রীড়া আয়োজনে নিতে হবে অনুমতি পা হারানো রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হবে ভাতা-ট্রাইসাইকেল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান : হত্যা ও চুরির আসামিসহ গ্রেপ্তার ১১ উখিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, গাড়ি ও চালক আটক হোয়াইক্যংয়ে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবুল মিয়া গ্রেফতার টেকনাফের সীমান্ত এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার গোলরক্ষক সাঈদীর উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে পেকুয়ায় মানববন্ধন কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে পালংখালীতে মাদক কারবারী রুবেলের গুলিবর্ষণ টেকনাফে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পাচারকারিদের ২০ আস্তানা সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলো আপিল বিভাগ তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিং, সংকট আরও বাড়ার শঙ্কা বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর

চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য

  • মাহবুব রোকন
  • আপডেট সময় : ০৩:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 93

কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশ্চিম আকাশে দেখা গেছে মনকাড়া এক মহাজাগতিক দৃশ্য। সরু এক ফালি চাঁদের পাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল একটি আলোকবিন্দু জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। আকাশে চাঁদের পাশে দেখা ওই উজ্জ্বল বস্তুটি কোনো নক্ষত্র নয়, এটি সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শুক্র। ১৪ (সোমবার) সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ও শুক্রের এই কাছাকাছি অবস্থানকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘চাঁদ-শুক্র সংযোগ’ বা ‘মুন-ভেনাস কনজাংশন’, জানিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট ইন দ্য স্কাই।

ইন দ্য স্কাইয়ের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শুক্র একই ‘রাইট অ্যাসেনশন’ বা আকাশের একই দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করে। এ সময় পৃথিবী থেকে দেখার দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী তাদের কৌণিক দূরত্ব ছিল প্রায় ৩১ আর্কমিনিট। একই দিনে দুই জ্যোতিষ্কের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানের সময় তাদের কৌণিক ব্যবধান আরও কমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮ আর্কমিনিটে নেমে আসে। এই আপাত নৈকট্যের কারণেই পৃথিবী থেকে তাকালে সরু চাঁদের পাশে শুক্রকে অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোকবিন্দু হিসেবে দেখা যায়, জানিয়েছে ইন দ্য স্কাই।

ফিলিপাইনের সরকারি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও আবহাওয়া সংস্থা ‘পাগাসা’ বা ফিলিপাইন অ্যাটমসফেরিক, জিওফিজিক্যাল অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডায়েরিতেও ১৪ সেপ্টেম্বরের এই মহাজাগতিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। পাগাসা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে চাঁদ ও শুক্রের সংযোগ ঘটে এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে তারা সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছায়। সংস্থাটির হিসাবে, তখন দুই জ্যোতিষ্কই ‘কন্যা’ বা ভার্গো নক্ষত্রমণ্ডলের পটভূমিতে অবস্থান করছিল।

এদিন চাঁদ ছিল অমাবস্যার পর মাত্র কয়েক দিনের পুরোনো সরু বাড়ন্ত চাঁদ। পাগাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের আলোকিত অংশ ছিল অল্প, ফলে কালো আকাশের মধ্যে সরু বাঁকা চাঁদটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তার পাশেই শুক্রের তীব্র উজ্জ্বলতা দৃশ্যটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন ক্যালেন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় চাঁদের উজ্জ্বলতা ছিল প্রায় মাইনাস ১০ দশমিক ৩ ম্যাগনিটিউড এবং শুক্রের উজ্জ্বলতা ছিল প্রায় মাইনাস ৪ দশমিক ৫ ম্যাগনিটিউড। ম্যাগনিটিউডের ক্ষেত্রে সংখ্যা যত ঋণাত্মক হয়, জ্যোতিষ্ক তত উজ্জ্বল বলে বিবেচিত হয়।

শুক্রের এই উজ্জ্বলতার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ এটিকে নক্ষত্র বলে মনে করেন। কিন্তু শুক্র কোনো নক্ষত্র নয়, এটি সূর্যের চারদিকে ঘুরতে থাকা একটি গ্রহ। সূর্যের আলো শুক্রের ঘন মেঘমণ্ডল থেকে ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়। পৃথিবী ও শুক্রের পারস্পরিক অবস্থানের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহটি সন্ধ্যা কিংবা ভোরের আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ কারণে শুক্রকে দীর্ঘদিন ধরে ‘সন্ধ্যাতারা’ বা ‘ভোরের তারা’ নামে ডাকা হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি একটি গ্রহ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট স্পেস ডটকমও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরু চাঁদের পাশে শুক্রের উজ্জ্বল উপস্থিতিকে উল্লেখযোগ্য আকাশদৃশ্য হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে নিচু অবস্থানে চাঁদ ও শুক্রকে দেখা যায়। দিগন্ত পরিষ্কার থাকলে এবং আকাশে মেঘ কম থাকলে দৃশ্যটি খালি চোখেই উপভোগ করা সম্ভব।

চাঁদ ও শুক্রকে পাশাপাশি দেখা গেলেও মহাকাশে তারা বাস্তবে একে অপরের খুব কাছে চলে আসেনি। এটি পৃথিবী থেকে দেখা একটি আপাত নৈকট্য। চাঁদ পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, আর শুক্র সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর অবস্থান, চাঁদ ও শুক্রের কক্ষপথ এবং পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিরেখা নির্দিষ্টভাবে একত্রিত হওয়ার ফলে আকাশে তাদের কাছাকাছি দেখা যায়। অর্থাৎ আকাশে কয়েক দশমিক আর্কমিনিট দূরে দেখা গেলেও বাস্তবে তাদের মধ্যকার দূরত্ব বিপুল।

গতকাল- ১৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ‘লুনার অকাল্টেশন’ বা চন্দ্রআবরণ। ইন দ্য স্কাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের কিছু অঞ্চল থেকে এদিন চাঁদের আড়ালে শুক্রগ্রহকে সাময়িকভাবে চলে যেতে দেখা সম্ভব ছিল। এ ধরনের ঘটনায় পৃথিবী থেকে দেখলে চাঁদ ধীরে ধীরে শুক্রের সামনে চলে আসে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুক্রকে আড়াল করে। তবে পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে এই ঘটনা দেখা যায় না। পর্যবেক্ষকের অবস্থান অনুযায়ী কোথাও শুক্র চাঁদের আড়ালে চলে যায়, আবার কোথাও দুটিকে পাশাপাশি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হিসেবে দেখা যায়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সোমবার সন্ধ্যার দৃশ্যটি ছিল মূলত সরু চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শুক্রের উপস্থিতি। আকাশ পরিষ্কার থাকায় কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে খালি চোখেই এই দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিম দিগন্তে বাধা কম থাকা জায়গা থেকে দৃশ্যটি তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সেপ্টেম্বর মাসের আকাশ পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকাতেও শুক্রের এই সময়কার উজ্জ্বল উপস্থিতিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শুক্র সন্ধ্যার আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে গ্রহটিকে দেখা যাবে। নাসার হিসাবে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্র তার এই সন্ধ্যাকালীন আবির্ভাবের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার কাছাকাছি পৌঁছাবে।

তবে শুক্রের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার তারিখ নিয়ে বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডারে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। নাসার সেপ্টেম্বরের পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকায় ১৮ সেপ্টেম্বরকে শুক্রের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাগাসার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডায়েরিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ‘গ্রেটেস্ট ব্রাইটনেস’ বা সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার তারিখ উল্লেখ রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাবের পদ্ধতি ও কোন ধরনের দৃশ্যমান উজ্জ্বলতাকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, তার পার্থক্যের কারণে এমন তারিখভেদ দেখা যেতে পারে। ফলে ১৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টি শুক্র পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় সময় হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে শুক্র ধীরে ধীরে সূর্যের দিকে নিচু অবস্থানে চলে যাবে। ফলে মাসের শেষ দিকে সন্ধ্যার আকাশে গ্রহটিকে দেখা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠবে। তাই সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়টি শুক্র পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে চাঁদকে ঘিরে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা রয়েছে। পাগাসার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডায়েরি অনুযায়ী, মাসের বিভিন্ন সময়ে চাঁদের সঙ্গে মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনির কাছাকাছি অবস্থান বা সংযোগ ঘটছে। ২৭ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শনির কাছাকাছি অবস্থানও আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় দৃশ্য তৈরি করবে।

নাসার সেপ্টেম্বরের আকাশ পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকায় ১৯ সেপ্টেম্বর ‘ইন্টারন্যাশনাল অবজার্ভ দ্য মুন নাইট’ বা আন্তর্জাতিক চন্দ্র পর্যবেক্ষণ রাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে চাঁদ পর্যবেক্ষণ এবং চন্দ্রবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি চাঁদ নিয়ে চলমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অনুসন্ধানের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় দৃশ্য। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমার কাছাকাছি সময়ে ‘হারভেস্ট মুন’ বা ফসলের চাঁদ আকাশে দেখা যাবে। একই সময় চাঁদের কাছাকাছি শনিও অবস্থান করবে। দূরবীন ব্যবহারকারীরা আরও দূরের গ্রহ নেপচুনকেও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেতে পারেন, যদিও নেপচুন খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।

চাঁদ ও শুক্রের মতো উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের সংযোগ সাধারণ মানুষের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের সহজ সুযোগ তৈরি করে। কারণ এমন দৃশ্য দেখতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা বিশেষ মানমন্দিরের প্রয়োজন হয় না। পরিষ্কার আকাশ এবং দিগন্তের বাধাহীন দৃশ্য থাকলেই সূর্যাস্তের পর শুক্রকে সহজে শনাক্ত করা যায়। তবে শুক্র যেহেতু সন্ধ্যার সময় পশ্চিম দিগন্তের কাছে নিচু অবস্থানে থাকে, তাই ভবন, পাহাড়, গাছপালা বা মেঘ দৃশ্যমানতায় বাধা তৈরি করতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অবশ্য সূর্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ দেন। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে সাধারণ দূরবীন বা টেলিস্কোপ দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই চাঁদ ও শুক্রের মতো সন্ধ্যাকালীন দৃশ্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়ার পর আকাশের দিকে তাকানো নিরাপদ।

স্থানীয় বাসিন্দারা সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ যে সরু চাঁদের পাশে উজ্জ্বল আলোকবিন্দু দেখেছেন, সেটি তাই কোনো অজানা নক্ষত্র বা রহস্যময় বস্তু নয়। সেটি ছিল শুক্রগ্রহ। ইন দ্য স্কাই, পাগাসা এবং নাসার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে সোমবারের আকাশের এই দৃশ্যের সময় ও অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ। পৃথিবী থেকে দেখা দৃষ্টিকোণ, চাঁদের সরু আলোকিত অংশ এবং শুক্রের তীব্র উজ্জ্বলতার সমন্বয়ে সন্ধ্যার আকাশে তৈরি হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন এই মহাজাগতিক দৃশ্য।

কক্সবাজারের আকাশে দেখা এই দৃশ্যের মাধ্যমে আবারও মানুষের চোখের সামনে ধরা পড়ল সৌরজগতের এক অনন্য সৌন্দর্য। একদিকে ছিল অমাবস্যার পর নতুন চাঁদের সরু বাঁকা রেখা, অন্যদিকে তার পাশেই জ্বলজ্বল করছিল সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা শুক্রগ্রহ। আকাশে পাশাপাশি দেখা গেলেও বাস্তবে বিপুল দূরত্বে থাকা এই দুই জ্যোতিষ্ক সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের আকাশে তৈরি করেছিল কয়েক মিনিটের নয়, বরং বহু মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাওয়ার মতো এক মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য

চাঁদের পাশে জ্বলজ্বলে শুক্র, কক্সবাজারের আকাশে মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য

আপডেট সময় : ০৩:৪০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশ্চিম আকাশে দেখা গেছে মনকাড়া এক মহাজাগতিক দৃশ্য। সরু এক ফালি চাঁদের পাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল একটি আলোকবিন্দু জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। আকাশে চাঁদের পাশে দেখা ওই উজ্জ্বল বস্তুটি কোনো নক্ষত্র নয়, এটি সৌরজগতের অন্যতম উজ্জ্বল গ্রহ শুক্র। ১৪ (সোমবার) সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ও শুক্রের এই কাছাকাছি অবস্থানকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘চাঁদ-শুক্র সংযোগ’ বা ‘মুন-ভেনাস কনজাংশন’, জানিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট ইন দ্য স্কাই।

ইন দ্য স্কাইয়ের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শুক্র একই ‘রাইট অ্যাসেনশন’ বা আকাশের একই দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করে। এ সময় পৃথিবী থেকে দেখার দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী তাদের কৌণিক দূরত্ব ছিল প্রায় ৩১ আর্কমিনিট। একই দিনে দুই জ্যোতিষ্কের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানের সময় তাদের কৌণিক ব্যবধান আরও কমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮ আর্কমিনিটে নেমে আসে। এই আপাত নৈকট্যের কারণেই পৃথিবী থেকে তাকালে সরু চাঁদের পাশে শুক্রকে অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোকবিন্দু হিসেবে দেখা যায়, জানিয়েছে ইন দ্য স্কাই।

ফিলিপাইনের সরকারি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও আবহাওয়া সংস্থা ‘পাগাসা’ বা ফিলিপাইন অ্যাটমসফেরিক, জিওফিজিক্যাল অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডায়েরিতেও ১৪ সেপ্টেম্বরের এই মহাজাগতিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। পাগাসা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে চাঁদ ও শুক্রের সংযোগ ঘটে এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে তারা সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছায়। সংস্থাটির হিসাবে, তখন দুই জ্যোতিষ্কই ‘কন্যা’ বা ভার্গো নক্ষত্রমণ্ডলের পটভূমিতে অবস্থান করছিল।

এদিন চাঁদ ছিল অমাবস্যার পর মাত্র কয়েক দিনের পুরোনো সরু বাড়ন্ত চাঁদ। পাগাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের আলোকিত অংশ ছিল অল্প, ফলে কালো আকাশের মধ্যে সরু বাঁকা চাঁদটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তার পাশেই শুক্রের তীব্র উজ্জ্বলতা দৃশ্যটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক বিভিন্ন ক্যালেন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় চাঁদের উজ্জ্বলতা ছিল প্রায় মাইনাস ১০ দশমিক ৩ ম্যাগনিটিউড এবং শুক্রের উজ্জ্বলতা ছিল প্রায় মাইনাস ৪ দশমিক ৫ ম্যাগনিটিউড। ম্যাগনিটিউডের ক্ষেত্রে সংখ্যা যত ঋণাত্মক হয়, জ্যোতিষ্ক তত উজ্জ্বল বলে বিবেচিত হয়।

শুক্রের এই উজ্জ্বলতার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ এটিকে নক্ষত্র বলে মনে করেন। কিন্তু শুক্র কোনো নক্ষত্র নয়, এটি সূর্যের চারদিকে ঘুরতে থাকা একটি গ্রহ। সূর্যের আলো শুক্রের ঘন মেঘমণ্ডল থেকে ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়। পৃথিবী ও শুক্রের পারস্পরিক অবস্থানের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহটি সন্ধ্যা কিংবা ভোরের আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ কারণে শুক্রকে দীর্ঘদিন ধরে ‘সন্ধ্যাতারা’ বা ‘ভোরের তারা’ নামে ডাকা হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি একটি গ্রহ।

জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট স্পেস ডটকমও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরু চাঁদের পাশে শুক্রের উজ্জ্বল উপস্থিতিকে উল্লেখযোগ্য আকাশদৃশ্য হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে নিচু অবস্থানে চাঁদ ও শুক্রকে দেখা যায়। দিগন্ত পরিষ্কার থাকলে এবং আকাশে মেঘ কম থাকলে দৃশ্যটি খালি চোখেই উপভোগ করা সম্ভব।

চাঁদ ও শুক্রকে পাশাপাশি দেখা গেলেও মহাকাশে তারা বাস্তবে একে অপরের খুব কাছে চলে আসেনি। এটি পৃথিবী থেকে দেখা একটি আপাত নৈকট্য। চাঁদ পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, আর শুক্র সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর অবস্থান, চাঁদ ও শুক্রের কক্ষপথ এবং পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিরেখা নির্দিষ্টভাবে একত্রিত হওয়ার ফলে আকাশে তাদের কাছাকাছি দেখা যায়। অর্থাৎ আকাশে কয়েক দশমিক আর্কমিনিট দূরে দেখা গেলেও বাস্তবে তাদের মধ্যকার দূরত্ব বিপুল।

গতকাল- ১৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ‘লুনার অকাল্টেশন’ বা চন্দ্রআবরণ। ইন দ্য স্কাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের কিছু অঞ্চল থেকে এদিন চাঁদের আড়ালে শুক্রগ্রহকে সাময়িকভাবে চলে যেতে দেখা সম্ভব ছিল। এ ধরনের ঘটনায় পৃথিবী থেকে দেখলে চাঁদ ধীরে ধীরে শুক্রের সামনে চলে আসে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুক্রকে আড়াল করে। তবে পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে এই ঘটনা দেখা যায় না। পর্যবেক্ষকের অবস্থান অনুযায়ী কোথাও শুক্র চাঁদের আড়ালে চলে যায়, আবার কোথাও দুটিকে পাশাপাশি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হিসেবে দেখা যায়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সোমবার সন্ধ্যার দৃশ্যটি ছিল মূলত সরু চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শুক্রের উপস্থিতি। আকাশ পরিষ্কার থাকায় কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকে খালি চোখেই এই দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিম দিগন্তে বাধা কম থাকা জায়গা থেকে দৃশ্যটি তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সেপ্টেম্বর মাসের আকাশ পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকাতেও শুক্রের এই সময়কার উজ্জ্বল উপস্থিতিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শুক্র সন্ধ্যার আকাশে অত্যন্ত উজ্জ্বল থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে গ্রহটিকে দেখা যাবে। নাসার হিসাবে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্র তার এই সন্ধ্যাকালীন আবির্ভাবের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার কাছাকাছি পৌঁছাবে।

তবে শুক্রের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার তারিখ নিয়ে বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডারে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। নাসার সেপ্টেম্বরের পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকায় ১৮ সেপ্টেম্বরকে শুক্রের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাগাসার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডায়েরিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ‘গ্রেটেস্ট ব্রাইটনেস’ বা সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতার তারিখ উল্লেখ রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাবের পদ্ধতি ও কোন ধরনের দৃশ্যমান উজ্জ্বলতাকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, তার পার্থক্যের কারণে এমন তারিখভেদ দেখা যেতে পারে। ফলে ১৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টি শুক্র পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় সময় হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে শুক্র ধীরে ধীরে সূর্যের দিকে নিচু অবস্থানে চলে যাবে। ফলে মাসের শেষ দিকে সন্ধ্যার আকাশে গ্রহটিকে দেখা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠবে। তাই সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়টি শুক্র পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে চাঁদকে ঘিরে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা রয়েছে। পাগাসার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ডায়েরি অনুযায়ী, মাসের বিভিন্ন সময়ে চাঁদের সঙ্গে মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনির কাছাকাছি অবস্থান বা সংযোগ ঘটছে। ২৭ সেপ্টেম্বর চাঁদ ও শনির কাছাকাছি অবস্থানও আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় দৃশ্য তৈরি করবে।

নাসার সেপ্টেম্বরের আকাশ পর্যবেক্ষণ নির্দেশিকায় ১৯ সেপ্টেম্বর ‘ইন্টারন্যাশনাল অবজার্ভ দ্য মুন নাইট’ বা আন্তর্জাতিক চন্দ্র পর্যবেক্ষণ রাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে চাঁদ পর্যবেক্ষণ এবং চন্দ্রবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি চাঁদ নিয়ে চলমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অনুসন্ধানের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় দৃশ্য। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমার কাছাকাছি সময়ে ‘হারভেস্ট মুন’ বা ফসলের চাঁদ আকাশে দেখা যাবে। একই সময় চাঁদের কাছাকাছি শনিও অবস্থান করবে। দূরবীন ব্যবহারকারীরা আরও দূরের গ্রহ নেপচুনকেও পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেতে পারেন, যদিও নেপচুন খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।

চাঁদ ও শুক্রের মতো উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের সংযোগ সাধারণ মানুষের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণের সহজ সুযোগ তৈরি করে। কারণ এমন দৃশ্য দেখতে শক্তিশালী টেলিস্কোপ বা বিশেষ মানমন্দিরের প্রয়োজন হয় না। পরিষ্কার আকাশ এবং দিগন্তের বাধাহীন দৃশ্য থাকলেই সূর্যাস্তের পর শুক্রকে সহজে শনাক্ত করা যায়। তবে শুক্র যেহেতু সন্ধ্যার সময় পশ্চিম দিগন্তের কাছে নিচু অবস্থানে থাকে, তাই ভবন, পাহাড়, গাছপালা বা মেঘ দৃশ্যমানতায় বাধা তৈরি করতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা অবশ্য সূর্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ দেন। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে সাধারণ দূরবীন বা টেলিস্কোপ দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই চাঁদ ও শুক্রের মতো সন্ধ্যাকালীন দৃশ্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত যাওয়ার পর আকাশের দিকে তাকানো নিরাপদ।

স্থানীয় বাসিন্দারা সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ যে সরু চাঁদের পাশে উজ্জ্বল আলোকবিন্দু দেখেছেন, সেটি তাই কোনো অজানা নক্ষত্র বা রহস্যময় বস্তু নয়। সেটি ছিল শুক্রগ্রহ। ইন দ্য স্কাই, পাগাসা এবং নাসার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে সোমবারের আকাশের এই দৃশ্যের সময় ও অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ। পৃথিবী থেকে দেখা দৃষ্টিকোণ, চাঁদের সরু আলোকিত অংশ এবং শুক্রের তীব্র উজ্জ্বলতার সমন্বয়ে সন্ধ্যার আকাশে তৈরি হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন এই মহাজাগতিক দৃশ্য।

কক্সবাজারের আকাশে দেখা এই দৃশ্যের মাধ্যমে আবারও মানুষের চোখের সামনে ধরা পড়ল সৌরজগতের এক অনন্য সৌন্দর্য। একদিকে ছিল অমাবস্যার পর নতুন চাঁদের সরু বাঁকা রেখা, অন্যদিকে তার পাশেই জ্বলজ্বল করছিল সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা শুক্রগ্রহ। আকাশে পাশাপাশি দেখা গেলেও বাস্তবে বিপুল দূরত্বে থাকা এই দুই জ্যোতিষ্ক সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের আকাশে তৈরি করেছিল কয়েক মিনিটের নয়, বরং বহু মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাওয়ার মতো এক মনকাড়া মহাজাগতিক দৃশ্য।