টেকনাফ উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং কিশোরী ও নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার হয়রানি প্রতিরোধে সক্ষম করতে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অফিসের কারিগরি পরিচালনায় শেড-এর অ্যাকশন ফর ট্রানজিশন’ (এফোরটি)’ প্রকল্প, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ-এর সহায়তা এবং অ্যাক্টিভিস্টা সাইবার সুরক্ষা দলের উদ্যোগে “সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সুরক্ষায় প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১০ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত কারিগরি সেশনটি পরিচালনা করেন উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কর্মকর্তা সৌরভ চক্রবর্তী।
বহুমাত্রিক মাধ্যম প্রদর্শন (মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন) ও বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে তিনি সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অধিকার, অনলাইন হয়রানির ধরন, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, অ্যাকাউন্ট চুরি বা হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, নিরাপদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধের শিকার হলে কীভাবে অনলাইনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে হয়—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
এতে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষক এবং অ্যাক্টিভিস্টা সাইবার সুরক্ষা দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
শেড প্রকল্পের কর্মকর্তা তাসলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনিক চৌধুরী।
প্রকল্প সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য সম্পর্কে জানান, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষক ও যুব প্রতিনিধিদের দক্ষ ‘সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাসে ও সচেতনতামূলক সেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে কিশোরী ও নারী শিক্ষার্থীদের, নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ ও নিজেদের অভিযোগ নিজেরাই অনলাইনে দাখিল করার পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেবেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি ‘সাইবার নিরাপত্তা খাতা বা রেজিস্টার’ সংরক্ষণ করা হবে। এতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর তথ্য, সাইবার সংক্রান্ত অভিযোগ ও গৃহীত পদক্ষেপ নথিভুক্ত করা হবে, যা বিদ্যালয়ভিত্তিক একটি টেকসই সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কাঠামো গড়ে তুলবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনিক চৌধুরী বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যেন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভালো ও ক্ষতিকর দিক, ডিজিটাল হয়রানি শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার শেখান—সে বিষয়ে তিনি তাগিদ দেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কিশোরী ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হয়রানিমুক্ত নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অফিস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং যুব দল সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবে।
উপস্থিত শিক্ষক ও যুব প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন এবং অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 





















