যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধ্যক্ষকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: খাদেমুল বাশার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসিনা আক্তার। এছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীসহ ২০২৬ সালে জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারীদের সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এ কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাঃ আব্দুর রহিম, শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক এবং আদিত্য সিকদার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে ২১টি, জেলা পর্যায়ে ১১টি এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৪টি প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। এছাড়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ১০ জন এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সাফল্য তুলে ধরে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। এছাড়া ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অলিম্পিয়াডে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষাগত উৎকর্ষ সহায়তা কর্মসূচির বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীতে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সেরা ১০টি বিদ্যালয়ের মধ্যেও স্থান করে নিয়েছে।
ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য অর্জন। আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন, আন্তঃক্যান্টনমেন্ট জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান এবং ৫৪তম জাতীয় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় একাধিক পদক অর্জন করেছে। পাশাপাশি নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ ৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ হয়ে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিজয়ী ও অবদান রাখা কৃতিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট, সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 






















