টেকনাফ ও উখিয়া অঞ্চলের চলমান অপহরণ, মানবপাচার, সীমান্ত অপরাধ এবং জননিরাপত্তা সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জনাব জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেছে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া’-এর প্রতিনিধিদল।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রতিনিধিদল টেকনাফ–উখিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আন্দোলনের উত্থাপিত ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করে।
বিভাগীয় কমিশনার অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে স্মারকলিপিটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিটি দাবির যৌক্তিকতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন।
আলোচনা শেষে বিভাগীয় কমিশনার জানান, টেকনাফ–উখিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, উত্থাপিত দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আসন্ন নীতি-নির্ধারণী সভায় সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও এসব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করবেন বলে জানান তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আরও একটি নতুন ব্যাটালিয়ন স্থাপনের বিষয়টি ইতিবাচক বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন টেকনাফ–উখিয়া’-এর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী রুবায়েত হোসাইন ও রবিউল হাসান মামুন, আইআইইউসির শিক্ষার্থী চৌধুরী সীয়াম ইলাহি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী শফিউল বশর।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিভাগীয় কমিশনারের ইতিবাচক আশ্বাস ও আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নাফ নদীকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অপহরণ ও মানবপাচার বন্ধ হবে এবং সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি 


















