ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, পুনর্বাসনের আশ্বাস জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটিকে স্বাগত, আশাবাদী রোহিঙ্গারা বৃহত্তর গর্জনিয়ায় বানভাসীদের মাঝে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ত্রাণ বিতরণ করলেন ডিসি ও ইউএনও ভেসে গেছে ৩ হাজার ৯১৮ পুকুর-ঘেরের মাছ, ক্ষতি ৪৬ কোটি টাকা কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা “বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাই মানুষের প্রতি দায় আছে”- কক্সবাজারে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার: টেন্ডার সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে ‘রয়েল নাসির’ ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাশেদ-এর ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিব বন্যার্তদের পাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল,রামুতে দেড় হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জননেতা নুরুল আবছারের ওপেন হার্ট সার্জারি সোমবারের বদলে হবে বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজার জেলা যুবদলের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম

সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান

 সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই বলে সরকারি দলের দেওয়া যুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংবিধানে যদি গণভোটের প্রভিশন না থাকে, তবে ২০২৬ সালেও কোনো নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই; কারণ পুরনো সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন।’ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের ইচ্ছাতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং সেই আদেশের আলোকেই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টিকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় হওয়া সংসদ নির্বাচন মানা হবে অথচ গণভোট অস্বীকার করা হবে—এমন দ্বৈতনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার গঠনের জন্য পাওয়া ৫১ শতাংশ মানুষের ভোট যদি বৈধ হয়, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের বৃহত্তর রায়কে কেন অস্বীকার করা হবে? দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফেরাতে অনেক আপত্তি সত্ত্বেও বিরোধী দল ৫১ শতাংশ ভোটের সরকার মেনে নিয়েছে। তাই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর রায় কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারি দলের ওয়াদা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির জানান, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথই নিয়েছেন, অথচ সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। তিনি ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময়কার সরকার দাবি না মানায় তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারকেও কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের অস্বস্তি দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হবে আর বিরোধী দল বসে বসে সংসদে সমর্থন দেবে, আমরা সেই বিরোধী দল নই। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে অবশ্যই আমরা রুখে দাঁড়াব, আর আজকের ওয়াকআউট তারই অংশ।’

এ সময় সেখানে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী দল শুরু থেকেই গণভোটের রায় মেনে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। ওই কমিটির প্রতি বিরোধী দলের কোনো নৈতিক সমর্থন না থাকায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।

সূত্র:  দৈনিক ইত্তেফাক
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০১:২৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
 সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই বলে সরকারি দলের দেওয়া যুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংবিধানে যদি গণভোটের প্রভিশন না থাকে, তবে ২০২৬ সালেও কোনো নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই; কারণ পুরনো সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন।’ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের ইচ্ছাতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং সেই আদেশের আলোকেই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টিকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় হওয়া সংসদ নির্বাচন মানা হবে অথচ গণভোট অস্বীকার করা হবে—এমন দ্বৈতনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার গঠনের জন্য পাওয়া ৫১ শতাংশ মানুষের ভোট যদি বৈধ হয়, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের বৃহত্তর রায়কে কেন অস্বীকার করা হবে? দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফেরাতে অনেক আপত্তি সত্ত্বেও বিরোধী দল ৫১ শতাংশ ভোটের সরকার মেনে নিয়েছে। তাই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর রায় কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারি দলের ওয়াদা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির জানান, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথই নিয়েছেন, অথচ সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। তিনি ১৯৯৪ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময়কার সরকার দাবি না মানায় তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারকেও কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের অস্বস্তি দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের অধিকার উপেক্ষিত হবে আর বিরোধী দল বসে বসে সংসদে সমর্থন দেবে, আমরা সেই বিরোধী দল নই। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে অবশ্যই আমরা রুখে দাঁড়াব, আর আজকের ওয়াকআউট তারই অংশ।’

এ সময় সেখানে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী দল শুরু থেকেই গণভোটের রায় মেনে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার সংস্কারের বদলে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। ওই কমিটির প্রতি বিরোধী দলের কোনো নৈতিক সমর্থন না থাকায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।

সূত্র:  দৈনিক ইত্তেফাক