ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম রাউন্ড শেষ। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে চোখের পলকেই শেষ হয়েছে প্রথম ম্যাচের লড়াই। ২৪ ম্যাচের এই প্রথম কিস্তি ছিল এক কথায় অ্যাকশন-প্যাকড—রোমাঞ্চ, চমক, অঘটন আর বড় দলগুলোর বাস্তবতা বোঝার এক দুর্দান্ত সপ্তাহ।
প্রথম রাউন্ডে ২৪ ম্যাচের মধ্যে ড্র হয়েছে ৯টি। তবে এই ড্র ম্যাচগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল বিশ্বকাপের বড় চমক। সবচেয়ে অবাক করা ফল ছিল স্পেন ও কেপ ভার্দের গোলশূন্য ড্র। ইউরোপিয়ান জায়ান্ট ও অন্যতম ফেভারিট স্পেনকে ০-০ গোলে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের উপস্থিতি দারুণভাবে জানান দিয়েছে কেপ ভার্দে। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার সামনে স্পেনের আক্রমণভাগ যেভাবে থমকে গেছে, তা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।
ব্রাজিলের জন্য মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র ছিল বড় এক রিয়েলিটি চেক। তবে একই সঙ্গে মরক্কোও বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা শুধু অংশগ্রহণ করতে আসেনি; বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর জন্য তারা হতে পারে কঠিন প্রতিপক্ষ। সুইজারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ ড্রতে আটকে দিয়ে কাতারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে চমক আসতে সময় লাগে না।
নেদারল্যান্ডস ও জাপানের ২-২ ড্র ছিল প্রথম রাউন্ডের অন্যতম বিনোদনমূলক ম্যাচ। ইউরোপিয়ান জায়ান্ট নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে লড়াই করে জাপান প্রমাণ করেছে, তারা এশিয়ার অন্যতম ভয়ংকর দল। এবারের বিশ্বকাপে জাপানকে নিঃসন্দেহে ডার্ক হর্স বলা যায়।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়েকেও সৌদি আরব ১-১ ড্রতে আটকে দেয়। বেলজিয়ামের মতো হাইলি রেটেড দলও ইজিপ্টের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত ড্রগুলোর একটি ছিল পর্তুগাল ও কংগোর ম্যাচ। বিশ্বকাপের অন্যতম বড় ফেভারিট পর্তুগাল নিজেদের প্রথম ম্যাচেই প্রত্যাশিত ছন্দ দেখাতে পারেনি।
মাঝারি মানের দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র দারুণ জয় পেয়েছে। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই দলগুলো পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে ভালো অবস্থানে আছে বলা যায়।
তবে জায়ান্ট দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ডমিনেটিং পারফরম্যান্স দেখিয়েছে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও জার্মানি। তাদের খেলায় ছিল পরিষ্কার পরিকল্পনা, দারুণ ট্যাকটিকস, গতি, কেমিস্ট্রি এবং আত্মবিশ্বাস। কিলিয়ান এমবাপ্পে, লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন ও কাই হ্যাভার্টজ নিঃসন্দেহে প্রথম সপ্তাহের বড় হেডলাইন হয়ে উঠেছেন। নিজেদের দলকে তারা দিয়েছেন উড়ন্ত সূচনা।
অন্যদিকে ব্রাজিল, পর্তুগাল, স্পেন ও বেলজিয়ামের পারফরম্যান্স দেখে মনে হয়েছে, স্কোয়াড শক্তিশালী হলেও সঠিক কম্বিনেশন ও খেলার ধরণ এখনো পুরোপুরি খুঁজে পায়নি দলগুলো। তাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া।
তবে বিশ্বকাপের সৌন্দর্য এখানেই। মাত্র এক রাউন্ড দেখে কোনো দলকে পুরোপুরি বিচার করা যায় না। অনেক দল টুর্নামেন্টের মাঝপথে ছন্দ খুঁজে পায়, ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আবার অনেক দল ভালো শুরু করেও মাঝপথে পথ হারায়।
আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় কিস্তি। এখন দেখার বিষয়, প্রথম ম্যাচে যারা হোঁচট খেয়েছে তারা কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, আর যারা উড়ন্ত শুরু পেয়েছে তারা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না।
একটা বিষয় নিশ্চিত—রোমাঞ্চ এখানেই শেষ নয়। সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় ম্যাচ, আরও অঘটন, আরও নাটকীয়তা।
লেট দ্য সেকেন্ড ওয়েভ কাম!
সায়ন্তন ভট্টাচার্য 






















