ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা! ‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া

বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে “আপা” ও “ভাইয়া” শব্দ দুটি কেবল সম্বোধন নয়, বরং আত্মীয়তা, সম্মান ও মানবিক দূরত্ব কমানোর এক অনন্য ভাষা। গ্রাম থেকে শহর, রাজনীতি থেকে ব্যবসা, সবখানেই এই সম্বোধন সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বা আমলাতন্ত্রে এই শব্দগুলো প্রায় অদৃশ্য। সেখানে এখনো “স্যার” ও “ম্যাডাম” যেন এক অলিখিত বাধ্যবাধকতা।

এর পেছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের দীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনকে জনগণের সেবক নয়, বরং শাসক শ্রেণি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে “স্যার” ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আর সাধারণ মানুষ ছিল আনুগত্য প্রদর্শনের পক্ষ। স্বাধীনতার বহু দশক পরও প্রশাসনিক সংস্কৃতির ভেতর সেই মানসিকতার অনেকাংশ রয়ে গেছে। পদমর্যাদা ও দূরত্বকে মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনো শক্তিশালী।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক আচরণ আরও মানবিক ও অংশীদারিত্ব মূলক হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের “পাবলিক সার্ভেন্ট” হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই সম্বোধন এখনো ক্ষমতার প্রতীক হয়ে আছে, সেবার নয়।

অথচ “আপা” বা “ভাইয়া” বললে সম্মান কমে যায় না; বরং নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থার, আতঙ্কের নয়; সহযোগিতার, আনুষ্ঠানিক দূরত্বের নয়।

সময় এসেছে ভাষার ভেতর লুকিয়ে থাকা ঔপনিবেশিক মানসিকতাকেও নতুনভাবে ভাবার। কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতায় নিহিত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার আয়োজনে মানববর্জ্যে পরিবেশের বাজছে বারোটা!

‌আপা-ভাইয়া বনাম “স্যার-ম্যডাম”: আমলাতন্ত্রের ভাষায় ঔপনিবেশিকতার দীর্ঘ ছায়া

আপডেট সময় : ১২:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতিতে “আপা” ও “ভাইয়া” শব্দ দুটি কেবল সম্বোধন নয়, বরং আত্মীয়তা, সম্মান ও মানবিক দূরত্ব কমানোর এক অনন্য ভাষা। গ্রাম থেকে শহর, রাজনীতি থেকে ব্যবসা, সবখানেই এই সম্বোধন সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলে। অথচ বিস্ময়ের বিষয় হলো, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো বা আমলাতন্ত্রে এই শব্দগুলো প্রায় অদৃশ্য। সেখানে এখনো “স্যার” ও “ম্যাডাম” যেন এক অলিখিত বাধ্যবাধকতা।

এর পেছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের দীর্ঘ ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনকে জনগণের সেবক নয়, বরং শাসক শ্রেণি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে “স্যার” ছিল ক্ষমতার প্রতীক, আর সাধারণ মানুষ ছিল আনুগত্য প্রদর্শনের পক্ষ। স্বাধীনতার বহু দশক পরও প্রশাসনিক সংস্কৃতির ভেতর সেই মানসিকতার অনেকাংশ রয়ে গেছে। পদমর্যাদা ও দূরত্বকে মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা এখনো শক্তিশালী।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক আচরণ আরও মানবিক ও অংশীদারিত্ব মূলক হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা নিজেদের “পাবলিক সার্ভেন্ট” হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই সম্বোধন এখনো ক্ষমতার প্রতীক হয়ে আছে, সেবার নয়।

অথচ “আপা” বা “ভাইয়া” বললে সম্মান কমে যায় না; বরং নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থার, আতঙ্কের নয়; সহযোগিতার, আনুষ্ঠানিক দূরত্বের নয়।

সময় এসেছে ভাষার ভেতর লুকিয়ে থাকা ঔপনিবেশিক মানসিকতাকেও নতুনভাবে ভাবার। কারণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতায় নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতায় নিহিত।