ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা প্রশাসনের সতর্কতা, সব আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত : খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস : ৮ মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৫ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারো পাহাড়ধস : ৮ মাদ্রাসা ছাত্রী নিহত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের  কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা: আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ বঙ্গোপসাগরে ঝড়ে ট্রলারডুবি, তিন দিনেও উদ্ধার হননি পটুয়াখালীর ৬ জেলে ডুবে আছে রেললাইন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ কক্সবাজারে কেন ভয়ংকর হয়ে উঠছে বর্ষা ১৯ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস ভারী বৃষ্টির কারণে ১৬ হাজার রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত: ইউএনএইচসিআর মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে খবর আসে স্বামীর লাশ পড়ে আছে বাসায় কক্সবাজারসহ তিন জেলায় বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পেকুয়ার কয়েক’শ বসতি রামুতে ​শ্রী শ্রী সার্বজনীন দূর্গা মন্দির দখলের অভিযোগ

নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ?

ছবি: চ্যাটজিপিটি

ফুটবলের রাজপুত্র বলা হয় তাকে। অসাধারণ স্কিল, চোখধাঁধানো ড্রিবল আর জাদুকরি ফিনিশিং দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার যেন ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই প্রশ্ন উঠেছে—২০২৬ বিশ্বকাপ কি হতে যাচ্ছে নেইমারের মুক্তির মঞ্চ?

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের স্বপ্নের সূচনা। স্বাগতিক ব্রাজিল পুরো আশা রেখেছিল তরুণ এই ফরোয়ার্ডের কাঁধে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে ইনজুরিতে ছিটকে যান। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিঠে গুরুতর আঘাত তাকে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় করে দেয়। এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের হার আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন নতুন প্রত্যয়ে। কিন্তু ইনজুরি আর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তাকে পুরোপুরি মুক্তভাবে খেলতে দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে আবারও থেমে যায় ব্রাজিলের স্বপ্ন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির চোটে পড়ে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ মিস করেন। পরে ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেছিলেন, এই হার তাকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

এরপর শুরু হয় আরও কঠিন সময়। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভয়াবহ ACL ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবের ক্লাব অধ্যায়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সমালোচনা, ইনজুরি আর ফর্মহীনতার মধ্যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি।

নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ফিরে পান ছন্দ। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আবেগ নয়—ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সামনে হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই ২০২৬ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই, শেষ স্বপ্ন, শেষ মুক্তির মঞ্চ।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—নেইমার কি পারবেন নিজের অপূর্ণ গল্পটা পূর্ণ করতে? নাকি বিশ্বকাপ আবারও লিখবে এক বেদনাময় অধ্যায়?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা প্রশাসনের সতর্কতা, সব আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত : খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম

নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ?

আপডেট সময় : ০১:৪৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফুটবলের রাজপুত্র বলা হয় তাকে। অসাধারণ স্কিল, চোখধাঁধানো ড্রিবল আর জাদুকরি ফিনিশিং দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার যেন ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই প্রশ্ন উঠেছে—২০২৬ বিশ্বকাপ কি হতে যাচ্ছে নেইমারের মুক্তির মঞ্চ?

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের স্বপ্নের সূচনা। স্বাগতিক ব্রাজিল পুরো আশা রেখেছিল তরুণ এই ফরোয়ার্ডের কাঁধে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে ইনজুরিতে ছিটকে যান। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিঠে গুরুতর আঘাত তাকে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় করে দেয়। এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের হার আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন নতুন প্রত্যয়ে। কিন্তু ইনজুরি আর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তাকে পুরোপুরি মুক্তভাবে খেলতে দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে আবারও থেমে যায় ব্রাজিলের স্বপ্ন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির চোটে পড়ে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ মিস করেন। পরে ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেছিলেন, এই হার তাকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

এরপর শুরু হয় আরও কঠিন সময়। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভয়াবহ ACL ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবের ক্লাব অধ্যায়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সমালোচনা, ইনজুরি আর ফর্মহীনতার মধ্যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি।

নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ফিরে পান ছন্দ। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আবেগ নয়—ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সামনে হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই ২০২৬ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই, শেষ স্বপ্ন, শেষ মুক্তির মঞ্চ।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—নেইমার কি পারবেন নিজের অপূর্ণ গল্পটা পূর্ণ করতে? নাকি বিশ্বকাপ আবারও লিখবে এক বেদনাময় অধ্যায়?