ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের ২০ বছরের গৌরবযাত্রা: কক্সবাজার থেকে শুরু হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগ নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ? ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই চার্জশিট: আইনমন্ত্রী স্পোর্টস ও ইভি গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী মাতামুহুরী উপজেলার প্রথম ইউএনও শাহীন দেলোয়ার সীমান্তে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ, পিছু হটতে বাধ্য হলো ভারতীয় বাহিনী ফোর্টিফাই রাইটসের বিবৃতি – আরসা প্রধান আতাউল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দাবি কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হা’ম’লা চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত কুকুরের নৈপুণ্যে টায়ারের ভেতর মিলল ইয়াবা চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধ বাবার প্যাসিফিক বীচ রিসোর্টে আগুনে পুড়ে ছাই ৩ কটেজ, ক্ষতি ৭০ লাখ টাকা খেলাঘরের মানববন্ধন :শিশুর ধর্ষক ও হত্যাকারীদের দ্রুত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া

নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ?

ছবি: চ্যাটজিপিটি

ফুটবলের রাজপুত্র বলা হয় তাকে। অসাধারণ স্কিল, চোখধাঁধানো ড্রিবল আর জাদুকরি ফিনিশিং দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার যেন ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই প্রশ্ন উঠেছে—২০২৬ বিশ্বকাপ কি হতে যাচ্ছে নেইমারের মুক্তির মঞ্চ?

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের স্বপ্নের সূচনা। স্বাগতিক ব্রাজিল পুরো আশা রেখেছিল তরুণ এই ফরোয়ার্ডের কাঁধে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে ইনজুরিতে ছিটকে যান। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিঠে গুরুতর আঘাত তাকে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় করে দেয়। এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের হার আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন নতুন প্রত্যয়ে। কিন্তু ইনজুরি আর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তাকে পুরোপুরি মুক্তভাবে খেলতে দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে আবারও থেমে যায় ব্রাজিলের স্বপ্ন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির চোটে পড়ে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ মিস করেন। পরে ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেছিলেন, এই হার তাকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

এরপর শুরু হয় আরও কঠিন সময়। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভয়াবহ ACL ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবের ক্লাব অধ্যায়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সমালোচনা, ইনজুরি আর ফর্মহীনতার মধ্যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি।

নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ফিরে পান ছন্দ। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আবেগ নয়—ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সামনে হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই ২০২৬ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই, শেষ স্বপ্ন, শেষ মুক্তির মঞ্চ।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—নেইমার কি পারবেন নিজের অপূর্ণ গল্পটা পূর্ণ করতে? নাকি বিশ্বকাপ আবারও লিখবে এক বেদনাময় অধ্যায়?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশের ২০ বছরের গৌরবযাত্রা: কক্সবাজার থেকে শুরু হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগ

নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ?

আপডেট সময় : ০১:৪৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফুটবলের রাজপুত্র বলা হয় তাকে। অসাধারণ স্কিল, চোখধাঁধানো ড্রিবল আর জাদুকরি ফিনিশিং দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার যেন ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই প্রশ্ন উঠেছে—২০২৬ বিশ্বকাপ কি হতে যাচ্ছে নেইমারের মুক্তির মঞ্চ?

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের স্বপ্নের সূচনা। স্বাগতিক ব্রাজিল পুরো আশা রেখেছিল তরুণ এই ফরোয়ার্ডের কাঁধে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে ইনজুরিতে ছিটকে যান। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিঠে গুরুতর আঘাত তাকে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় করে দেয়। এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের হার আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন নতুন প্রত্যয়ে। কিন্তু ইনজুরি আর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তাকে পুরোপুরি মুক্তভাবে খেলতে দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে আবারও থেমে যায় ব্রাজিলের স্বপ্ন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির চোটে পড়ে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ মিস করেন। পরে ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেছিলেন, এই হার তাকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

এরপর শুরু হয় আরও কঠিন সময়। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভয়াবহ ACL ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবের ক্লাব অধ্যায়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সমালোচনা, ইনজুরি আর ফর্মহীনতার মধ্যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি।

নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ফিরে পান ছন্দ। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আবেগ নয়—ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সামনে হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই ২০২৬ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই, শেষ স্বপ্ন, শেষ মুক্তির মঞ্চ।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—নেইমার কি পারবেন নিজের অপূর্ণ গল্পটা পূর্ণ করতে? নাকি বিশ্বকাপ আবারও লিখবে এক বেদনাময় অধ্যায়?