ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত নারী এশিয়া কাপ : রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ রামুতে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত প্রেমিকের বিরুদ্ধে গর্ভপাতের চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে প্রকাশ্যে বিচার চেয়েছিলো সুমাইয়া কক্সবাজার সমিতি কাতারের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লোহাগাড়ায় পেয়ারার প্রলোভনে ৫ বছরের কন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ : ৫৫ বছরের বৃদ্ধ আটক শিক্ষার মানোন্নয়নে গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ গঠনতন্ত্রের বাধ্যবাধকতায় প্রার্থী হতে পারিনি, সহকর্মীদের পাশে থাকবো-উখিয়া প্রেসক্লাবের ৩ বারের সভাপতি সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার মগনামায় বিএনপির প্রস্তুতি সভায় বাকবিতন্ডা- হট্টগোল বালিয়াড়ীতে সড়ক নির্মানের বাংলাদেশ-জাপান যৌথ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান টিআইবির মোবাইলে পর্ণ ভিডিও পাওয়ায় ১৪ দিনের কারাদন্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়ায় যুবদলের প্রস্তুতি সভা কক্সবাজারে পালং সার্ভিসের গাড়ি থেকে ২৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২ সালমান হত্যা মামলা : নিহত রাশেদের ২ ভাইসহ ৮ আসামী

নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ?

ছবি: চ্যাটজিপিটি

ফুটবলের রাজপুত্র বলা হয় তাকে। অসাধারণ স্কিল, চোখধাঁধানো ড্রিবল আর জাদুকরি ফিনিশিং দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার যেন ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই প্রশ্ন উঠেছে—২০২৬ বিশ্বকাপ কি হতে যাচ্ছে নেইমারের মুক্তির মঞ্চ?

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের স্বপ্নের সূচনা। স্বাগতিক ব্রাজিল পুরো আশা রেখেছিল তরুণ এই ফরোয়ার্ডের কাঁধে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে ইনজুরিতে ছিটকে যান। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিঠে গুরুতর আঘাত তাকে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় করে দেয়। এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের হার আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন নতুন প্রত্যয়ে। কিন্তু ইনজুরি আর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তাকে পুরোপুরি মুক্তভাবে খেলতে দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে আবারও থেমে যায় ব্রাজিলের স্বপ্ন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির চোটে পড়ে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ মিস করেন। পরে ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেছিলেন, এই হার তাকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

এরপর শুরু হয় আরও কঠিন সময়। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভয়াবহ ACL ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবের ক্লাব অধ্যায়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সমালোচনা, ইনজুরি আর ফর্মহীনতার মধ্যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি।

নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ফিরে পান ছন্দ। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আবেগ নয়—ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সামনে হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই ২০২৬ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই, শেষ স্বপ্ন, শেষ মুক্তির মঞ্চ।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—নেইমার কি পারবেন নিজের অপূর্ণ গল্পটা পূর্ণ করতে? নাকি বিশ্বকাপ আবারও লিখবে এক বেদনাময় অধ্যায়?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নেইমারের বিশ্বকাপ আক্ষেপ—২০২৬ কি হবে শেষ স্বপ্নপূরণের মঞ্চ?

আপডেট সময় : ০১:৪৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ফুটবলের রাজপুত্র বলা হয় তাকে। অসাধারণ স্কিল, চোখধাঁধানো ড্রিবল আর জাদুকরি ফিনিশিং দিয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন নেইমার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার যেন ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই প্রশ্ন উঠেছে—২০২৬ বিশ্বকাপ কি হতে যাচ্ছে নেইমারের মুক্তির মঞ্চ?

২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল নেইমারের স্বপ্নের সূচনা। স্বাগতিক ব্রাজিল পুরো আশা রেখেছিল তরুণ এই ফরোয়ার্ডের কাঁধে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে ইনজুরিতে ছিটকে যান। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিঠে গুরুতর আঘাত তাকে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় করে দেয়। এরপর সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের হার আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়।

২০১৮ বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন নতুন প্রত্যয়ে। কিন্তু ইনজুরি আর অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তাকে পুরোপুরি মুক্তভাবে খেলতে দেয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হেরে আবারও থেমে যায় ব্রাজিলের স্বপ্ন।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির চোটে পড়ে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ মিস করেন। পরে ফিরে এসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল করলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে তিনি বলেছিলেন, এই হার তাকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

এরপর শুরু হয় আরও কঠিন সময়। ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভয়াবহ ACL ইনজুরিতে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। সৌদি আরবের ক্লাব অধ্যায়ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সমালোচনা, ইনজুরি আর ফর্মহীনতার মধ্যে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে।

কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয়নি।

নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আবারও নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ফিরে পান ছন্দ। অবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, আবেগ নয়—ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সামনে হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। তাই ২০২৬ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই, শেষ স্বপ্ন, শেষ মুক্তির মঞ্চ।

ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষায়—নেইমার কি পারবেন নিজের অপূর্ণ গল্পটা পূর্ণ করতে? নাকি বিশ্বকাপ আবারও লিখবে এক বেদনাময় অধ্যায়?