টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা হোছেন আলীকে (৭০) তিন দিন পর ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপহৃতের ভাই সৈয়দ আহমদ বলেছেন, অপহরণের পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে রোববার বিকেল ৪টার দিকে পাহাড়ে গিয়ে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার পর হোছেন আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাড়িতে আছেন।
অপহৃত হোছেন আলী বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়ার মৃত রহমান আলীর ছেলে। তিনি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, গত ১৬ মে দিবাগত রাত ২টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে হোছেন আলীর বাড়িতে আসে। তারা বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে চাপ দেয় এবং ওয়ারেন্ট আছে বলেও জানায়। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।
হোছেন আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগমের ভাষ্য, কয়েকজন অস্ত্রধারী ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। বাইরে আরও কয়েকজন অস্ত্র হাতে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দও শোনা যায়।
তিনি জানিয়েছেন, মুক্তিপণের বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবার এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ বলেছেন, “হোছেন আলী বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তিনি সুস্থ আছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে মুক্তিপণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।”
বিশেষ প্রতিবেদক: 























