ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদিপাহাড়ে সাইফুল হত্যাকান্ড : সিহাব নামের যুবক আটক চকরিয়ায় শিক্ষার্থীকে অপহরণ : যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি জোবায়ের, সা: সম্পাদক ওসমান জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধি কক্সবাজারে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবাসহ ১৩৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেপ্তার ২৯ হলদিয়ায় কিশোরকে মারধর করে অপহরণ : থানায় অভিযোগ দায়ের মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা

কানাডা আজ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পের চারপাশের নাজুক পরিবেশ রক্ষা করবে। এটি বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদা উন্নত করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, “কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক অনুদান পরিবেশগতভাবে একটি নাজুক জেলায় বনভূমি উজাড় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। যা শরণার্থী, বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উপকারের পাশাপাশি এটি অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকিও কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম-কে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশের সুরক্ষা জোরদার করা যায়, যার উপকার আমরা সবাই পাব। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান আরও উন্নত করতে কাজ করা সম্ভব হবে।”

কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। যা বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের সম্মুখীন হয়। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং আমি এর জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীরা যাতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে আইওএম এর চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেরে লোটি বলেন, ‘নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের শিকার হয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করে যে শরণার্থীরা বিপজ্জনক জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়াতে পারবে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’

২০১৮ সাল থেকে এই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার মূলে রয়েছে এলপিজি সরবরাহ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরে বাতাসের গুণমান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে। কানাডার এই অনুদান প্রায় দুই লাখ তেতাল্লিল হাজার পাঁচশ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় দশ হাজার সাতশ হেক্টর সংরক্ষিত বন সংরক্ষণে সহায়তা করবে। এটি ভূমিধসের ঝুঁকি কমাবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব কমিয়ে স্থানীয় সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা

আপডেট সময় : ০৩:২২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কানাডা আজ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পের চারপাশের নাজুক পরিবেশ রক্ষা করবে। এটি বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদা উন্নত করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, “কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক অনুদান পরিবেশগতভাবে একটি নাজুক জেলায় বনভূমি উজাড় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। যা শরণার্থী, বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উপকারের পাশাপাশি এটি অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকিও কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম-কে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশের সুরক্ষা জোরদার করা যায়, যার উপকার আমরা সবাই পাব। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান আরও উন্নত করতে কাজ করা সম্ভব হবে।”

কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। যা বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের সম্মুখীন হয়। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং আমি এর জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীরা যাতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে আইওএম এর চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেরে লোটি বলেন, ‘নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের শিকার হয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করে যে শরণার্থীরা বিপজ্জনক জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়াতে পারবে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’

২০১৮ সাল থেকে এই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার মূলে রয়েছে এলপিজি সরবরাহ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরে বাতাসের গুণমান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে। কানাডার এই অনুদান প্রায় দুই লাখ তেতাল্লিল হাজার পাঁচশ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় দশ হাজার সাতশ হেক্টর সংরক্ষিত বন সংরক্ষণে সহায়তা করবে। এটি ভূমিধসের ঝুঁকি কমাবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব কমিয়ে স্থানীয় সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।