ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানের জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে ফেরা হলো না, লোহাগাড়ায় মিনিট্রাকের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দু’র্ঘ’ট’না, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নি’হ’ত শক্তিশালী টেকনাফকে হারিয়ে ফাইনালে রামু : ম্যান অব দ্যা ম্যাচ কৌশিক বড়ুয়া প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভা: দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চকরিয়ায় বাসে তল্লাশি : ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা যুবক আটক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি উজানটিয়া বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বসানো হচ্ছে জিও ব্যাগ, এলাকাজুড়ে স্বস্তি সভাপতির ‘না’,সেক্রেটারির ‘হ্যাঁ’ : মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা:) মাহফিল আয়োজন নিয়ে আইনজীবী সমিতির বিতর্ক কক্সবাজার সৈকতে স্থাপনা নির্মাণ: ডিসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা কক্সবাজারে জমি রেজিস্ট্রেশনে ডিসির অনুমতি বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর চিঠি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা

কানাডা আজ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পের চারপাশের নাজুক পরিবেশ রক্ষা করবে। এটি বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদা উন্নত করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, “কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক অনুদান পরিবেশগতভাবে একটি নাজুক জেলায় বনভূমি উজাড় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। যা শরণার্থী, বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উপকারের পাশাপাশি এটি অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকিও কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম-কে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশের সুরক্ষা জোরদার করা যায়, যার উপকার আমরা সবাই পাব। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান আরও উন্নত করতে কাজ করা সম্ভব হবে।”

কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। যা বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের সম্মুখীন হয়। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং আমি এর জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীরা যাতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে আইওএম এর চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেরে লোটি বলেন, ‘নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের শিকার হয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করে যে শরণার্থীরা বিপজ্জনক জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়াতে পারবে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’

২০১৮ সাল থেকে এই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার মূলে রয়েছে এলপিজি সরবরাহ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরে বাতাসের গুণমান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে। কানাডার এই অনুদান প্রায় দুই লাখ তেতাল্লিল হাজার পাঁচশ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় দশ হাজার সাতশ হেক্টর সংরক্ষিত বন সংরক্ষণে সহায়তা করবে। এটি ভূমিধসের ঝুঁকি কমাবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব কমিয়ে স্থানীয় সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।

ট্যাগ :

দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা

আপডেট সময় : ০৩:২২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কানাডা আজ বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পের চারপাশের নাজুক পরিবেশ রক্ষা করবে। এটি বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদা উন্নত করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, “কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক অনুদান পরিবেশগতভাবে একটি নাজুক জেলায় বনভূমি উজাড় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। যা শরণার্থী, বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে উপকারের পাশাপাশি এটি অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকিও কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম-কে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশের সুরক্ষা জোরদার করা যায়, যার উপকার আমরা সবাই পাব। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান আরও উন্নত করতে কাজ করা সম্ভব হবে।”

কক্সবাজার বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। যা বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের সম্মুখীন হয়। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং আমি এর জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীরা যাতে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশে আইওএম এর চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেরে লোটি বলেন, ‘নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের শিকার হয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করে যে শরণার্থীরা বিপজ্জনক জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়াতে পারবে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’

২০১৮ সাল থেকে এই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার মূলে রয়েছে এলপিজি সরবরাহ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরে বাতাসের গুণমান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে। কানাডার এই অনুদান প্রায় দুই লাখ তেতাল্লিল হাজার পাঁচশ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় দশ হাজার সাতশ হেক্টর সংরক্ষিত বন সংরক্ষণে সহায়তা করবে। এটি ভূমিধসের ঝুঁকি কমাবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব কমিয়ে স্থানীয় সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।