ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই? শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪ হোটেল সী-হার্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন পেকুয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।