ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়: মির্জা ফখরুল টেকনাফে মাদক মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কুতুবদিয়ায় ‘দ্বীপবর্তিকা’র উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার ও আইকিউ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি নেইমারকে ছাড়াই পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ ঘোষণা হিজাব পরায় তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী দিল্লিতে বহুতল ভবন ধস, নিহত অন্তত ৯ দেশজুড়ে আরও বাড়বে গরম, চট্টগ্রামসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন নৌকার সমর্থক , উখিয়ার কৃষকদল আহবায়ক দিলেন সাংবাদিকদের হুমকি! নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সাথে বিজিবির গোলাগুলি : ২ ডাকাত আটক কোরবানির পশুর নামকরণ ও ভূরাজনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রেমিকাকে উদ্ধারে গিয়ে প্রেমিকের ওপর চড়াও পুলিশ, লঙ্কাকাণ্ড ৪০০ জনকে ঔষুধসহ ফ্রি চিকিৎসা দিলো কর্মবীর

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়: মির্জা ফখরুল

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।