ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুর্গতদের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সরাকরি সহায়তা থেকে দূর্গত কোনো মানুষ বাদ পড়বেনা- চকরিয়ায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জননেতা নুরুল আবছারের ওপেন হার্ট সার্জারি সোমবার : দোয়া কামনা পেকুয়ায় চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের উদ্যোগে চলছে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ হাতকড়াসহ পালিয়েছে আসামি: ২১ ঘন্টায়ও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ জুড বেলিংহাম: জিদানের পর এমন বিশ্বকাপ কি আর কোনো মিডফিল্ডার খেলেছেন? প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী মুজিববর্ষ উদযাপনে খরচ ৯৮৩ কোটি টাকা : সংসদে অর্থমন্ত্রী সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক  ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা জুলাইয়ের আগে যা দেখেছিলাম জুলাইয়ের পরেও তা দেখি: সারজিস বৃষ্টি কমবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক টেকনাফে ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্য মা হাতিটির মৃত্যু সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গতদের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।