ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, এক নম্বর সতর্ক সংকেত ৩০ বছর পর সালমান শাহ’র লাশ উত্তোলন, ময়নাতদন্তে কি মিলবে মৃত্যুর রহস্য? সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ স্বামী স্ত্রী আটক ৩ দিন পার হলেও মিলেনি উখিয়ার আড়াই বছরের শিশু নুসাইবার সন্ধান বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৈকতে পর্যটকের সমাগম, ভিন্ন রূপে কক্সবাজার গর্জনিয়ায় বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি সক্রিয়করণ সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফের শামলাপুরে এলজিইডি সড়ক ভেঙে জনদুর্ভোগ, সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন মাসিক সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা কক্সবাজার পুলিশ সুপারের পেকুয়ায় গৃহবধূ কাজল হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ টেকনাফে ৩০ হাজার ইয়াবা ও ৪টি মোটরসাইকেলসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত বন্ধ কারখানা চালুতে বিনিয়োগকারীদের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের জার্সির পেছনে ১৮৯৩ লেখা কেন

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।