ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু রামুর প্রজ্ঞামিত্র বিহারে ৪০তম স্বর্গপুরী উৎসব : পুন্যার্থীর ঢল কক্সবাজারে শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রেং উৎসব ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে সাউথ কোরিয়া গেলেন লায়ন মো. মুজিবুর রহমান জমি পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- দ্রুত ঈদগাঁওতে আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হবে চসিক স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পাচ্ছেন কণ্ঠশিল্পী বুলবুল আকতার ফালংজিতে শুরু হলো “থানগ্রেং” পা ফোলা কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নানার বাড়ির পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে ৩ অপহৃত উদ্ধার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ মধ্যরাতে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং নাইক্ষ্যংছড়িতে সেতুর রেলিং থেকে পড়ে যুবকের প্রাণহানি

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে

শহীদ এটিএম জাফর : কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হওয়া কক্সবাজারের বীর সন্তান

আপডেট সময় : ১০:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানে শহীদ হন কক্সবাজারের সন্তান এটিএম জাফর আলম।

উখিয়ার শহীদ এটিএম জাফর আলমের আত্মত্যাগের কাহিনী নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি জান্তা বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে শুরু করে সবখানেই চলেছে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড। সেই ভয়াল রাতে কক্সবাজারের এই সূর্যসন্তান দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।

শহীদ এটিএম জাফর আলম ছিলেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের এক বীর সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ছিলেন। মৃত্তিকা বিজ্ঞান নিয়ে এম এ পাশও করেছিলেন।
হলদিয়া পালংয় ইউনিয়নের রুমখাঁ মাতবর পাড়া ​সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া জাফর আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহনও করেছিলেন এবং উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ইকবাল হলে আক্রমণ চালায়, জাফর আলম প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। হলের অন্যান্য ছাত্রদের সাথে তিনিও পাকবাহিনীর বুলেটের আঘাতে শাহাদাত বরণ করেন। হলে তার ৩০৩ নং রুমে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ার করে এবং জাফর আলম কে ব্যায়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে হলের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় তাঁর মগজ সিঁড়িতে লেগেছিলো বলে জানায় জাফর আলমের সহপাঠী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা।

শহীদ জাফর আলমকে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।

লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের নামকরণ করা হয় শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক নামে।

এ শহীদের নামে নিজগ্রামে চিকিৎসা কেন্দ্র, খুনিয়াপালংয়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের নাম এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষ নামে নামকরণ করা হয়।

​কক্সবাজারের এই বীর সন্তান ২৫ মার্চ কালরাতে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।