ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনসংখ্যা বাংলাদেশের অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ : শিক্ষামন্ত্রী গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিলে দাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক হাফিজ গর্জনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র ওয়াসিম নাপিতেরচর স্কুলে দাতা সদস্য নির্বাচিত ‘আমাকে মিস করছেন?’ বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পুরোনো ছকে ফিরছে ব্রাজিল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নয়, এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি এক রেলপথে যুক্ত হচ্ছে সৌদি, কুয়েত ও কাতারসহ ৬ দেশ কেমন ছিল বিশ্বকাপের প্রথম কিস্তি? মাতামুহুরীতে জামায়াতের জেলা আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী- জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা শিক্ষক রেজাউল করিমের মায়ের অনুপস্থিতিতে ১২ বছর বয়সী নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে রাস্তা পার হওয়ার সময় আইওএমের গাড়ির ধাক্কা, শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা টেকনাফে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু, বিচার দাবিতে পরিবারের আহাজারি

সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

মহেশখালীর পরিবেশ সংকটাপন্ন সোনাদিয়া দ্বীপে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)- এর নেতৃত্বে অবৈধ কটেজ উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে চলা এ অভিযানে বন বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন।

জানা যায়, মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে ম্যানগ্রোভ প্যারাবন ও ঝাউবনের ভেতর গড়ে ওঠা অবৈধ কটেজ ও পর্যটন স্থাপনা উচ্ছেদে এই অভিযান চালানো হয়।

এসময় সোনাদিয়া দ্বীপের ঝাউবন কেটে এবং বন বিভাগের খাসজমি দখল করে নির্মিত বেশ কয়েকটি কটেজ, বাঁশ–কাঠের শেড ও টিনশেড স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পর্যটকদের জন্য তৈরি কিছু অস্থায়ী কটেজের বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ–সংবেদনশীল এ দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির পরও এসব স্থাপনা সরানো না হওয়ায় অবশেষে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

পরিবেশ সংগঠন গুলোর দাবি সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়িঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদারের বরাত দিয়ে অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, “দ্বীপের পরিবেশ ও সরকারী জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি। কোনো অবৈধ কটেজ, ঘের বা স্থাপনা রাখা হবে না। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে এ অভিযান চলমান থাকবে,”।

এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানের খবরে সোনাদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ কটেজ মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আগেভাগে তাদের আসবাবপত্র ও ভাঙার মতো মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কেবল একদিনের অভিযানে সমাধান হবে না; দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া সোনাদিয়ার প্রকৃতি রক্ষা সম্ভব নয়। তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাদিয়ায় সব ধরনের নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও পুরোনো অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ করে দ্বীপটিকে প্রকৃতি–নির্ভর টেকসই পর্যটন বা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের এ উচ্ছেদ শেষে তালিকাভুক্ত সব অবৈধ কটেজ, চিংড়ি ও কাঁকড়া ঘের এবং বন দখলকারী স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে দূর থেকে জমি কিনে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে কাঠামো তুলে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। এবং পরবর্তীতে কোনো স্থাপনা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জনসংখ্যা বাংলাদেশের অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ : শিক্ষামন্ত্রী

সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

মহেশখালীর পরিবেশ সংকটাপন্ন সোনাদিয়া দ্বীপে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)- এর নেতৃত্বে অবৈধ কটেজ উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে চলা এ অভিযানে বন বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন।

জানা যায়, মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে ম্যানগ্রোভ প্যারাবন ও ঝাউবনের ভেতর গড়ে ওঠা অবৈধ কটেজ ও পর্যটন স্থাপনা উচ্ছেদে এই অভিযান চালানো হয়।

এসময় সোনাদিয়া দ্বীপের ঝাউবন কেটে এবং বন বিভাগের খাসজমি দখল করে নির্মিত বেশ কয়েকটি কটেজ, বাঁশ–কাঠের শেড ও টিনশেড স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পর্যটকদের জন্য তৈরি কিছু অস্থায়ী কটেজের বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ–সংবেদনশীল এ দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির পরও এসব স্থাপনা সরানো না হওয়ায় অবশেষে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

পরিবেশ সংগঠন গুলোর দাবি সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়িঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল।

জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদারের বরাত দিয়ে অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, “দ্বীপের পরিবেশ ও সরকারী জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি। কোনো অবৈধ কটেজ, ঘের বা স্থাপনা রাখা হবে না। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে এ অভিযান চলমান থাকবে,”।

এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানের খবরে সোনাদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ কটেজ মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আগেভাগে তাদের আসবাবপত্র ও ভাঙার মতো মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কেবল একদিনের অভিযানে সমাধান হবে না; দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া সোনাদিয়ার প্রকৃতি রক্ষা সম্ভব নয়। তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাদিয়ায় সব ধরনের নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও পুরোনো অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ করে দ্বীপটিকে প্রকৃতি–নির্ভর টেকসই পর্যটন বা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের এ উচ্ছেদ শেষে তালিকাভুক্ত সব অবৈধ কটেজ, চিংড়ি ও কাঁকড়া ঘের এবং বন দখলকারী স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে দূর থেকে জমি কিনে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে কাঠামো তুলে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। এবং পরবর্তীতে কোনো স্থাপনা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দেন।