ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা- মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে কি বলেছেন আইনমন্ত্রী? হারবাংয়ে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু ‘বাংলাদেশ শরীর গঠন ফেডারেশন’র অ্যাডহক কমিটির সদস্য হলেন কক্সবাজারের ইউসান রাখাইন ‘বাংলাদেশ শরীর গঠন ফেডারেশন’র অ্যাডহক কমিটির সদস্য হলেন কক্সবাজারের ইউসান রাখাইন কক্সবাজার মানি লন্ডারিং মামলার আসামি মিজান গ্রেফতার প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতায় রোহিঙ্গা সমাস্যার সমাধান সম্ভব নয় : শামা ওবায়েদ কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকা থেকে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যা মামলার আসামি আমিন গ্রেফতার প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে: ইসি সচিব মাতারবাড়ী প্রকল্পের সুফল স্থানীয়দের ঘরে পৌঁছাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সমবায়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের আহ্বান, লামায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত উখিয়ার থাইংখালীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ, ঝুঁকির মুখে সড়ক শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব আজ রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে: আইনমন্ত্রী মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন অ্যাডভোকেট রহিম উল্লাহ

পোস্টাল ভোট সম্পন্ন: কক্সবাজার–৩ এ সবচেয়ে বেশি ভোটগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ডাকযোগে ভোট বা পোস্টাল ব্যালটের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় মোট ২৮ হাজার ৭৩৪ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ২৮ হাজার ৬৩০ জনের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১০৪ জনের আবেদন বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়।

ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে মোট ২৮ হাজার ৬২৯টি পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার ৬৬৫টি ব্যালট ভোটারদের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। তবে সরবরাহজনিত জটিলতার কারণে ১৪৬টি ব্যালট বিতরণ করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো পুনরায় বিডি পোস্টে ফেরত আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০ হাজার ৭৮২ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন।

ভোট প্রদানের অগ্রগতিতে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ১৫০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে নির্ধারিত ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৯ হাজার ৬৬৩টি ব্যালট ভোটারদের পক্ষ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। পাশাপাশি ভোটারদের দ্বারা সরাসরি রিটার্নিং অফিসারদের কাছে প্রেরণ করা হয় ৪ হাজার ৪৪৩টি ব্যালট। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বমোট ১৬ হাজার ২১৯টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে সফলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

আসনভিত্তিক হিসাবে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ৯ হাজার ৬৩৫টি, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ৪ হাজার ২১২টি, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে ১০ হাজার ৯১৭টি এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৩ হাজার ৮৬৬টি পোস্টাল ভোট পড়েছে।চারটি আসনের মধ্যে কক্সবাজার–৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে সর্বাধিক পোস্টাল ভোট পড়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার পর কক্সবাজার ইনডোর স্টেডিয়ামে এসব পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। নিয়মিত ভোট গণনার আদলেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতি ৩০০ ভোটের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রার্থীরা চাইলে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কিংবা এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে ভোট গণনা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়া সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই শেষে ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট গণনা সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য আলাদা ব্যালটও গণনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান ছাড়াও মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা পোস্টাল ভোট প্রদান করেছেন।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কারাবন্দীরাও এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে কোন দেশ থেকে কতটি ভোট এসেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভোট গণনার পুরো কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং প্রার্থীরা স্বশরীরে কিংবা এজেন্টের মাধ্যমে গণনা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও, পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবে অনেক সম্ভাব্য ভোটার পোস্টাল ভোটে অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা- মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ

পোস্টাল ভোট সম্পন্ন: কক্সবাজার–৩ এ সবচেয়ে বেশি ভোটগ্রহণ

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ডাকযোগে ভোট বা পোস্টাল ব্যালটের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় মোট ২৮ হাজার ৭৩৪ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ২৮ হাজার ৬৩০ জনের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১০৪ জনের আবেদন বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়।

ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে মোট ২৮ হাজার ৬২৯টি পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার ৬৬৫টি ব্যালট ভোটারদের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। তবে সরবরাহজনিত জটিলতার কারণে ১৪৬টি ব্যালট বিতরণ করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো পুনরায় বিডি পোস্টে ফেরত আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০ হাজার ৭৮২ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন।

ভোট প্রদানের অগ্রগতিতে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ১৫০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে নির্ধারিত ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৯ হাজার ৬৬৩টি ব্যালট ভোটারদের পক্ষ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। পাশাপাশি ভোটারদের দ্বারা সরাসরি রিটার্নিং অফিসারদের কাছে প্রেরণ করা হয় ৪ হাজার ৪৪৩টি ব্যালট। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বমোট ১৬ হাজার ২১৯টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং অফিসারদের মাধ্যমে সফলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

আসনভিত্তিক হিসাবে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ৯ হাজার ৬৩৫টি, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ৪ হাজার ২১২টি, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে ১০ হাজার ৯১৭টি এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৩ হাজার ৮৬৬টি পোস্টাল ভোট পড়েছে।চারটি আসনের মধ্যে কক্সবাজার–৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে সর্বাধিক পোস্টাল ভোট পড়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার পর কক্সবাজার ইনডোর স্টেডিয়ামে এসব পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। নিয়মিত ভোট গণনার আদলেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতি ৩০০ ভোটের জন্য একজন করে সহায়ক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রার্থীরা চাইলে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কিংবা এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে ভোট গণনা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়া সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই শেষে ব্যালট বাক্স খোলা হবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট গণনা সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য আলাদা ব্যালটও গণনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান ছাড়াও মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা পোস্টাল ভোট প্রদান করেছেন।

একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কারাবন্দীরাও এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে কোন দেশ থেকে কতটি ভোট এসেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ভোট গণনার পুরো কার্যক্রম সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং প্রার্থীরা স্বশরীরে কিংবা এজেন্টের মাধ্যমে গণনা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও, পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবে অনেক সম্ভাব্য ভোটার পোস্টাল ভোটে অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।