ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খালেদা জিয়া সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অ্যাড. আহমেদ আযম খান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি ডেপুটি স্পিকার হলেন কায়সার কামাল ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ আজ জনআকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্রের পদযাত্রা শুরুর সংসদ: সালাহউদ্দিন আহমদ ইসরায়েল থেকে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার স্পেনের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ দ্বীপবর্তিকার ইফতার মাহফিল সম্পন্ন জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে কালিমার ক্যালিগ্রাফি টেকনাফে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেফতার, র‌্যাবের ২টি মোটরসাইকেলে আগুন উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ জন হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরসা সন্ত্রাসী গ্রেফতার

নাইক্ষ্যংছড়িতে আরাকান আর্মির তৎপরতায় উদ্বেগ বাড়ছে: আটক সুমিঅং দিলেন ভয়ঙ্কর তথ্য

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কিছু ব্যক্তি স্থানীয় যুবকদের মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মিতে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির (এএ) সদস্য সন্দেহে এক মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদেও ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মাসরুরুল হকের দিক নির্দেশনায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিমারাপাড়া পাহাড় এলাকা থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আরাকান আর্মির মাদক পাচার কাজে জড়িত সন্দেহে সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা (২৫) নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশ।

তার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আখিয়াব জেলার মংডু উপজেলার কালারডেবা এলাকার বাসিন্দা। বাবার নাম অংছিপু তঞ্চঙ্গ্যা।

পুলিশ জানায়, সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আরাকান আর্মির মাদক পাচার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে দুজন স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা যুবকের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন-উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মংজয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা পুনাউ তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে মংগ্যা তঞ্চঙ্গ্যা (২৫) এবং অপরজন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের হাতিমারা পাড়া এলাকার লংটু অং তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে লাইক্য মং তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫)।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমিঅং আরও জানান, এসব সহযোগীদের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০-৩০০ কার্ট বার্মিজ ইয়াবা পাচারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান, আরাকান আর্মির সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করানোর সময় স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা ও মার্মা সম্প্রদায়ের মাদক পাচারকারীদের সশস্ত্র পাহারা দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়া মিয়ানমারের আরাকান আর্মি স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা ও মার্মা যুবকদের মাদক পাচার কাজে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে প্রলুব্ধ ও উদ্বুদ্ধ করছে।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মিয়ানমার নাগরিক সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা স্বীকার করেন যে, হাতিমারাপাড়া এলাকায় তার কাছে ১০ কার্ড ইয়াবা এবং নিরাপদে মাদক পাচার করার জন্য আরাকান আর্মির সরবরাহকৃত একটি অগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তার এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য বা অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসময় তিনি জানান, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই উল্লেখিত তার সহযোগীরা ইয়াবা ও অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ওসি মাসরুরুল হক বলেন, আটক মিয়ানমার নাগরিকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তঃসীমান্ত মাদক চক্র সম্পর্কে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের কোনো নাগরিককে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগ :

নাইক্ষ্যংছড়িতে আরাকান আর্মির তৎপরতায় উদ্বেগ বাড়ছে: আটক সুমিঅং দিলেন ভয়ঙ্কর তথ্য

আপডেট সময় : ১০:৪০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কিছু ব্যক্তি স্থানীয় যুবকদের মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মিতে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির (এএ) সদস্য সন্দেহে এক মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদেও ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মাসরুরুল হকের দিক নির্দেশনায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিমারাপাড়া পাহাড় এলাকা থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আরাকান আর্মির মাদক পাচার কাজে জড়িত সন্দেহে সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা (২৫) নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশ।

তার বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আখিয়াব জেলার মংডু উপজেলার কালারডেবা এলাকার বাসিন্দা। বাবার নাম অংছিপু তঞ্চঙ্গ্যা।

পুলিশ জানায়, সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আরাকান আর্মির মাদক পাচার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে দুজন স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা যুবকের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন-উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মংজয়পাড়া এলাকার বাসিন্দা পুনাউ তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে মংগ্যা তঞ্চঙ্গ্যা (২৫) এবং অপরজন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের হাতিমারা পাড়া এলাকার লংটু অং তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে লাইক্য মং তঞ্চঙ্গ্যা (৩৫)।

জিজ্ঞাসাবাদে সুমিঅং আরও জানান, এসব সহযোগীদের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০-৩০০ কার্ট বার্মিজ ইয়াবা পাচারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান, আরাকান আর্মির সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করানোর সময় স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা ও মার্মা সম্প্রদায়ের মাদক পাচারকারীদের সশস্ত্র পাহারা দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়া মিয়ানমারের আরাকান আর্মি স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা ও মার্মা যুবকদের মাদক পাচার কাজে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে প্রলুব্ধ ও উদ্বুদ্ধ করছে।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মিয়ানমার নাগরিক সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা স্বীকার করেন যে, হাতিমারাপাড়া এলাকায় তার কাছে ১০ কার্ড ইয়াবা এবং নিরাপদে মাদক পাচার করার জন্য আরাকান আর্মির সরবরাহকৃত একটি অগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তার এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য বা অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসময় তিনি জানান, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই উল্লেখিত তার সহযোগীরা ইয়াবা ও অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ওসি মাসরুরুল হক বলেন, আটক মিয়ানমার নাগরিকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তঃসীমান্ত মাদক চক্র সম্পর্কে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের কোনো নাগরিককে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।