ঢাকা ০৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, পুনর্বাসনের আশ্বাস জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটিকে স্বাগত, আশাবাদী রোহিঙ্গারা বৃহত্তর গর্জনিয়ায় বানভাসীদের মাঝে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ত্রাণ বিতরণ করলেন ডিসি ও ইউএনও ভেসে গেছে ৩ হাজার ৯১৮ পুকুর-ঘেরের মাছ, ক্ষতি ৪৬ কোটি টাকা কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা “বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাই মানুষের প্রতি দায় আছে”- কক্সবাজারে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার: টেন্ডার সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে ‘রয়েল নাসির’ ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাশেদ-এর ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিব বন্যার্তদের পাশে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল,রামুতে দেড় হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জননেতা নুরুল আবছারের ওপেন হার্ট সার্জারি সোমবারের বদলে হবে বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজার জেলা যুবদলের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম

৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং নয়াপাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন, সাবরাং নয়াপাড়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান, নুরুল ইসলামের ছেলে আবদুল মতলব, মকবুল আহমেদের ছেলে গুরা মিয়া, আব্দুস সালামের ছেলে মো. হাসান এবং শাহপরীরদ্বীপ ডেইলপাড়ার আহমদ আলী, নুরুল আবসার ও আবদুর রহিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে জেলেরা নাফ নদে মাছ ধরতে যান। দুপুরে মাছ ধরে ফেরার পথে হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের নৌকাসহ জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, “জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরতে নদীতে যান। আজও ভোরে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যায়।”

আটক জেলে আহমদ আলীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, “আমার স্বামীসহ তিনজনকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা খুব গরিব মানুষ। সে মাছ ধরে যা আয় করে, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তাকে না পেলে আমরা বাঁচব কিভাবে?”

নৌকার মালিক আব্দুস শুক্কুর বলেন, “আমার নৌকায় নিয়ে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিওপি কমান্ডারকে বিস্তারিত জানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাচাই শেষে জেলেদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ বলেন, “জেলেদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে কোস্ট গার্ড ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

এ ঘটনায় জেলেদের স্বজনদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সীমান্তে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং নয়াপাড়া ও শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদী থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আটক জেলেরা হলেন, সাবরাং নয়াপাড়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান, নুরুল ইসলামের ছেলে আবদুল মতলব, মকবুল আহমেদের ছেলে গুরা মিয়া, আব্দুস সালামের ছেলে মো. হাসান এবং শাহপরীরদ্বীপ ডেইলপাড়ার আহমদ আলী, নুরুল আবসার ও আবদুর রহিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে জেলেরা নাফ নদে মাছ ধরতে যান। দুপুরে মাছ ধরে ফেরার পথে হঠাৎ করে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের নৌকাসহ জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, “জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরতে নদীতে যান। আজও ভোরে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যায়।”

আটক জেলে আহমদ আলীর স্ত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, “আমার স্বামীসহ তিনজনকে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা খুব গরিব মানুষ। সে মাছ ধরে যা আয় করে, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তাকে না পেলে আমরা বাঁচব কিভাবে?”

নৌকার মালিক আব্দুস শুক্কুর বলেন, “আমার নৌকায় নিয়ে তারা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিওপি কমান্ডারকে বিস্তারিত জানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাচাই শেষে জেলেদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ বলেন, “জেলেদের আটকের খবর পাওয়া গেছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে কোস্ট গার্ড ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

এ ঘটনায় জেলেদের স্বজনদের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সীমান্তে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।