ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে সৌদিতে দেখা গেছে মুহাররমের চাঁদ, শুরু হলো ১৪৪৮ হিজরি নেইমারকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

১৮২ জন বাংলাদেশী জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে: ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার নীতি মানছেনা

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • 468

বাংলাদেশের ১৮২ জন জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে। এ পরিসংখ্যান টেকনাফের স্থানীয় বোট মালিকদের।

তারা বলছেন,সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সেন্টমার্টিনের সাগর থেকে ধরে নিয়ে যায় ১২ জেলেকে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ১৭০ জনসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮২। যার মধ্যে সেন্টমার্টিনের রয়েছে ৩০ জন।

সরেজমিনে সেন্টমার্টিন গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়া জেলে ওসমানের মা মোস্তফা খাতুন কাঁদছে অঝোর নয়নে।ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি,একদিকে ছেলের জন্যে দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই, অন্যদিকে ঘরের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে না থাকায় দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে।

সেন্টমার্টিনের পশ্চিমপাড়ার আবু তাহেরও ছিলেন ওসমানের সাথে। তাকেও ধরে নিয়ে গেছে। তাহেরের ছেলে শাহীন বলেন, কিছুদিন আগে হারিয়েছি মাকে, এবার বাবাকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি, এখন দিশেহারা হয়ে গেছি।

কেবল ওসমান বা তাহেরের পরিবারে নয়, কান্নার রোল পড়েছে এরকম ১২ টি পরিবারে। যাদের ২৭ নভেম্বর সকালে সাগর থেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।

ধরে নিয়ে যাওয়া বোটের মালিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান,ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ৬ মাঝিমাল্লা নিয়ে বোটটি সাগরে ভাসছিলো,এমন সময় আরাকান আর্মি এসে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তিনি জানান,এসময় আরেকটি বোটও ধরে নিয়ে যায়,সেখানেও ৬ জন মাঝিমাল্লা ছিলো।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন,এমন কান্ড বিগত দিনে ছিলো না। আরাকান আর্মি রাখাইনে অবস্থান নেয়ার পর থেকেই শুরু হয় এ উৎপাত।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের মানুষ পর্যটন আর সাগরে মাছ শিকার করে জীবন চালায়। এখন পর্যটক আগমনে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা আবার সাগরে আরাকান আর্মির উৎপাত,কোথায় যাবে দ্বীপের মানুষ গুলো।

আরাকান আর্মির বরাতে সেদেশের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট আরাকান গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশী জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেয়া ব্যাখ্যায় বলছে জলসীমা লংঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জলসীমা লংঘনের অভিযোগ আপেক্ষিক এবং এটি কখনও কখনও অসত্যও বটে। তাদের মতে জলসীমা লংঘিত হলো কি না বিষয়টি নির্ধারনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে বহুমাত্রিক আলোচনার দাবী রাখে। যদি জলসীমা কেউ লংঘন করলেও তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত। যদিও ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলােদশী জেলেদের কয়েক দফা ফেরত দিয়েছে তবে, তা সংখ্যায় নগন্য।

অন্যদিকে দুই দেশের জলসীমার মধ্যে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহারের অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার করে আসছিলো। ইনোসেন্ট প্যাসেজ হলো একই নদী বা সমুদ্রে জলসীমা থাকলে পার্শ্ববর্তী দেশ অপর দেশের জলসীমা ব্যবহার করে তার নিজের দেশের অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করতে পারে মারনাস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্র পরিবহন ব্যতিরেকে। কিন্তু আরাকান আর্মি রাখাইনের এ অঞ্চল অধিকারে নেয়ার পর তা মানছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় মানবাধিকার ও সংবাদকর্মী অর্পণ বড়ুয়ার।

এদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশী জেলেদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে সরকারে প্রতি আহবান জানিয়েছে জেলে পরিবারের সদস্যরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

১৮২ জন বাংলাদেশী জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে: ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার নীতি মানছেনা

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের ১৮২ জন জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে। এ পরিসংখ্যান টেকনাফের স্থানীয় বোট মালিকদের।

তারা বলছেন,সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সেন্টমার্টিনের সাগর থেকে ধরে নিয়ে যায় ১২ জেলেকে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ১৭০ জনসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮২। যার মধ্যে সেন্টমার্টিনের রয়েছে ৩০ জন।

সরেজমিনে সেন্টমার্টিন গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়া জেলে ওসমানের মা মোস্তফা খাতুন কাঁদছে অঝোর নয়নে।ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি,একদিকে ছেলের জন্যে দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই, অন্যদিকে ঘরের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে না থাকায় দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে।

সেন্টমার্টিনের পশ্চিমপাড়ার আবু তাহেরও ছিলেন ওসমানের সাথে। তাকেও ধরে নিয়ে গেছে। তাহেরের ছেলে শাহীন বলেন, কিছুদিন আগে হারিয়েছি মাকে, এবার বাবাকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি, এখন দিশেহারা হয়ে গেছি।

কেবল ওসমান বা তাহেরের পরিবারে নয়, কান্নার রোল পড়েছে এরকম ১২ টি পরিবারে। যাদের ২৭ নভেম্বর সকালে সাগর থেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।

ধরে নিয়ে যাওয়া বোটের মালিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান,ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ৬ মাঝিমাল্লা নিয়ে বোটটি সাগরে ভাসছিলো,এমন সময় আরাকান আর্মি এসে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তিনি জানান,এসময় আরেকটি বোটও ধরে নিয়ে যায়,সেখানেও ৬ জন মাঝিমাল্লা ছিলো।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন,এমন কান্ড বিগত দিনে ছিলো না। আরাকান আর্মি রাখাইনে অবস্থান নেয়ার পর থেকেই শুরু হয় এ উৎপাত।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের মানুষ পর্যটন আর সাগরে মাছ শিকার করে জীবন চালায়। এখন পর্যটক আগমনে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা আবার সাগরে আরাকান আর্মির উৎপাত,কোথায় যাবে দ্বীপের মানুষ গুলো।

আরাকান আর্মির বরাতে সেদেশের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট আরাকান গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশী জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেয়া ব্যাখ্যায় বলছে জলসীমা লংঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জলসীমা লংঘনের অভিযোগ আপেক্ষিক এবং এটি কখনও কখনও অসত্যও বটে। তাদের মতে জলসীমা লংঘিত হলো কি না বিষয়টি নির্ধারনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে বহুমাত্রিক আলোচনার দাবী রাখে। যদি জলসীমা কেউ লংঘন করলেও তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত। যদিও ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলােদশী জেলেদের কয়েক দফা ফেরত দিয়েছে তবে, তা সংখ্যায় নগন্য।

অন্যদিকে দুই দেশের জলসীমার মধ্যে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহারের অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার করে আসছিলো। ইনোসেন্ট প্যাসেজ হলো একই নদী বা সমুদ্রে জলসীমা থাকলে পার্শ্ববর্তী দেশ অপর দেশের জলসীমা ব্যবহার করে তার নিজের দেশের অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করতে পারে মারনাস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্র পরিবহন ব্যতিরেকে। কিন্তু আরাকান আর্মি রাখাইনের এ অঞ্চল অধিকারে নেয়ার পর তা মানছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় মানবাধিকার ও সংবাদকর্মী অর্পণ বড়ুয়ার।

এদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশী জেলেদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে সরকারে প্রতি আহবান জানিয়েছে জেলে পরিবারের সদস্যরা।