ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মৃত্যুর বর্ষণ: কক্সবাজার-নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ১১ বৃষ্টি বাধ সাধেনি: শেষ হলো এইচএসসি ও সমমানের তৃতীয় দিনের পরীক্ষা, নকলের দায়ে বহিস্কৃত ২ টানা বৃষ্টিতে লামার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : প্রশাসনের সতর্কতা জারি লোহাগাড়ায় টানা বৃষ্টি :পানিবন্দী অসংখ্য মানুষ সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ বৈরী আবহাওয়ায় মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ জামায়াতকে সাধুবাদ, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই: রুমিন ফারহানা কক্সবাজার ফিশারী ঘাটে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং স্টেশন : মৎস্য খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেকুয়ায় পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে

১৮২ জন বাংলাদেশী জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে: ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার নীতি মানছেনা

  • নোমান অরুপ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • 473

বাংলাদেশের ১৮২ জন জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে। এ পরিসংখ্যান টেকনাফের স্থানীয় বোট মালিকদের।

তারা বলছেন,সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সেন্টমার্টিনের সাগর থেকে ধরে নিয়ে যায় ১২ জেলেকে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ১৭০ জনসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮২। যার মধ্যে সেন্টমার্টিনের রয়েছে ৩০ জন।

সরেজমিনে সেন্টমার্টিন গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়া জেলে ওসমানের মা মোস্তফা খাতুন কাঁদছে অঝোর নয়নে।ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি,একদিকে ছেলের জন্যে দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই, অন্যদিকে ঘরের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে না থাকায় দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে।

সেন্টমার্টিনের পশ্চিমপাড়ার আবু তাহেরও ছিলেন ওসমানের সাথে। তাকেও ধরে নিয়ে গেছে। তাহেরের ছেলে শাহীন বলেন, কিছুদিন আগে হারিয়েছি মাকে, এবার বাবাকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি, এখন দিশেহারা হয়ে গেছি।

কেবল ওসমান বা তাহেরের পরিবারে নয়, কান্নার রোল পড়েছে এরকম ১২ টি পরিবারে। যাদের ২৭ নভেম্বর সকালে সাগর থেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।

ধরে নিয়ে যাওয়া বোটের মালিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান,ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ৬ মাঝিমাল্লা নিয়ে বোটটি সাগরে ভাসছিলো,এমন সময় আরাকান আর্মি এসে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তিনি জানান,এসময় আরেকটি বোটও ধরে নিয়ে যায়,সেখানেও ৬ জন মাঝিমাল্লা ছিলো।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন,এমন কান্ড বিগত দিনে ছিলো না। আরাকান আর্মি রাখাইনে অবস্থান নেয়ার পর থেকেই শুরু হয় এ উৎপাত।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের মানুষ পর্যটন আর সাগরে মাছ শিকার করে জীবন চালায়। এখন পর্যটক আগমনে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা আবার সাগরে আরাকান আর্মির উৎপাত,কোথায় যাবে দ্বীপের মানুষ গুলো।

আরাকান আর্মির বরাতে সেদেশের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট আরাকান গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশী জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেয়া ব্যাখ্যায় বলছে জলসীমা লংঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জলসীমা লংঘনের অভিযোগ আপেক্ষিক এবং এটি কখনও কখনও অসত্যও বটে। তাদের মতে জলসীমা লংঘিত হলো কি না বিষয়টি নির্ধারনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে বহুমাত্রিক আলোচনার দাবী রাখে। যদি জলসীমা কেউ লংঘন করলেও তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত। যদিও ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলােদশী জেলেদের কয়েক দফা ফেরত দিয়েছে তবে, তা সংখ্যায় নগন্য।

অন্যদিকে দুই দেশের জলসীমার মধ্যে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহারের অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার করে আসছিলো। ইনোসেন্ট প্যাসেজ হলো একই নদী বা সমুদ্রে জলসীমা থাকলে পার্শ্ববর্তী দেশ অপর দেশের জলসীমা ব্যবহার করে তার নিজের দেশের অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করতে পারে মারনাস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্র পরিবহন ব্যতিরেকে। কিন্তু আরাকান আর্মি রাখাইনের এ অঞ্চল অধিকারে নেয়ার পর তা মানছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় মানবাধিকার ও সংবাদকর্মী অর্পণ বড়ুয়ার।

এদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশী জেলেদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে সরকারে প্রতি আহবান জানিয়েছে জেলে পরিবারের সদস্যরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুর বর্ষণ: কক্সবাজার-নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ১১

১৮২ জন বাংলাদেশী জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে: ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার নীতি মানছেনা

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের ১৮২ জন জেলে বন্দি আরাকান আর্মির হাতে। এ পরিসংখ্যান টেকনাফের স্থানীয় বোট মালিকদের।

তারা বলছেন,সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সেন্টমার্টিনের সাগর থেকে ধরে নিয়ে যায় ১২ জেলেকে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ১৭০ জনসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮২। যার মধ্যে সেন্টমার্টিনের রয়েছে ৩০ জন।

সরেজমিনে সেন্টমার্টিন গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়া জেলে ওসমানের মা মোস্তফা খাতুন কাঁদছে অঝোর নয়নে।ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি,একদিকে ছেলের জন্যে দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই, অন্যদিকে ঘরের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে না থাকায় দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে।

সেন্টমার্টিনের পশ্চিমপাড়ার আবু তাহেরও ছিলেন ওসমানের সাথে। তাকেও ধরে নিয়ে গেছে। তাহেরের ছেলে শাহীন বলেন, কিছুদিন আগে হারিয়েছি মাকে, এবার বাবাকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি, এখন দিশেহারা হয়ে গেছি।

কেবল ওসমান বা তাহেরের পরিবারে নয়, কান্নার রোল পড়েছে এরকম ১২ টি পরিবারে। যাদের ২৭ নভেম্বর সকালে সাগর থেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।

ধরে নিয়ে যাওয়া বোটের মালিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান,ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ৬ মাঝিমাল্লা নিয়ে বোটটি সাগরে ভাসছিলো,এমন সময় আরাকান আর্মি এসে তাদের ধরে নিয়ে যায়। তিনি জানান,এসময় আরেকটি বোটও ধরে নিয়ে যায়,সেখানেও ৬ জন মাঝিমাল্লা ছিলো।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন,এমন কান্ড বিগত দিনে ছিলো না। আরাকান আর্মি রাখাইনে অবস্থান নেয়ার পর থেকেই শুরু হয় এ উৎপাত।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের মানুষ পর্যটন আর সাগরে মাছ শিকার করে জীবন চালায়। এখন পর্যটক আগমনে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা আবার সাগরে আরাকান আর্মির উৎপাত,কোথায় যাবে দ্বীপের মানুষ গুলো।

আরাকান আর্মির বরাতে সেদেশের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট আরাকান গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশী জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেয়া ব্যাখ্যায় বলছে জলসীমা লংঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জলসীমা লংঘনের অভিযোগ আপেক্ষিক এবং এটি কখনও কখনও অসত্যও বটে। তাদের মতে জলসীমা লংঘিত হলো কি না বিষয়টি নির্ধারনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে বহুমাত্রিক আলোচনার দাবী রাখে। যদি জলসীমা কেউ লংঘন করলেও তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত। যদিও ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলােদশী জেলেদের কয়েক দফা ফেরত দিয়েছে তবে, তা সংখ্যায় নগন্য।

অন্যদিকে দুই দেশের জলসীমার মধ্যে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহারের অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ইনোসেন্ট প্যাসেজ ব্যবহার করে আসছিলো। ইনোসেন্ট প্যাসেজ হলো একই নদী বা সমুদ্রে জলসীমা থাকলে পার্শ্ববর্তী দেশ অপর দেশের জলসীমা ব্যবহার করে তার নিজের দেশের অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করতে পারে মারনাস্ত্র ও যুদ্ধাস্ত্র পরিবহন ব্যতিরেকে। কিন্তু আরাকান আর্মি রাখাইনের এ অঞ্চল অধিকারে নেয়ার পর তা মানছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় মানবাধিকার ও সংবাদকর্মী অর্পণ বড়ুয়ার।

এদিকে ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশী জেলেদের দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে সরকারে প্রতি আহবান জানিয়েছে জেলে পরিবারের সদস্যরা।