পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী এবং বঙ্গ বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথের দুদিন পর সোমবার প্রথমবার সচিবালয় নবান্নে প্রবেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
সকাল থেকে একের পর দলীয় কর্মসূচি সেরে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয় থেকে বেলা ১১টা ৩৫ নাগাদ শুভেন্দু পৌঁছান নবান্নতে। সেখানেই তাকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়। তারপরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাসহ একাধিক ইস্যুতে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ইতোমধ্যেই বৈঠকের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব শ্রীমতী সঙ্ঘামিত্রা ঘোষ, রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করলাম।
‘পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রাজ্যের জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি সুনিশ্চিত করাই প্রাথমিকভাবে সরকারের অগ্রাধিকার।’
সোমবার নবান্নে এরপর আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুর ১২টায় নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ১টা নাগাদ বৈঠক শুরু করেন ২৩ জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে। এরপর বিকাল ৪টায় নবান্নে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। যদিও তার আগে শুভেন্দু অংশ নেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার বিষয়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু।
তিনি জানান, আপনারা যে গুরুদায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে দিয়েছেন। সংবিধান প্রণেতা আম্বেদকরের ভাষা, ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অব দ্য পিপল হিসেবে চলবে। আমরা প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছি। মন্ত্রিসভায় আমার পাঁচজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থ উপস্থিত ছিলেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবে।
প্রথমত, দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন দেখল দেশের মানুষ। এই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সব প্রার্থীদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই ৩২১ জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এরপরই শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গেছে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আজ থেকেই জমি ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বিএসএফ যতটা জমি চেয়েছে ততটা জমি দেয়া হবে। আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য ভূমি দপ্তরকে কাজ করতে দেয়নি। আমরা ভূমি দপ্তরকে আজ থেকেই রেডি থাকা জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া করতে বলেছি। আগের সরকারের মতো আলাপ করা প্রশ্নোত্তরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বা তার ক্যাবিনেট যাবে না।
সূত্র : স্টার নিউজ
টিটিএন ডেস্ক: 
























