ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাইয়ের আগে যা দেখেছিলাম জুলাইয়ের পরেও তা দেখি: সারজিস বৃষ্টি কমবে কবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক টেকনাফে ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে আহত বন্য মা হাতিটির মৃত্যু সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন কক্সবাজারের বন্যার্তদের মাঝে জেলা ছাত্রদলের শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ পাহাড়ধস : রান্না ঘরে প্রাণ গেলো কলাতলীর গৃহবধূ রোজিনার চকরিয়া-মাতামুহুরীতে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির সংকট পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ইয়াবা লুট চক্রের রবিউল ইসলাম বাবুর নতুন কৌশল! তথ্য উদ্ধারকারী জিল্লুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা : স্বীকার করলেন ওসি চকরিয়ার কৈয়ারবিলে বন্যার পানিতে কিশোর নিখোঁজ পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটির দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পেকুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ বালুখালীতে মহাসড়কের উপর ‘অবৈধ’ পানের হাট, জনভোগান্তি

সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বহুল আলোচিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. হেলাল উদ্দিন, নুরুল আমিন, মো. নাছির উদ্দিন ও মোর্শেদ আলম। তাদের মধ্যে মোর্শেদ আলম পলাতক রয়েছেন। তারা সবাই চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার আগ থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে আদালত ভবন থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় এবং কড়া পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় সাধারণ মানুষ, নিহত সেনা কর্মকর্তার স্বজন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। রায় ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে ছিল থমথমে পরিবেশ।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছেন, “১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।”

আদালত সূত্র জানায়, এ মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে এজাহারভুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ছিলেন- জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন (২৩)। ওই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনা হয়।

ঘটনার দুই দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় চকরিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করেন। পরে তদন্তভার পান চকরিয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।

মামলার শুরু থেকেই এটি দেশব্যাপী আলোচিত ছিল। নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের পরিবারের সদস্যরা আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের আগে যা দেখেছিলাম জুলাইয়ের পরেও তা দেখি: সারজিস

সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ১২:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বহুল আলোচিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. হেলাল উদ্দিন, নুরুল আমিন, মো. নাছির উদ্দিন ও মোর্শেদ আলম। তাদের মধ্যে মোর্শেদ আলম পলাতক রয়েছেন। তারা সবাই চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার আগ থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত প্রাঙ্গণে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের একে একে আদালত ভবন থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় এবং কড়া পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় সাধারণ মানুষ, নিহত সেনা কর্মকর্তার স্বজন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। রায় ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে ছিল থমথমে পরিবেশ।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলায়ও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছেন, “১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।”

আদালত সূত্র জানায়, এ মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে এজাহারভুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ছিলেন- জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ, আনোয়ার হাকিম, জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, শাহ আলম, আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন (২৩)। ওই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক আলোচনা হয়।

ঘটনার দুই দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় চকরিয়া থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা করেন। পরে তদন্তভার পান চকরিয়া থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী।

মামলার শুরু থেকেই এটি দেশব্যাপী আলোচিত ছিল। নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের পরিবারের সদস্যরা আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।