ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক মক্কা-মদিনার প্রশ্নে আপস নয়, মক্কা প‌্যা‌ক্টে যোগ দি‌তে আগ্রহী বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আটক ৩ ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ ট্রাম্পের নেভি-ব্লু স্যুট তৈরি নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে সাগরে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস শখের মাছ চাষে বিষ প্রয়োগ, লাখ টাকার ক্ষতি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের মৃত্যু হোয়াইক্যংয়ে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে চালক নিহত, নারীসহ আহত ৫ আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের সূচনায় শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু কক্সবাজারে বিপাকে সেই টুকু দ্য আগলি, স্কুটিতেও গুণেছেন ১৮ হাজার জরিমানা! সৌদি আরবে মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর দেশে এলো মনছুর আলমের মরদেহ, সকাল ১১টায় জানাজা গোমাতলী ভূমিহীন কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে ইউএনওর ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে ৯ অক্টোবরের সংবাদ! কক্সবাজারের সমালোচনা হোক, অপপ্রচার নয় রামুতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

লবণ চাষীদের গলা কাটছে ইজারাদার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকায় লবণ গুদিতে অতিরিক্ত টেক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে জোরপূর্বক ৩ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরালখালী পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নুরুল আজম লবণ গুদি লিজ নেওয়ার নামে চাষীদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। তার পক্ষে ৮-৯ জন ব্যক্তি গুদিতে অবস্থান করে প্রতিমণ লবণ থেকে ৩ টাকা করে আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লবণ চাষীরা জানান, কোরালখালী এলাকায় প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। আগে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও এখন ৩ টাকা করে আদায় করায় চাষীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমণ ১ টাকা করে নিলেও বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আদায় সম্ভব। কিন্তু ৩ টাকা করে নিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ টাকায়।

চাষীরা আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে। অথচ উৎপাদন খরচই ২১০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ হলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত টেক্স আদায় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নুরুল আজম লবণ গুদি নিজের নামে লিজ নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে এই ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও সাহারবিল ইউনিয়নের আওতাধীন এগারো একর লবণ গুদি, চিলখালী লবণ গুদি এবং দুই নম্বর হোল্টার ও ৬১ প্লটের লবণ গুদিতেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আজম নিজেকে ওই লবণ গুদির লিজগ্রহীতা নন বলে দাবি করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে (স্মারক নং–২০২৫-৮৯, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫) তার নামই লিজগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম সোনামিয়া বলেন, “কোরালখালী লবণ গুদি যথাযথ নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল আজম নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে লিজ নিয়েছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের অনেককেই জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লবণ গুদি ইজারা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লবণ চাষীদের গলা কাটছে ইজারাদার

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকায় লবণ গুদিতে অতিরিক্ত টেক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে জোরপূর্বক ৩ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরালখালী পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নুরুল আজম লবণ গুদি লিজ নেওয়ার নামে চাষীদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। তার পক্ষে ৮-৯ জন ব্যক্তি গুদিতে অবস্থান করে প্রতিমণ লবণ থেকে ৩ টাকা করে আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লবণ চাষীরা জানান, কোরালখালী এলাকায় প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। আগে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও এখন ৩ টাকা করে আদায় করায় চাষীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমণ ১ টাকা করে নিলেও বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আদায় সম্ভব। কিন্তু ৩ টাকা করে নিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ টাকায়।

চাষীরা আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে। অথচ উৎপাদন খরচই ২১০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ হলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত টেক্স আদায় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নুরুল আজম লবণ গুদি নিজের নামে লিজ নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে এই ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও সাহারবিল ইউনিয়নের আওতাধীন এগারো একর লবণ গুদি, চিলখালী লবণ গুদি এবং দুই নম্বর হোল্টার ও ৬১ প্লটের লবণ গুদিতেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আজম নিজেকে ওই লবণ গুদির লিজগ্রহীতা নন বলে দাবি করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে (স্মারক নং–২০২৫-৮৯, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫) তার নামই লিজগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম সোনামিয়া বলেন, “কোরালখালী লবণ গুদি যথাযথ নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল আজম নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে লিজ নিয়েছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের অনেককেই জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লবণ গুদি ইজারা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”