ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা রোনালদো বললেন, মেসিই সর্বকালের সেরা হজের খরচ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী মানবিক সহায়তা জোরদার ও নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের সমঝোতার পরই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের ১১ জাহাজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী শিশু ওয়াহিদ হ-ত্যা: বিক্ষোভে ফুঁসছে চকরিয়া, আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবে না আইনজীবীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ঈদগাঁওয়ের যুবকের মৃত্যু, আহত ১ কুতুবদিয়ায় জামায়াত আমীর আনোয়ারী – ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে” চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার আপত্তিকর ভিডিও প্রচারের অভিযোগে কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী বহিষ্কার জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল

লবণ চাষীদের গলা কাটছে ইজারাদার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকায় লবণ গুদিতে অতিরিক্ত টেক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে জোরপূর্বক ৩ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরালখালী পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নুরুল আজম লবণ গুদি লিজ নেওয়ার নামে চাষীদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। তার পক্ষে ৮-৯ জন ব্যক্তি গুদিতে অবস্থান করে প্রতিমণ লবণ থেকে ৩ টাকা করে আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লবণ চাষীরা জানান, কোরালখালী এলাকায় প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। আগে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও এখন ৩ টাকা করে আদায় করায় চাষীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমণ ১ টাকা করে নিলেও বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আদায় সম্ভব। কিন্তু ৩ টাকা করে নিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ টাকায়।

চাষীরা আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে। অথচ উৎপাদন খরচই ২১০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ হলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত টেক্স আদায় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নুরুল আজম লবণ গুদি নিজের নামে লিজ নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে এই ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও সাহারবিল ইউনিয়নের আওতাধীন এগারো একর লবণ গুদি, চিলখালী লবণ গুদি এবং দুই নম্বর হোল্টার ও ৬১ প্লটের লবণ গুদিতেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আজম নিজেকে ওই লবণ গুদির লিজগ্রহীতা নন বলে দাবি করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে (স্মারক নং–২০২৫-৮৯, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫) তার নামই লিজগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম সোনামিয়া বলেন, “কোরালখালী লবণ গুদি যথাযথ নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল আজম নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে লিজ নিয়েছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের অনেককেই জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লবণ গুদি ইজারা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা

লবণ চাষীদের গলা কাটছে ইজারাদার

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকায় লবণ গুদিতে অতিরিক্ত টেক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে জোরপূর্বক ৩ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরালখালী পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নুরুল আজম লবণ গুদি লিজ নেওয়ার নামে চাষীদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। তার পক্ষে ৮-৯ জন ব্যক্তি গুদিতে অবস্থান করে প্রতিমণ লবণ থেকে ৩ টাকা করে আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লবণ চাষীরা জানান, কোরালখালী এলাকায় প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। আগে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও এখন ৩ টাকা করে আদায় করায় চাষীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমণ ১ টাকা করে নিলেও বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আদায় সম্ভব। কিন্তু ৩ টাকা করে নিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ টাকায়।

চাষীরা আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে। অথচ উৎপাদন খরচই ২১০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ হলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত টেক্স আদায় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নুরুল আজম লবণ গুদি নিজের নামে লিজ নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে এই ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও সাহারবিল ইউনিয়নের আওতাধীন এগারো একর লবণ গুদি, চিলখালী লবণ গুদি এবং দুই নম্বর হোল্টার ও ৬১ প্লটের লবণ গুদিতেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আজম নিজেকে ওই লবণ গুদির লিজগ্রহীতা নন বলে দাবি করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে (স্মারক নং–২০২৫-৮৯, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫) তার নামই লিজগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম সোনামিয়া বলেন, “কোরালখালী লবণ গুদি যথাযথ নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল আজম নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে লিজ নিয়েছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের অনেককেই জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লবণ গুদি ইজারা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”