ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লিংকরোডে সড়ক দুর্ঘটনায় আলী আহমদ কোম্পানির মৃত্যু সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে কক্সবাজারে ভরতনাট্যম নৃত্যের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু অপহরণের নাটক সাজিয়ে ২২ দিন আত্মগোপন : আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার ঈদগাঁওয়ে অবৈধ বালুমহালে পৃথক অভিযান, তিনটি মেশিন জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা মিয়ানমারের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল টেকনাফের হ্নীলা-হোয়াইক্যং সীমান্ত সমুদ্রভ্রমণ থেকে অ’গ্নি’দ’গ্ধ দুঃস্বপ্ন, ১১ দিন পর দাদার কবরের পাশে মুক্তা মহেশখালীতে অস্ত্রসহ মালেককে আটকের দাবি পুলিশের “আহমদ গিয়াস থেকে যাবে, তাঁর না থাকা জুড়ে” রামুতে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার দেশে ৪ কোটি ১৬ লাখ মানুষ সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে না সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি

লবণ চাষীদের গলা কাটছে ইজারাদার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকায় লবণ গুদিতে অতিরিক্ত টেক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে জোরপূর্বক ৩ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরালখালী পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নুরুল আজম লবণ গুদি লিজ নেওয়ার নামে চাষীদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। তার পক্ষে ৮-৯ জন ব্যক্তি গুদিতে অবস্থান করে প্রতিমণ লবণ থেকে ৩ টাকা করে আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লবণ চাষীরা জানান, কোরালখালী এলাকায় প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। আগে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও এখন ৩ টাকা করে আদায় করায় চাষীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমণ ১ টাকা করে নিলেও বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আদায় সম্ভব। কিন্তু ৩ টাকা করে নিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ টাকায়।

চাষীরা আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে। অথচ উৎপাদন খরচই ২১০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ হলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত টেক্স আদায় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নুরুল আজম লবণ গুদি নিজের নামে লিজ নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে এই ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও সাহারবিল ইউনিয়নের আওতাধীন এগারো একর লবণ গুদি, চিলখালী লবণ গুদি এবং দুই নম্বর হোল্টার ও ৬১ প্লটের লবণ গুদিতেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আজম নিজেকে ওই লবণ গুদির লিজগ্রহীতা নন বলে দাবি করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে (স্মারক নং–২০২৫-৮৯, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫) তার নামই লিজগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম সোনামিয়া বলেন, “কোরালখালী লবণ গুদি যথাযথ নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল আজম নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে লিজ নিয়েছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের অনেককেই জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লবণ গুদি ইজারা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ :

লিংকরোডে সড়ক দুর্ঘটনায় আলী আহমদ কোম্পানির মৃত্যু

লবণ চাষীদের গলা কাটছে ইজারাদার

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকায় লবণ গুদিতে অতিরিক্ত টেক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও বর্তমানে জোরপূর্বক ৩ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরালখালী পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে নুরুল আজম লবণ গুদি লিজ নেওয়ার নামে চাষীদের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। তার পক্ষে ৮-৯ জন ব্যক্তি গুদিতে অবস্থান করে প্রতিমণ লবণ থেকে ৩ টাকা করে আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

লবণ চাষীরা জানান, কোরালখালী এলাকায় প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। আগে প্রতিমণ লবণ থেকে ১ টাকা নেওয়া হলেও এখন ৩ টাকা করে আদায় করায় চাষীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিমণ ১ টাকা করে নিলেও বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আদায় সম্ভব। কিন্তু ৩ টাকা করে নিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৪ লাখ টাকায়।

চাষীরা আরও বলেন, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে। অথচ উৎপাদন খরচই ২১০ টাকার বেশি। এর সঙ্গে জমির ইজারা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ হলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত টেক্স আদায় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও তৎকালীন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নুরুল আজম লবণ গুদি নিজের নামে লিজ নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে মাত্র ৫৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে এই ইজারা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও সাহারবিল ইউনিয়নের আওতাধীন এগারো একর লবণ গুদি, চিলখালী লবণ গুদি এবং দুই নম্বর হোল্টার ও ৬১ প্লটের লবণ গুদিতেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আজম নিজেকে ওই লবণ গুদির লিজগ্রহীতা নন বলে দাবি করেন। যদিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে (স্মারক নং–২০২৫-৮৯, তারিখ: ৩০/১১/২০২৫) তার নামই লিজগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হাকিম সোনামিয়া বলেন, “কোরালখালী লবণ গুদি যথাযথ নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয়নি।রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল আজম নামমাত্র টাকা জমা দিয়ে লিজ নিয়েছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের অনেককেই জানানো হয়নি।”

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, “সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লবণ গুদি ইজারা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”