ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাদিপাহাড়ে সাইফুল হত্যাকান্ড : সিহাব নামের যুবক আটক চকরিয়ায় শিক্ষার্থীকে অপহরণ : যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি জোবায়ের, সা: সম্পাদক ওসমান জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধি কক্সবাজারে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবাসহ ১৩৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেপ্তার ২৯ হলদিয়ায় কিশোরকে মারধর করে অপহরণ : থানায় অভিযোগ দায়ের মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ

রোহিঙ্গা খাদ্য কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপির চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘মাঈশা এন্টারপ্রাইজ’ এর হরিলুট!

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে জেনারেল ফুড এসিস্ট্যান্ট (জিএফএ) কার্যক্রমের আওতায় মানবিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করে আসছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

এই কার্যক্রমে নিয়োজিত সংস্থাটির চুক্তিবদ্ধ রিটেইলার ‘মাঈশা এন্টারপ্রাইজ’ এর বিরুদ্ধে
অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খোলাবাজার থেকে চাল, ডাল, সাবান, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী কিনে পুনরায় রিসাইকেল পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই প্রক্রিয়ায় প্রতিমাসে নিয়োগদাতা সংস্থা ডব্লিউএফপির চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটি টাকা লোপাট করছে প্রতিষ্ঠানটি, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে এমন হরিলুটের সত্যতাও মিলেছে।

এই অনিয়মের ফলে মাঈশা এন্টারপ্রাইজ পরিচালিত আউটলেটগুলোতে নিম্ন মানের পণ্য সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ আছে।

প্রতিষ্ঠানটির একটি আউটলেট থেকে নিয়মিত নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী।

মংডু থেকে পালিয়ে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ তে আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ আমার পরিবার ৮ সদস্যের, ফুডকার্ড দিয়ে পাওয়া খাবারে আমাদের জীবন চলছে। পরিমানে কম তার উপর শপ (মাঈশা এন্টারপ্রাইজ পরিচালিত) থেকে খাওয়ার উপযোগী নয় এমন চাল ডাল দেওয়া হয়। ‘

খোলা বাজারে এসব মানহীন পণ্য অধিকাংশ রোহিঙ্গারা বিক্রি দেয় আবার সেসব পণ্য পুনরায় কম দামে কৌশলে কিনে নেয় সেই মাইশা এন্টারপ্রাইজই। ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ এটি দিনের আলোর মত পরিস্কার বিষয়। তারা খুব খারাপ পণ্য দেয় আবার সেগুলো কৌশলে টাকা দিয়ে কিনে ফেলে এভাবেই চলছে। আমরা ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর হওয়া উচিত।’

উখিয়া সদরের মহুরীপাড়া এলাকায় মাঈশা এন্টারপ্রাইজের গুদাম, বনবিভাগের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে গুদাম ভাড়া নিয়ে সেই দখলদার নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় একটি চক্রের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি অনিয়ম-দুর্নীতিতে লিপ্ত বলে জানা গেছে।

চন্দনাইশের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হান্নানের মালিকানাধীন এই রিটেইলারের অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে আছেন বগুড়ার বাসিন্দা আসিফ মোস্তফা। প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে উখিয়ায় কার্যক্রম চালানো প্রতিষ্ঠানটির সব দুর্নীতি আসিফ মোস্তফা সুকৌশলে জায়েজ করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ এসব বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডব্লিউএফপি) মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগে ইমেইল যোগাযোগ করা হলে ফিরতি মেইলে জানানো হয়, ‘ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে,আপডেট পেলে তা জানানো হবে।’

ডব্লিউএফপির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী,
‘ জালিয়াতি, দুর্নীতি এবং কর্মীদের অসদাচরণের বিরুদ্ধে ডব্লিউএফপি শূন্য-সহনশীলতা (Zero-Tolerance) নীতি অনুসরণ করে।’

এছাড়াও উল্লেখ আছে – ‘ ত্রাণ সহায়তা আত্মসাৎ, সংঘাতরত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ এবং চাঁদাবাজিসহ যেকোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়।’

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাদিপাহাড়ে সাইফুল হত্যাকান্ড : সিহাব নামের যুবক আটক

রোহিঙ্গা খাদ্য কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপির চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘মাঈশা এন্টারপ্রাইজ’ এর হরিলুট!

আপডেট সময় : ০৫:১৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে জেনারেল ফুড এসিস্ট্যান্ট (জিএফএ) কার্যক্রমের আওতায় মানবিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করে আসছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

এই কার্যক্রমে নিয়োজিত সংস্থাটির চুক্তিবদ্ধ রিটেইলার ‘মাঈশা এন্টারপ্রাইজ’ এর বিরুদ্ধে
অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খোলাবাজার থেকে চাল, ডাল, সাবান, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী কিনে পুনরায় রিসাইকেল পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই প্রক্রিয়ায় প্রতিমাসে নিয়োগদাতা সংস্থা ডব্লিউএফপির চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটি টাকা লোপাট করছে প্রতিষ্ঠানটি, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে এমন হরিলুটের সত্যতাও মিলেছে।

এই অনিয়মের ফলে মাঈশা এন্টারপ্রাইজ পরিচালিত আউটলেটগুলোতে নিম্ন মানের পণ্য সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ আছে।

প্রতিষ্ঠানটির একটি আউটলেট থেকে নিয়মিত নিত্যপণ্য সংগ্রহ করেন উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী।

মংডু থেকে পালিয়ে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ তে আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ আমার পরিবার ৮ সদস্যের, ফুডকার্ড দিয়ে পাওয়া খাবারে আমাদের জীবন চলছে। পরিমানে কম তার উপর শপ (মাঈশা এন্টারপ্রাইজ পরিচালিত) থেকে খাওয়ার উপযোগী নয় এমন চাল ডাল দেওয়া হয়। ‘

খোলা বাজারে এসব মানহীন পণ্য অধিকাংশ রোহিঙ্গারা বিক্রি দেয় আবার সেসব পণ্য পুনরায় কম দামে কৌশলে কিনে নেয় সেই মাইশা এন্টারপ্রাইজই। ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ এটি দিনের আলোর মত পরিস্কার বিষয়। তারা খুব খারাপ পণ্য দেয় আবার সেগুলো কৌশলে টাকা দিয়ে কিনে ফেলে এভাবেই চলছে। আমরা ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর হওয়া উচিত।’

উখিয়া সদরের মহুরীপাড়া এলাকায় মাঈশা এন্টারপ্রাইজের গুদাম, বনবিভাগের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে গুদাম ভাড়া নিয়ে সেই দখলদার নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় একটি চক্রের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি অনিয়ম-দুর্নীতিতে লিপ্ত বলে জানা গেছে।

চন্দনাইশের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হান্নানের মালিকানাধীন এই রিটেইলারের অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে আছেন বগুড়ার বাসিন্দা আসিফ মোস্তফা। প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে উখিয়ায় কার্যক্রম চালানো প্রতিষ্ঠানটির সব দুর্নীতি আসিফ মোস্তফা সুকৌশলে জায়েজ করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ এসব বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডব্লিউএফপি) মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগে ইমেইল যোগাযোগ করা হলে ফিরতি মেইলে জানানো হয়, ‘ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে,আপডেট পেলে তা জানানো হবে।’

ডব্লিউএফপির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী,
‘ জালিয়াতি, দুর্নীতি এবং কর্মীদের অসদাচরণের বিরুদ্ধে ডব্লিউএফপি শূন্য-সহনশীলতা (Zero-Tolerance) নীতি অনুসরণ করে।’

এছাড়াও উল্লেখ আছে – ‘ ত্রাণ সহায়তা আত্মসাৎ, সংঘাতরত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ এবং চাঁদাবাজিসহ যেকোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়।’