ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান

বাঁকখালী নদীর পানি পৌঁছাচ্ছে ঘরে ঘরে

সাদিয়া আক্তার মিলি (৩৫)| কক্সবাজারের টেকপাড়া এলাকার এই গৃহিণীকে এতদিন গৃহস্থালি কাজসহ সব প্রয়োজনে পানি সংগ্রহ করতে হতো অর্ধ কিলোমিটার দূরের মসজিদের একটি গভীর নলকূপ থেকে| কারণ, তাদের এলাকার অধিকাংশ নলকূপে আর পানি পাওয়া যাচ্ছিলো না| যা একটু পাওয়া যেতো, তা-ও লবণাক্ত| আর পৌরসভার সরবরাহ করা পানিও ছিলো মানহীন| এতে তার যৌথ পরিবারের ২৫ সদস্যের মতো ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন ৩২.৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার পৌরসভায় অন্তত ৫ লাখ মানুষ| প্রায় ৬ হাজার বসতির এই শহরে গভীর-অগভীর নলকূপের সংখ্যাও ২০ হাজার ২৭৬টি| অধিকাংশ নলকূপের একই দশা|

এই সংকট নিরসনে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা করেছে সরকার| যা বাস্তবায়ন করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। যেখানে বাঁকখালী নদীর পানি ছয় ধাপে পরিশোধন করে পুরো কক্সবাজার পৌরসভায় সরবরাহ করা হবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে এর পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। এ সরবরাহ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোক্তাদির, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নসরুল্লাহ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও কক্সবাজার পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী (পানি সরবরাহ শাখা) মোঃ শাহনেওয়াজ|

নিজের ঘরে পানের উপযোগী এ বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গৃহিণী সাদিয়া আক্তার মিলি| তার ভাষ্য, “যৌথ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিলো, তা এই পানির সংযোগে লাঘব হবে। এতে আমদের জীবনে স্বস্তি ফিরেছে|”

একই সুরে আনন্দ প্রকাশ করলেন কালুর দোকান এলাকায় কর্মজীবী নারী সালমা আক্তার| তার ভাষ্য, “৫ বছরের দুর্ভোগ লাঘব হবে আমাদের। এতোদিন পানির সমস্যায় জীবন বিষিয়ে উঠেছিলো।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ পানির মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে সরবরাহ লাইনের প্রায় কাজ শেষ হয়েছে এবং ৫টি ওয়াটার ট্যাংকে পানি মজুদ শুরু করা হয়েছে| তিনি নিশ্চিত করেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে পৌরসভার ৩ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে| জুন মাসের মধ্যে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে পুরোদমে পানি সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।”

কক্সবাজার পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী (পানি সরবরাহ শাখা) মোঃ শাহনেওয়াজ অবগত করেন, “গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যসের পাইপে এ পানি সরবরাহ করবে পৌরসভা। এর জন্য গ্রাহকদের পৌরসভা আবেদন করতে হবে। গ্রাহকদের আবেদন অনুসারে প্রতিটি ঘরে পানির সংযোগ দেয়া হবে।”

জরুরি সহায়তা প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মোঃ রশিদুল আলম জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন পানি সংযোগ দেয়া হবে। পরে চাহিদা অনুযায়ী হয়তো রেশনিংয়ে যেতে হতে পারে। ধাপে ধাপে পুরো পৌর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি অবগত করেন, পানি সরবরাহ জোরদারে ৬৮ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার পাঁচটি ওয়াটার ট্যাংক পৌরসভার আলাদা স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরবরাহ লাইন ও কমিউনিটি টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব

বাঁকখালী নদীর পানি পৌঁছাচ্ছে ঘরে ঘরে

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সাদিয়া আক্তার মিলি (৩৫)| কক্সবাজারের টেকপাড়া এলাকার এই গৃহিণীকে এতদিন গৃহস্থালি কাজসহ সব প্রয়োজনে পানি সংগ্রহ করতে হতো অর্ধ কিলোমিটার দূরের মসজিদের একটি গভীর নলকূপ থেকে| কারণ, তাদের এলাকার অধিকাংশ নলকূপে আর পানি পাওয়া যাচ্ছিলো না| যা একটু পাওয়া যেতো, তা-ও লবণাক্ত| আর পৌরসভার সরবরাহ করা পানিও ছিলো মানহীন| এতে তার যৌথ পরিবারের ২৫ সদস্যের মতো ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন ৩২.৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার পৌরসভায় অন্তত ৫ লাখ মানুষ| প্রায় ৬ হাজার বসতির এই শহরে গভীর-অগভীর নলকূপের সংখ্যাও ২০ হাজার ২৭৬টি| অধিকাংশ নলকূপের একই দশা|

এই সংকট নিরসনে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নে একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা করেছে সরকার| যা বাস্তবায়ন করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। যেখানে বাঁকখালী নদীর পানি ছয় ধাপে পরিশোধন করে পুরো কক্সবাজার পৌরসভায় সরবরাহ করা হবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে এর পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হয়েছে। এ সরবরাহ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোক্তাদির, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নসরুল্লাহ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও কক্সবাজার পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী (পানি সরবরাহ শাখা) মোঃ শাহনেওয়াজ|

নিজের ঘরে পানের উপযোগী এ বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গৃহিণী সাদিয়া আক্তার মিলি| তার ভাষ্য, “যৌথ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিলো, তা এই পানির সংযোগে লাঘব হবে। এতে আমদের জীবনে স্বস্তি ফিরেছে|”

একই সুরে আনন্দ প্রকাশ করলেন কালুর দোকান এলাকায় কর্মজীবী নারী সালমা আক্তার| তার ভাষ্য, “৫ বছরের দুর্ভোগ লাঘব হবে আমাদের। এতোদিন পানির সমস্যায় জীবন বিষিয়ে উঠেছিলো।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ পানির মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে সরবরাহ লাইনের প্রায় কাজ শেষ হয়েছে এবং ৫টি ওয়াটার ট্যাংকে পানি মজুদ শুরু করা হয়েছে| তিনি নিশ্চিত করেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে পৌরসভার ৩ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে| জুন মাসের মধ্যে পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে পুরোদমে পানি সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।”

কক্সবাজার পৌরসভার উপ সহকারী প্রকৌশলী (পানি সরবরাহ শাখা) মোঃ শাহনেওয়াজ অবগত করেন, “গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যসের পাইপে এ পানি সরবরাহ করবে পৌরসভা। এর জন্য গ্রাহকদের পৌরসভা আবেদন করতে হবে। গ্রাহকদের আবেদন অনুসারে প্রতিটি ঘরে পানির সংযোগ দেয়া হবে।”

জরুরি সহায়তা প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মোঃ রশিদুল আলম জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন পানি সংযোগ দেয়া হবে। পরে চাহিদা অনুযায়ী হয়তো রেশনিংয়ে যেতে হতে পারে। ধাপে ধাপে পুরো পৌর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি অবগত করেন, পানি সরবরাহ জোরদারে ৬৮ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার পাঁচটি ওয়াটার ট্যাংক পৌরসভার আলাদা স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সরবরাহ লাইন ও কমিউনিটি টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।