ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর ভদ্রপল্লিতে আর ভদ্রতা নেই কক্সবাজারে ৩ দিনের পর্যটন মেলা শুরু হচ্ছে শুক্রবার : যা যা থাকছে টেকনাফে নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর ও চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ, আটক ২ কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার হওয়া রামুর স্কুল ছাত্র শাহীনের জানাজা সম্পন্ন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো আশ্রিত রোহিঙ্গারা পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি : টেকনাফ সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ মাদকই অপরাধের বড় কারণ, নির্মূলে কাজ করছে সরকার: পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ২য় শাহাদাত বার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও

হিমালয়ের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে আরোহণের মৌসুমে পর্বতারোহী, ট্রেকার, গাইড ও সহায়তাকারীদের ভিড় থাকে। গত কয়েক দশকে সেখানে মানুষের কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কর্মকাণ্ড খুম্বু হিমবাহ গলতে ভূমিকা রাখছে।

‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় হিমবাহ গলার তিনটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছে—বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপ।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল ২০২৩ সালের বসন্তের আরোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণায় রান্না, গরম থাকা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলপিজি, কেরোসিন ও পেট্রোল থেকে নির্গত তাপের পাশাপাশি মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপও হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে এসব কর্মকাণ্ড থেকে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ ± ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি নির্গত হয়েছে। এই তাপ প্রায় ২ হাজার ৪৯২ ± ৫২৮ টন হিমবাহের বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট।

তবে হিমবাহ গলার একমাত্র কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনও এর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণাটি দেখিয়েছে, স্থানীয় কর্মকাণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া খুম্বু হিমবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

গবেষকেরা ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট ৫, ল্যান্ডস্যাট ৭ ও ল্যান্ডস্যাট ৯ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ৩২ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।

বেস ক্যাম্পে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার পাশের খুম্বু হিমবাহের পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে ক্যাম্পের ঠিক উত্তরের পাথর ও মাটি দিয়ে ঢাকা ভূখণ্ডের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বর্তমান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর অবস্থিত একটি সুপ্রাগ্লেশিয়াল এলাকায়। প্রয়োজন হলে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও গবেষকেরা খতিয়ে দেখেছেন। এ জন্য বর্তমান ক্যাম্পের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থিতিশীল ভূমির ওপর দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও চ্যালেঞ্জিং পর্বতারোহণের গন্তব্য এভারেস্ট। তবে বেস ক্যাম্পে মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এখন খুম্বু হিমবাহের জন্য নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: স্টার নিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর

দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও

আপডেট সময় : ১২:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমালয়ের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে আরোহণের মৌসুমে পর্বতারোহী, ট্রেকার, গাইড ও সহায়তাকারীদের ভিড় থাকে। গত কয়েক দশকে সেখানে মানুষের কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কর্মকাণ্ড খুম্বু হিমবাহ গলতে ভূমিকা রাখছে।

‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় হিমবাহ গলার তিনটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছে—বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপ।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল ২০২৩ সালের বসন্তের আরোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণায় রান্না, গরম থাকা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলপিজি, কেরোসিন ও পেট্রোল থেকে নির্গত তাপের পাশাপাশি মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপও হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে এসব কর্মকাণ্ড থেকে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ ± ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি নির্গত হয়েছে। এই তাপ প্রায় ২ হাজার ৪৯২ ± ৫২৮ টন হিমবাহের বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট।

তবে হিমবাহ গলার একমাত্র কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনও এর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণাটি দেখিয়েছে, স্থানীয় কর্মকাণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া খুম্বু হিমবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

গবেষকেরা ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট ৫, ল্যান্ডস্যাট ৭ ও ল্যান্ডস্যাট ৯ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ৩২ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।

বেস ক্যাম্পে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার পাশের খুম্বু হিমবাহের পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে ক্যাম্পের ঠিক উত্তরের পাথর ও মাটি দিয়ে ঢাকা ভূখণ্ডের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বর্তমান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর অবস্থিত একটি সুপ্রাগ্লেশিয়াল এলাকায়। প্রয়োজন হলে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও গবেষকেরা খতিয়ে দেখেছেন। এ জন্য বর্তমান ক্যাম্পের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থিতিশীল ভূমির ওপর দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও চ্যালেঞ্জিং পর্বতারোহণের গন্তব্য এভারেস্ট। তবে বেস ক্যাম্পে মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এখন খুম্বু হিমবাহের জন্য নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: স্টার নিউজ