ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-কক্সবাজার রুট: মহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু আজ কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ

দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও

হিমালয়ের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে আরোহণের মৌসুমে পর্বতারোহী, ট্রেকার, গাইড ও সহায়তাকারীদের ভিড় থাকে। গত কয়েক দশকে সেখানে মানুষের কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কর্মকাণ্ড খুম্বু হিমবাহ গলতে ভূমিকা রাখছে।

‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় হিমবাহ গলার তিনটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছে—বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপ।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল ২০২৩ সালের বসন্তের আরোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণায় রান্না, গরম থাকা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলপিজি, কেরোসিন ও পেট্রোল থেকে নির্গত তাপের পাশাপাশি মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপও হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে এসব কর্মকাণ্ড থেকে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ ± ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি নির্গত হয়েছে। এই তাপ প্রায় ২ হাজার ৪৯২ ± ৫২৮ টন হিমবাহের বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট।

তবে হিমবাহ গলার একমাত্র কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনও এর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণাটি দেখিয়েছে, স্থানীয় কর্মকাণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া খুম্বু হিমবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

গবেষকেরা ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট ৫, ল্যান্ডস্যাট ৭ ও ল্যান্ডস্যাট ৯ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ৩২ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।

বেস ক্যাম্পে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার পাশের খুম্বু হিমবাহের পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে ক্যাম্পের ঠিক উত্তরের পাথর ও মাটি দিয়ে ঢাকা ভূখণ্ডের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বর্তমান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর অবস্থিত একটি সুপ্রাগ্লেশিয়াল এলাকায়। প্রয়োজন হলে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও গবেষকেরা খতিয়ে দেখেছেন। এ জন্য বর্তমান ক্যাম্পের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থিতিশীল ভূমির ওপর দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও চ্যালেঞ্জিং পর্বতারোহণের গন্তব্য এভারেস্ট। তবে বেস ক্যাম্পে মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এখন খুম্বু হিমবাহের জন্য নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: স্টার নিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-কক্সবাজার রুট: মহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু আজ

দ্রুত গলছে এভারেস্টের হিমবাহ, দায়ী মানুষের প্রস্রাবও

আপডেট সময় : ১২:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিমালয়ের এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে আরোহণের মৌসুমে পর্বতারোহী, ট্রেকার, গাইড ও সহায়তাকারীদের ভিড় থাকে। গত কয়েক দশকে সেখানে মানুষের কর্মকাণ্ডও বেড়েছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কর্মকাণ্ড খুম্বু হিমবাহ গলতে ভূমিকা রাখছে।

‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় হিমবাহ গলার তিনটি প্রধান কারণ খতিয়ে দেখা হয়েছে—বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপ।

আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল ২০২৩ সালের বসন্তের আরোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণায় রান্না, গরম থাকা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এলপিজি, কেরোসিন ও পেট্রোল থেকে নির্গত তাপের পাশাপাশি মানুষের প্রস্রাব থেকে তৈরি তাপও হিসাব করা হয়েছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে এসব কর্মকাণ্ড থেকে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ ± ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি নির্গত হয়েছে। এই তাপ প্রায় ২ হাজার ৪৯২ ± ৫২৮ টন হিমবাহের বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট।

তবে হিমবাহ গলার একমাত্র কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড নয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনও এর অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণাটি দেখিয়েছে, স্থানীয় কর্মকাণ্ডও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া খুম্বু হিমবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

গবেষকেরা ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট ৫, ল্যান্ডস্যাট ৭ ও ল্যান্ডস্যাট ৯ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ৩২ বছরের তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে।

বেস ক্যাম্পে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার পাশের খুম্বু হিমবাহের পৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে ক্যাম্পের ঠিক উত্তরের পাথর ও মাটি দিয়ে ঢাকা ভূখণ্ডের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

বর্তমান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পটি হিমবাহের ওপর অবস্থিত একটি সুপ্রাগ্লেশিয়াল এলাকায়। প্রয়োজন হলে ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও গবেষকেরা খতিয়ে দেখেছেন। এ জন্য বর্তমান ক্যাম্পের দক্ষিণ-পশ্চিমে স্থিতিশীল ভূমির ওপর দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও চ্যালেঞ্জিং পর্বতারোহণের গন্তব্য এভারেস্ট। তবে বেস ক্যাম্পে মানুষের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এখন খুম্বু হিমবাহের জন্য নতুন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: স্টার নিউজ