ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘কাল বেঁচে থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে নানা পাটেকার ‘আমার মতো মানুষকে’ নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চায় না কমিটি, ট্রাম্পের আক্ষেপ প্রত্যেক উপজেলায় জরুরি নির্দেশনা সরকারের ৫ শর্ত পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফিরতে চায় না ৮৭% রোহিঙ্গা: গবেষণা মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি

টেকনাফ সীমান্তে মর্টারশেল-গুলির শব্দ

মর্টারশেল ও গোলাগুলির শব্দে কাঁপছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি টিনের চালা ভেদ করে ঘরে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নাফ নদীতে মর্টারশেল পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এতে সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর থেকে থেমে থেমে একটানা ৪ ঘণ্টা টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, শনিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো সীমান্ত এলাকায় মর্টারশেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী বাড়ি-ঘর কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতর থেকে এসব মর্টারশেল নিক্ষেপ ও গুলি চালানো হচ্ছে। এসময় হোয়াইক্যং বাজার সংলগ্ন মোহাম্মদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস ও বালুখালী গ্রামের সরওয়ার আলমের বাড়িতে কয়েকটি গুলি এসে পড়ে। এছাড়া উত্তর পাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে একটি মর্টারশেল পড়লে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়।

মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে নুরুল আবছার বলেন, ‘শনিবার ভোর থেকে হোয়াইক্যংয়ের ওপারে মিয়ানমার সীমান্তে প্রচুর গোলাগুলির শব্দ হচ্ছে, সেইসঙ্গে মর্টারশেল ফায়ারের শব্দ ভেসে আসছে। ঠিক এমন মুহূর্তে আমার ঘরের টিনে পর পর দুটি গুলি এসে পড়লে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ এপারে ভেসে আসছে। যখন ফায়ার হয় বাড়ি-ঘর কেঁপে ওঠে।’

সরওয়ার আলম বলেন, ‘প্রচুর গোলাগুলির শব্দ শুরু হলে সন্তানদের নিয়ে আমি বাড়ির ভেতরে একটি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই। গুলির বিকট শব্দে আমরা ভয়ে কাঁপছিলাম। গুলি ও ফায়ারের সময় বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠছিল। এমন অবস্থায় হঠাৎ একটি গুলি টিনের ছাউনি ছিদ্র করে বাড়ির ভেতরে পড়ে যায় এবং গুলিটি ঘুরতে থাকে। পরে গুলিটি হাতে ধরলে তা গরম অনুভূত হয়।’

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রচুর গোলাগুলির শব্দ মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এপারে ভেসে আসে। কয়েকটি বাড়িতে গুলি পড়েছে বলে শোনা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘কাল বেঁচে থাকব কি না জানি না’, মৃত্যুর চার দিন আগে নানা পাটেকার

টেকনাফ সীমান্তে মর্টারশেল-গুলির শব্দ

আপডেট সময় : ১২:০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মর্টারশেল ও গোলাগুলির শব্দে কাঁপছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি টিনের চালা ভেদ করে ঘরে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নাফ নদীতে মর্টারশেল পড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এতে সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর থেকে থেমে থেমে একটানা ৪ ঘণ্টা টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।

হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, শনিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো সীমান্ত এলাকায় মর্টারশেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী বাড়ি-ঘর কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতর থেকে এসব মর্টারশেল নিক্ষেপ ও গুলি চালানো হচ্ছে। এসময় হোয়াইক্যং বাজার সংলগ্ন মোহাম্মদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস ও বালুখালী গ্রামের সরওয়ার আলমের বাড়িতে কয়েকটি গুলি এসে পড়ে। এছাড়া উত্তর পাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে একটি মর্টারশেল পড়লে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা যায়।

মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে নুরুল আবছার বলেন, ‘শনিবার ভোর থেকে হোয়াইক্যংয়ের ওপারে মিয়ানমার সীমান্তে প্রচুর গোলাগুলির শব্দ হচ্ছে, সেইসঙ্গে মর্টারশেল ফায়ারের শব্দ ভেসে আসছে। ঠিক এমন মুহূর্তে আমার ঘরের টিনে পর পর দুটি গুলি এসে পড়লে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ এপারে ভেসে আসছে। যখন ফায়ার হয় বাড়ি-ঘর কেঁপে ওঠে।’

সরওয়ার আলম বলেন, ‘প্রচুর গোলাগুলির শব্দ শুরু হলে সন্তানদের নিয়ে আমি বাড়ির ভেতরে একটি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই। গুলির বিকট শব্দে আমরা ভয়ে কাঁপছিলাম। গুলি ও ফায়ারের সময় বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠছিল। এমন অবস্থায় হঠাৎ একটি গুলি টিনের ছাউনি ছিদ্র করে বাড়ির ভেতরে পড়ে যায় এবং গুলিটি ঘুরতে থাকে। পরে গুলিটি হাতে ধরলে তা গরম অনুভূত হয়।’

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রচুর গোলাগুলির শব্দ মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এপারে ভেসে আসে। কয়েকটি বাড়িতে গুলি পড়েছে বলে শোনা গেছে।