ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ টেকনাফের হ্নীলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ১০-১২টি বসতবাড়ি কক্সবাজার শহরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় ১৮ কেজি গাঁজা স্ত্রীর পাতা ফাঁদে অপহরণ, অপহৃতদের হাতে প্রাণ গেল তিন অপহরণকারীর কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে উশো-কারাতে ক্লাবের উদ্বোধন প্রফেসর আখতার বাদী: কক্সবাজারের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি টেকনাফের গহীন পাহাড়ে তিন যুবক খু*ন

টেকনাফে এক জালে ১১০০ লাল কোরাল, ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি

টেকনাফের একটি ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ১ হাজার ১০০টি লাল কোরাল মাছ। ট্রলার মালিকের দাবি, মাছগুলোর মোট ওজন প্রায় ১২০ মণ। ঘাটে ভেড়ার পর মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় যার সর্বমোট মূল্য দাঁড়াবে ৩১ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এলাকায় মাছগুলো ধরা পড়ে।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুখ খালী ঘাটে পৌঁছালে ক্রেতাদের মধ্যে কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথমে জেলেরা ৪৫ লাখ টাকা দাম হাঁকলেও পরে মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকায় বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা হয়। এখনও পুরো ওজন শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

ট্রলারটির মালিক মোহাম্মদ মিজান ও হারুন।

মাঝি রহমত উল্লাহ জানান, আরাকান আর্মির ভয়ে সপ্তাহখানেক সাগরে যাওয়া হয়নি। শনিবার মাছ ধরতে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জাল তোলার সময় বিপুল পরিমাণ কোরাল ধরা পড়ে। প্রতিটি মাছের ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজির মধ্যে। ১৭ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ট্রলারটি গভীর সাগরে যায় বলে জানান ট্রলার মালিক মিজান।

মিজান বলেন, জেলেদের অংশ হিসেবে ১০০টি মাছ রাখা হয়েছে। বাকি প্রায় ১০০০টির মতো মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা হিসেবে প্রতি কেজি আনুমানিক ৬৫০ টাকায় দর ঠিক হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছের আকাল থাকায় এ চালানে জেলেদের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমেদ বলেন, এখনো ওজন শেষ হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে মোট ১২০ মণ হবে।

সে হিসেবে প্রায় ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। রমজান সামনে থাকায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বেড়েছে, বিশেষ করে লাল কোরালের।

স্থানীয় জেলেরা জানান, লাল কোরাল সাধারণত গভীর সাগরে পাওয়া যায়। শীত মৌসুমে সেন্টমার্টিন লাগোয়া সাগরে ঝাঁক বেঁধে চলাচল করে। পাথর ও প্রবালের কারণে সেখানে জাল ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই বড়শি ব্যবহার করেন।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, লাল কোরাল সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি মাছ। এটি ভেটকির প্রজাতিভুক্ত (Lates Calcarifer) এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৯ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি ও ওমেগা–৩ রয়েছে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী।

ধরা পড়া মাছের একটি অংশ কক্সবাজারে এবং বাকিটা ঢাকায় পাঠানো হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ

টেকনাফে এক জালে ১১০০ লাল কোরাল, ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টেকনাফের একটি ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ১ হাজার ১০০টি লাল কোরাল মাছ। ট্রলার মালিকের দাবি, মাছগুলোর মোট ওজন প্রায় ১২০ মণ। ঘাটে ভেড়ার পর মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় যার সর্বমোট মূল্য দাঁড়াবে ৩১ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এলাকায় মাছগুলো ধরা পড়ে।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুখ খালী ঘাটে পৌঁছালে ক্রেতাদের মধ্যে কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। প্রথমে জেলেরা ৪৫ লাখ টাকা দাম হাঁকলেও পরে মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকায় বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা হয়। এখনও পুরো ওজন শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

ট্রলারটির মালিক মোহাম্মদ মিজান ও হারুন।

মাঝি রহমত উল্লাহ জানান, আরাকান আর্মির ভয়ে সপ্তাহখানেক সাগরে যাওয়া হয়নি। শনিবার মাছ ধরতে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জাল তোলার সময় বিপুল পরিমাণ কোরাল ধরা পড়ে। প্রতিটি মাছের ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজির মধ্যে। ১৭ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ট্রলারটি গভীর সাগরে যায় বলে জানান ট্রলার মালিক মিজান।

মিজান বলেন, জেলেদের অংশ হিসেবে ১০০টি মাছ রাখা হয়েছে। বাকি প্রায় ১০০০টির মতো মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা হিসেবে প্রতি কেজি আনুমানিক ৬৫০ টাকায় দর ঠিক হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাগরে মাছের আকাল থাকায় এ চালানে জেলেদের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাছ ব্যবসায়ী রশিদ আহমেদ বলেন, এখনো ওজন শেষ হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে মোট ১২০ মণ হবে।

সে হিসেবে প্রায় ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। রমজান সামনে থাকায় বাজারে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বেড়েছে, বিশেষ করে লাল কোরালের।

স্থানীয় জেলেরা জানান, লাল কোরাল সাধারণত গভীর সাগরে পাওয়া যায়। শীত মৌসুমে সেন্টমার্টিন লাগোয়া সাগরে ঝাঁক বেঁধে চলাচল করে। পাথর ও প্রবালের কারণে সেখানে জাল ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই বড়শি ব্যবহার করেন।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, লাল কোরাল সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি মাছ। এটি ভেটকির প্রজাতিভুক্ত (Lates Calcarifer) এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৯ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি ও ওমেগা–৩ রয়েছে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য উপকারী।

ধরা পড়া মাছের একটি অংশ কক্সবাজারে এবং বাকিটা ঢাকায় পাঠানো হবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।