ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মৃত্যুর বর্ষণ: কক্সবাজার-নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ১১ বৃষ্টি বাধ সাধেনি: শেষ হলো এইচএসসি ও সমমানের তৃতীয় দিনের পরীক্ষা, নকলের দায়ে বহিস্কৃত ২ টানা বৃষ্টিতে লামার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : প্রশাসনের সতর্কতা জারি লোহাগাড়ায় টানা বৃষ্টি :পানিবন্দী অসংখ্য মানুষ সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ সাত মামলার আসামি কচ্ছপিয়ার ইউপি সদস্য শাকিলকে ঘিরে সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ বৈরী আবহাওয়ায় মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও ঢলের পানিতে মৃত্যু, দুর্ভোগে নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষ জামায়াতকে সাধুবাদ, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই: রুমিন ফারহানা কক্সবাজার ফিশারী ঘাটে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ফিশ ল্যান্ডিং স্টেশন : মৎস্য খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন কক্সবাজারে বিদেশি নারী পর্যটককে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা : তিনজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড পেকুয়ায় পাহাড় ধসে এক শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন ​কক্সবাজারের ২০ এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ১ লাখেরও বেশি মানুষ কুতুবদিয়ায় লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতু ধসে পড়েছে

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুর বর্ষণ: কক্সবাজার-নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ১১

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

আপডেট সময় : ০১:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।