ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা কক্সবাজার ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে বরণে নেতাকর্মীদের ঢল সংরক্ষিত বনে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য টেকনাফে গণধর্ষণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার মাটি খুঁড়ে ফের বিপুল মাদক-অস্ত্র পেলো নৌবাহিনী মাছের ব্যাগে ৩০ হাজার ইয়াবা, যুবক আটক উখিয়ায় হত্যা, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামী গ্রেফতার কক্সবাজারে শুরু হয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা পাচারকারীর ব্যাগে ৫০ হাজার ইয়াবা কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, মোট ১৩ শিশুর মৃত্যু  নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি সাচিং প্রু জেরি জেলা ছাত্রদলের কমিটি: নেতৃত্বের পরিবর্তন নাকি অমীমাংসিত সমিকরণ! কচ্ছপিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে যুবক , বিজিবির ব্যর্থ অভিযান জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নতুন নেতৃত্বের ঐক্যের বার্তার বিপরীতে ক্ষোভ–বঞ্চনার প্রকাশ.. কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা, বন্ধ উৎপাদন, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

আপডেট সময় : ০১:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।