ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২

আপডেট সময় : ০১:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়ার’ প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে দেশটি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়হীন প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির মূল প্রভাব এখন ভারতের উত্তরমুখী হলেও শ্রীলঙ্কায় বিশেষ করে মধ্যাঞ্চলীয় ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।

ডিএমসি’র মহাপরিচালক সম্পথ কোতুগেগোদা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর হাজারো সদস্যকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুণাসেকারা জানান, অনেক জায়গায় মানুষ এখনও আটকে আছে এবং উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, দুইদিন পরেও পানি কমছে না, বরং বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র সরে গেলেও বিপদ এখনও পুরোপুরি কেটে যায়নি।

কলম্বো হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত কেলানি নদী শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপচে পড়ে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। বন্যায় হাজারো মানুষ নতুন করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেছে।

প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে সরকার বৈদেশিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও অর্থ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

দুর্যোগের প্রথম সাড়া দিয়েছে ভারত। দুটি বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজও নিজস্ব রসদ দিয়ে সাহায্য করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত ভারত অতিরিক্ত সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।

এদিকে, রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও উত্তরাঞ্চলে এখনও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের বন্যার মাত্রা ২০১৬ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে—সেই বছর ৭১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি, যখন ভারি বর্ষণে ২৬ জন মারা যায় এবং ডিসেম্বর মাসে বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়জনিত এই দুর্যোগে আরও প্রাণহানি ঠেকাতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।