ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০ রাখাইনে আবারও সংঘাতের আগুন উখিয়ায় অপহৃত কিশোর উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: ২ নারীসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা যেসব আসনে জামায়াতের এমপি, সেখানে সারের কৃত্রিম সংকট: শাহে আলম এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা যখন সময় হবে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর হবে: দীনেশ ত্রিবেদী বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সংকেত রামু সহিংসতার ১৪ বছর: বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ছে হতাশা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৎ পিতার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারালো ৬ বছরের পুত্র অক্টোবরে কক্সবাজার আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান – জেলা প্রশাসক কবি অমিত চৌধুরী’র প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন কক্সবাজারে ১২০ কেজি তামার তার ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২১, আটক ২৫ কিশোর গ্যাং সদস্য খালেকুজ্জামান এমন রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন মানুষ এখনো মুগ্ধ হয়ে আছে- শাহাদাত বার্ষিকীতে সহিদুজ্জামান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত ২৬ মামলার আসামি চকরিয়ার নবী হোসেন মহেশখালীতে গ্রেফতার

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় এই ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ​ও স্ত্রী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জুবাইদার পৈতৃক জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্তভার ছিল পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের ওপর। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নাম করে জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে জমা দেন। গত বুধবার বিকেলে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চান এবং ঘুষের টাকা ফেরত দাবি করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই পল্লবসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ওই তরুণী ও তার মাকে থানার ভেতরেই মারধর করতে করতে গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

তবে পুলিশের দাবি, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলমকে খবর দেয়া হলে তিনি সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
​
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পৈতৃক জমি রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে তারা এখন পুলিশি নির্যাতন ও অবিচারের শিকার।

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুবুল আলম জানান, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ অফিসারের সাথে হাতাহাতির দায়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী বিষয় আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

অন্যদিকে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম কে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে তিনি পুলিশের ওপর হামলার দাবি করেন এবং ঘুষের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করল মালয়েশিয়া, প্রথম ধাপে ফিরছে ১৫০০

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল

আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় এই ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ​ও স্ত্রী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জুবাইদার পৈতৃক জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্তভার ছিল পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের ওপর। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নাম করে জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে জমা দেন। গত বুধবার বিকেলে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চান এবং ঘুষের টাকা ফেরত দাবি করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই পল্লবসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ওই তরুণী ও তার মাকে থানার ভেতরেই মারধর করতে করতে গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

তবে পুলিশের দাবি, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলমকে খবর দেয়া হলে তিনি সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
​
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পৈতৃক জমি রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে তারা এখন পুলিশি নির্যাতন ও অবিচারের শিকার।

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুবুল আলম জানান, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ অফিসারের সাথে হাতাহাতির দায়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী বিষয় আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

অন্যদিকে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম কে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে তিনি পুলিশের ওপর হামলার দাবি করেন এবং ঘুষের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।