ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় এই ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ​ও স্ত্রী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জুবাইদার পৈতৃক জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্তভার ছিল পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের ওপর। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নাম করে জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে জমা দেন। গত বুধবার বিকেলে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চান এবং ঘুষের টাকা ফেরত দাবি করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই পল্লবসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ওই তরুণী ও তার মাকে থানার ভেতরেই মারধর করতে করতে গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

তবে পুলিশের দাবি, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলমকে খবর দেয়া হলে তিনি সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পৈতৃক জমি রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে তারা এখন পুলিশি নির্যাতন ও অবিচারের শিকার।

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুবুল আলম জানান, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ অফিসারের সাথে হাতাহাতির দায়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী বিষয় আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

অন্যদিকে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম কে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে তিনি পুলিশের ওপর হামলার দাবি করেন এবং ঘুষের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল

আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় এই ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ​ও স্ত্রী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জুবাইদার পৈতৃক জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্তভার ছিল পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের ওপর। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নাম করে জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে জমা দেন। গত বুধবার বিকেলে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চান এবং ঘুষের টাকা ফেরত দাবি করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই পল্লবসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ওই তরুণী ও তার মাকে থানার ভেতরেই মারধর করতে করতে গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

তবে পুলিশের দাবি, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলমকে খবর দেয়া হলে তিনি সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পৈতৃক জমি রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে তারা এখন পুলিশি নির্যাতন ও অবিচারের শিকার।

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুবুল আলম জানান, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ অফিসারের সাথে হাতাহাতির দায়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী বিষয় আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

অন্যদিকে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম কে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে তিনি পুলিশের ওপর হামলার দাবি করেন এবং ঘুষের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।