ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামুতে ৪০ হাজার ইয়াবা নিয়ে বিএনপি নেতার স্ত্রীসহ আটক ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক লামা-ফাইতং সড়কে যাত্রী বেশে সিএনজি ছিনতাই: চালককে ছুরিকাঘাত জোয়ারিয়ানালার মরহুম জালাল আহমদ চৌধুরী’র ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কুতুবদিয়ায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার ফিল স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চকরিয়ার যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মাঠপর্যায়ের ধারণা নিলেন ৫৮ জন বিসিএস কর্মকর্তা এরশাদের স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের ২ বছরের কারাদণ্ড রোহিঙ্গাদের জন্য এ বছর চাওয়া হয়েছে ৭১০ মিলিয়ন ডলার লামায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহে বর্ণাঢ্য র‍্যালি আওয়ামী লীগ ছিলই, ‘ব্যাক’ করেছে তাদের দম্ভ: আসিফ নজরুল বিদ্যুৎ বিভ্রাট, হাসি নেই কামারদের মুখে খুরুশকুলে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত আগামীতে ফুটবলের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে চিনবে বিশ্ববাসী ‘বাবার বুকে তুমি চিরদিন থাকবে, আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক’

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় এই ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ​ও স্ত্রী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জুবাইদার পৈতৃক জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্তভার ছিল পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের ওপর। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নাম করে জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে জমা দেন। গত বুধবার বিকেলে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চান এবং ঘুষের টাকা ফেরত দাবি করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই পল্লবসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ওই তরুণী ও তার মাকে থানার ভেতরেই মারধর করতে করতে গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

তবে পুলিশের দাবি, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলমকে খবর দেয়া হলে তিনি সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পৈতৃক জমি রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে তারা এখন পুলিশি নির্যাতন ও অবিচারের শিকার।

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুবুল আলম জানান, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ অফিসারের সাথে হাতাহাতির দায়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী বিষয় আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

অন্যদিকে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম কে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে তিনি পুলিশের ওপর হামলার দাবি করেন এবং ঘুষের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামুতে ৪০ হাজার ইয়াবা নিয়ে বিএনপি নেতার স্ত্রীসহ আটক ২

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর, পরে ১ মাসের জেল

আপডেট সময় : ০৯:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে পুলিশ কর্তৃক বেধড়ক মারধর এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানায় এই ঘটনা ঘটে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—চট্টগ্রাম সিটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ​ও স্ত্রী।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, জুবাইদার পৈতৃক জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে, যার তদন্তভার ছিল পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের ওপর। তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার নাম করে জুবাইদার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে জমা দেন। গত বুধবার বিকেলে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চান এবং ঘুষের টাকা ফেরত দাবি করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই পল্লবসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন।
​প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ওই তরুণী ও তার মাকে থানার ভেতরেই মারধর করতে করতে গেট পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

তবে পুলিশের দাবি, তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলমকে খবর দেয়া হলে তিনি সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা করে মা ও মেয়েকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পৈতৃক জমি রক্ষায় আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে তারা এখন পুলিশি নির্যাতন ও অবিচারের শিকার।

​এ বিষয়ে ইউএনও মাহবুবুল আলম জানান, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ অফিসারের সাথে হাতাহাতির দায়ে মোবাইল কোর্টে সাজা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী বিষয় আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

অন্যদিকে পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম কে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্যে তিনি পুলিশের ওপর হামলার দাবি করেন এবং ঘুষের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।