ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম আজ বিজয়া দশমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আরাকান আর্মির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজিবি বলছে-

“আরসা-আরএসও’র সঙ্গে আঁতাত নয়”

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি (এএ)-এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগ তুলেছে তা “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক” বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ইউএলএ দাবি করেছে, বিজিবি নাকি আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) মদদ দিচ্ছে। কিন্তু বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ বিভ্রান্তিকর।

বিজিবির দাবী, তারা সবসময় আরসা ও আরএসওকে সীমান্তের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের কার্যক্রম দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি সংগঠনটির শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজিবি বলছে, তাদের দায়িত্ব জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর উপস্থিতির বোঝা সামলানো। মিয়ানমারের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করে। নাফ নদী থেকে বান্দরবান-কক্সবাজারের পাহাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত নানা স্থানে সেনা সদস্যরা এখন ছয় ঘণ্টা করে পালাক্রমে টহল দিচ্ছে। অতিরিক্ত অস্ত্র, সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করে সীমান্ত সিলগালা করার চেষ্টা চলছে, যাতে পাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রবেশের সুযোগ না পায়।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আরো বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিপর্যয় মোকাবিলায় বিজিবি লাল পতাকা টাঙিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।

বিজিবি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উত্তর মংডু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে আরাকান আর্মি নিজেই গভীর সংকটে পড়েছে। মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, মনোবল ভাঙন ও সেনাদের মানসিক ক্লান্তি সব মিলিয়ে অনেক যোদ্ধা দলত্যাগ করেছে। নতুন সদস্য সংগ্রহে অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মানুষকে যুক্ত করলেও ভাষাগত বাধা, ভূমি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও যুদ্ধের অনিচ্ছা তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। বুথিডং অঞ্চলে খাদ্যসংকট পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে, যার ফলে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এএ শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ ছোট নৃগোষ্ঠীগুলোকেও নির্যাতন করছে। এমনকি চাঁদা না দিলে রাখাইন জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও হয়রানি, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অনেকে এ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিজিবির দাবি, আরসা/আরএসওকে উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হয়েছে, ইয়াবা পাচার রোধে নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এই সব সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করে, বাংলাদেশ থেকে নয়। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় এএ কর্তৃক পাতা মাইন থাকায় আরসা’র অবাধ চলাচলের অভিযোগ অবাস্তব।

বিজিবি জানায়, ইউএলএ’র এসব অভিযোগ আসলে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড আড়াল করার কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বাস্তবতা স্বীকার করে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানায় বিজিবি।

বিজিবির বক্তব্য, তারা কখনোই উগ্রপন্থীদের সঙ্গে আঁতাত করেনি, বরং মানবিক দায়িত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্কতা, কূটনীতি ও সহানুভূতির পথেই এগিয়ে চলেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আরাকান আর্মির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজিবি বলছে-

“আরসা-আরএসও’র সঙ্গে আঁতাত নয়”

আপডেট সময় : ১০:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি (এএ)-এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগ তুলেছে তা “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক” বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ইউএলএ দাবি করেছে, বিজিবি নাকি আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) মদদ দিচ্ছে। কিন্তু বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ বিভ্রান্তিকর।

বিজিবির দাবী, তারা সবসময় আরসা ও আরএসওকে সীমান্তের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের কার্যক্রম দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি সংগঠনটির শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজিবি বলছে, তাদের দায়িত্ব জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর উপস্থিতির বোঝা সামলানো। মিয়ানমারের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিজিবি সীমান্তে টহল জোরদার করে। নাফ নদী থেকে বান্দরবান-কক্সবাজারের পাহাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত নানা স্থানে সেনা সদস্যরা এখন ছয় ঘণ্টা করে পালাক্রমে টহল দিচ্ছে। অতিরিক্ত অস্ত্র, সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করে সীমান্ত সিলগালা করার চেষ্টা চলছে, যাতে পাচারকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রবেশের সুযোগ না পায়।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আরো বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিপর্যয় মোকাবিলায় বিজিবি লাল পতাকা টাঙিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।

বিজিবি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উত্তর মংডু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে আরাকান আর্মি নিজেই গভীর সংকটে পড়েছে। মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, মনোবল ভাঙন ও সেনাদের মানসিক ক্লান্তি সব মিলিয়ে অনেক যোদ্ধা দলত্যাগ করেছে। নতুন সদস্য সংগ্রহে অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মানুষকে যুক্ত করলেও ভাষাগত বাধা, ভূমি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও যুদ্ধের অনিচ্ছা তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে। বুথিডং অঞ্চলে খাদ্যসংকট পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে, যার ফলে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এএ শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, ম্রো ও তঞ্চঙ্গ্যাসহ ছোট নৃগোষ্ঠীগুলোকেও নির্যাতন করছে। এমনকি চাঁদা না দিলে রাখাইন জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও হয়রানি, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অনেকে এ অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিজিবির দাবি, আরসা/আরএসওকে উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা হয়েছে, ইয়াবা পাচার রোধে নজরদারি চলছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এই সব সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করে, বাংলাদেশ থেকে নয়। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় এএ কর্তৃক পাতা মাইন থাকায় আরসা’র অবাধ চলাচলের অভিযোগ অবাস্তব।

বিজিবি জানায়, ইউএলএ’র এসব অভিযোগ আসলে নিজেদের মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড আড়াল করার কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বাস্তবতা স্বীকার করে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানায় বিজিবি।

বিজিবির বক্তব্য, তারা কখনোই উগ্রপন্থীদের সঙ্গে আঁতাত করেনি, বরং মানবিক দায়িত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সতর্কতা, কূটনীতি ও সহানুভূতির পথেই এগিয়ে চলেছে।