ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ মাস পর মুক্তি! ৪টি ট্রলারসহ ৯১ বাংলাদেশি কুতুবদিয়ার জেলেকে ফেরত দিলো ভারত নাফ নদীতে আরাকান আর্মির গুলি, সাঁতরে বাংলাদেশে এলেন আহত রোহিঙ্গা যুবক মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে গাজী সালাহউদ্দিন মানিককে চায় তৃণমূল শিল্পী ইফতিকে নিয়ে মানহানিকর ভূয়া সংবাদ : কমবার নিন্দা ও আইনের আওতায় আনার দাবী টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ ভুক্তভোগী উদ্ধার, আটক ৯ পাচারকারী ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই সচেতন হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ভোর রাতে সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে টাকা-স্বর্ণালংকার লুট রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার তৈরীর প্রস্তাব। কক্সবাজারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি নাইক্ষ্যংছড়িতে বৃদ্ধার বোরকার ভিতরে মিলল ২০ হাজার ইয়াবা ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮ দলের স্কোয়াড দেখে নিন এক নজরে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে ৬৫ ভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজার উপকূলে এগোচ্ছে মৌসুমীবায়ু, দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস ফুটবল রোমাঞ্চে ভরা রাত- মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও পর্তুগাল হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সূর্যদোয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূল একসঙ্গে শত কন্ঠে বেজে উঠেছে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের মাধ্যমে বাঙালি বরণ করে নেয় তাদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

নতুন বছরের সূচনা মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর জীবনের নতুন অধ্যায়ের আহ্বান। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে বাঙালি আজ বরণ করে নেয় একেবারে নতুন একটি সূর্যোদয়কে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে যেন উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠে মানুষ, মুখে থাকে আনন্দের হাসি। রাস্তাঘাট, পার্ক, সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ সব জায়গায় জমে ওঠে প্রাণের মেলা। কোথাও ভেসে আসে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুর, কোথাও বা বেজে ওঠে ঢোল-করতাল। রাজধানীর রমনা বটমূল থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত একই আনন্দধারা বয়ে যায়।

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিনে একত্রিত হয়, ভাগাভাগি করে নেয় উৎসবের আনন্দ। মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা, পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ খেলাধুলা সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক রঙিন আয়োজন।

একসময় এই উৎসব ছিল গ্রামবাংলার কৃষিজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হালখাতা খুলে নতুন করে ব্যবসার হিসাব শুরু করা, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এসব ছিল দিনের প্রধান অংশ। আজও সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই টিকে আছে, যদিও সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়, ছবি শেয়ার, লাইভ অনুষ্ঠান সবকিছুই এই উৎসবকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে।

বাংলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয় মূলত মোগল সম্রাট আকবরের সময় থেকে, ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৫৬) ফসলি সন হিসেবে। তবে বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বাঙালির প্রাণের উৎসব হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় ১৯৬৭ সালে ছায়ানট-এর মাধ্যমে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান আয়োজনের পর থেকে। এরপর থেকেই প্রতি বছর এই উৎসবকে ঘিরে করা হয় নানান আয়োজন।

এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মূল আয়োজন হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে, যা বর্তমানে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাস পর মুক্তি! ৪টি ট্রলারসহ ৯১ বাংলাদেশি কুতুবদিয়ার জেলেকে ফেরত দিলো ভারত

আজ পহেলা বৈশাখ

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সূর্যদোয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূল একসঙ্গে শত কন্ঠে বেজে উঠেছে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের মাধ্যমে বাঙালি বরণ করে নেয় তাদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

নতুন বছরের সূচনা মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর জীবনের নতুন অধ্যায়ের আহ্বান। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে বাঙালি আজ বরণ করে নেয় একেবারে নতুন একটি সূর্যোদয়কে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে যেন উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠে মানুষ, মুখে থাকে আনন্দের হাসি। রাস্তাঘাট, পার্ক, সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ সব জায়গায় জমে ওঠে প্রাণের মেলা। কোথাও ভেসে আসে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুর, কোথাও বা বেজে ওঠে ঢোল-করতাল। রাজধানীর রমনা বটমূল থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত একই আনন্দধারা বয়ে যায়।

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিনে একত্রিত হয়, ভাগাভাগি করে নেয় উৎসবের আনন্দ। মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা, পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ খেলাধুলা সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক রঙিন আয়োজন।

একসময় এই উৎসব ছিল গ্রামবাংলার কৃষিজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হালখাতা খুলে নতুন করে ব্যবসার হিসাব শুরু করা, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এসব ছিল দিনের প্রধান অংশ। আজও সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই টিকে আছে, যদিও সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়, ছবি শেয়ার, লাইভ অনুষ্ঠান সবকিছুই এই উৎসবকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে।

বাংলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয় মূলত মোগল সম্রাট আকবরের সময় থেকে, ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৫৬) ফসলি সন হিসেবে। তবে বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বাঙালির প্রাণের উৎসব হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় ১৯৬৭ সালে ছায়ানট-এর মাধ্যমে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান আয়োজনের পর থেকে। এরপর থেকেই প্রতি বছর এই উৎসবকে ঘিরে করা হয় নানান আয়োজন।

এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মূল আয়োজন হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে, যা বর্তমানে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত।