ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ চলতি মাসে একাধিক লঘুচাপের আশঙ্কা, হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হবে খুরুশকুল, পিএমখালী,দ: মিঠাছড়ি, খুনিয়া পালং পুরো ইউনিয়ন আর ঝিলংজার কিছু অংশ সাহিত্যিকা পল্লীতে গোলাগুলির ঘটনায় আবুল মনসুর লুদুকে আটক করেছে পুলিশ সাহিত্যিকা পল্লীতে দুই পক্ষের গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত আরিফ-সোহেল বিমানবন্দরে আটক হ্নীলা স্টেশনের অগ্নিকাণ্ডে ওয়ালটন-ভিশন শোরুমসহ পুড়ে ছাই ৮ দোকান; আহত অন্তত ২০ টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনে জামাল কমপ্লেক্সে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেপালের বন্যার্তদের পাশে কাঠমান্ডুর রোহিঙ্গারা, নিজেদের সংকটের মধ্যেও মানবিক সহায়তা চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা মায়ের কোলে ফিরল চার মাস বয়সী মাহি, ৩ অপহরণকারী গ্রেফতার চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক ইলিয়াছ পেকুয়ায় মাছে বিষ প্রয়োগ করে বিক্রির অভিযোগে আটক ১ কক্সবাজারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন : গুরুত্ব পায় পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষার ইস্যু কক্সবাজারে সাংবাদিকদের ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সূর্যদোয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূল একসঙ্গে শত কন্ঠে বেজে উঠেছে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের মাধ্যমে বাঙালি বরণ করে নেয় তাদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

নতুন বছরের সূচনা মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর জীবনের নতুন অধ্যায়ের আহ্বান। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে বাঙালি আজ বরণ করে নেয় একেবারে নতুন একটি সূর্যোদয়কে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে যেন উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠে মানুষ, মুখে থাকে আনন্দের হাসি। রাস্তাঘাট, পার্ক, সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ সব জায়গায় জমে ওঠে প্রাণের মেলা। কোথাও ভেসে আসে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুর, কোথাও বা বেজে ওঠে ঢোল-করতাল। রাজধানীর রমনা বটমূল থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত একই আনন্দধারা বয়ে যায়।

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিনে একত্রিত হয়, ভাগাভাগি করে নেয় উৎসবের আনন্দ। মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা, পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ খেলাধুলা সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক রঙিন আয়োজন।

একসময় এই উৎসব ছিল গ্রামবাংলার কৃষিজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হালখাতা খুলে নতুন করে ব্যবসার হিসাব শুরু করা, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এসব ছিল দিনের প্রধান অংশ। আজও সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই টিকে আছে, যদিও সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়, ছবি শেয়ার, লাইভ অনুষ্ঠান সবকিছুই এই উৎসবকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে।

বাংলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয় মূলত মোগল সম্রাট আকবরের সময় থেকে, ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৫৬) ফসলি সন হিসেবে। তবে বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বাঙালির প্রাণের উৎসব হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় ১৯৬৭ সালে ছায়ানট-এর মাধ্যমে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান আয়োজনের পর থেকে। এরপর থেকেই প্রতি বছর এই উৎসবকে ঘিরে করা হয় নানান আয়োজন।

এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মূল আয়োজন হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে, যা বর্তমানে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ

আজ পহেলা বৈশাখ

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। সূর্যদোয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূল একসঙ্গে শত কন্ঠে বেজে উঠেছে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানের মাধ্যমে বাঙালি বরণ করে নেয় তাদের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।

নতুন বছরের সূচনা মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর জীবনের নতুন অধ্যায়ের আহ্বান। পুরোনো বছরের সব ক্লান্তি, দুঃখ-গ্লানি পেছনে ফেলে বাঙালি আজ বরণ করে নেয় একেবারে নতুন একটি সূর্যোদয়কে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে যেন উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠে মানুষ, মুখে থাকে আনন্দের হাসি। রাস্তাঘাট, পার্ক, সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ সব জায়গায় জমে ওঠে প্রাণের মেলা। কোথাও ভেসে আসে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুর, কোথাও বা বেজে ওঠে ঢোল-করতাল। রাজধানীর রমনা বটমূল থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত একই আনন্দধারা বয়ে যায়।

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিনে একত্রিত হয়, ভাগাভাগি করে নেয় উৎসবের আনন্দ। মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ মেলা, পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ খেলাধুলা সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক রঙিন আয়োজন।

একসময় এই উৎসব ছিল গ্রামবাংলার কৃষিজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হালখাতা খুলে নতুন করে ব্যবসার হিসাব শুরু করা, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এসব ছিল দিনের প্রধান অংশ। আজও সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই টিকে আছে, যদিও সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়, ছবি শেয়ার, লাইভ অনুষ্ঠান সবকিছুই এই উৎসবকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে।

বাংলায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয় মূলত মোগল সম্রাট আকবরের সময় থেকে, ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৫৫৬) ফসলি সন হিসেবে। তবে বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন বা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বাঙালির প্রাণের উৎসব হিসেবে জনপ্রিয়তা পায় ১৯৬৭ সালে ছায়ানট-এর মাধ্যমে রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান আয়োজনের পর থেকে। এরপর থেকেই প্রতি বছর এই উৎসবকে ঘিরে করা হয় নানান আয়োজন।

এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মূল আয়োজন হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে, যা বর্তমানে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত।