ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন : গুরুত্ব পায় পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষার ইস্যু কক্সবাজারে সাংবাদিকদের ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়ায় র‍্যালি ও পথসভা দশ মিনিটেই পুড়ে ছাই ব্যবসায়ী কাইছারের শেষ সম্বল দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানের জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে ফেরা হলো না, লোহাগাড়ায় মিনিট্রাকের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দু’র্ঘ’ট’না, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নি’হ’ত শক্তিশালী টেকনাফকে হারিয়ে ফাইনালে রামু : ম্যান অব দ্যা ম্যাচ কৌশিক বড়ুয়া প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভা: দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চকরিয়ায় বাসে তল্লাশি : ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা যুবক আটক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি

আগামীর কক্সবাজারের জন্য উন্নয়ন ও সুশাসনের লক্ষ্যে নাগরিক সংলাপ পরবর্তী ১৩ দফা সুপারিশ

পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীনতা, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কক্সবাজারকে কীভাবে টেকসই ও মানবিক উন্নয়নের পথে নেওয়া যায়—সে প্রশ্ন সামনে রেখে ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন স্থানীয় নাগরিকরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব দফায় উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাব, নীতিগত দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কক্সবাজার ও কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স, ঢাকা (সিসিএডি)-এর যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজার শহরের ডিপিএইচই ওয়াশ কনফারেন্স হলে ‘কেমন কক্সবাজার চাই’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে গবেষণা ও বিশ্লেষণ সহযোগী ছিল বে ইনসাইট মিডিয়া গ্রুপ।

এই সংলাপে স্থানীয় উদ্যোক্তা, রাজনীতিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন। আলোচনায় কক্সবাজারের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা, সুশাসনের সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অভাব নিয়ে খোলামেলা মতামত তুলে ধরা হয়।

নাগরিক সংলাপের ১৩ দফা সুপারিশ-

সুপারিশে বলা হয়—কক্সবাজারের সব মেগা প্রকল্প ও পর্যটন উদ্যোগকে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনার সঙ্গে কঠোরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে টেকনাফ স্থলবন্দর দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে রাখাইন অঞ্চলে কৌশলগত স্টেক ও কার্যকর কূটনীতি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয়-লেন এক্সপ্রেসওয়ে প্রশস্তকরণ এবং স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত আধুনিকায়নের সুপারিশ করা হয়।

নারী, শিশু ও পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত পুলিশ ফাঁড়ি, ২৪ ঘণ্টার হটলাইন এবং প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পণ্য, হস্তশিল্প ও বিকল্প পর্যটনকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সুপারিশে আরও বলা হয়—স্বচ্ছ কর কাঠামো ও নিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয়দের অধিকার সুরক্ষিত রেখে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাতারবাড়ি ও মহেশখালীর সব মেগা প্রকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দাবিও ওঠে।

লবণ শিল্প রক্ষা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মেগা প্রকল্পে স্থানীয় জনবল নিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেটসহ মৌলিক ইউটিলিটি সেবাকে উন্নয়নের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কক্সবাজার-টেকনাফ এলাকায় মাদক ও চোরাচালানকে উন্নয়ন, পর্যটন, যুবসমাজ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে সীমান্ত নজরদারি জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং বিকল্প জীবিকার মাধ্যমে সমন্বিত দমন কৌশলের সুপারিশ করা হয়।

শনিবার সকালে অনলাইনে অনুষ্ঠিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে নাগরিক সংলাপের এসব দফা তুলে ধরেন কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স-ঢাকা (সিসিএডি)-এর মুখ্য সংগঠক মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম এবং জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কক্সবাজারের ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট মনোয়ার কামাল যিশান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন : গুরুত্ব পায় পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষার ইস্যু

আগামীর কক্সবাজারের জন্য উন্নয়ন ও সুশাসনের লক্ষ্যে নাগরিক সংলাপ পরবর্তী ১৩ দফা সুপারিশ

আপডেট সময় : ১০:১১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীনতা, দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কক্সবাজারকে কীভাবে টেকসই ও মানবিক উন্নয়নের পথে নেওয়া যায়—সে প্রশ্ন সামনে রেখে ১৩ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন স্থানীয় নাগরিকরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এসব দফায় উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাব, নীতিগত দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কক্সবাজার ও কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স, ঢাকা (সিসিএডি)-এর যৌথ উদ্যোগে গত ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজার শহরের ডিপিএইচই ওয়াশ কনফারেন্স হলে ‘কেমন কক্সবাজার চাই’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে গবেষণা ও বিশ্লেষণ সহযোগী ছিল বে ইনসাইট মিডিয়া গ্রুপ।

এই সংলাপে স্থানীয় উদ্যোক্তা, রাজনীতিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মীরা অংশ নেন। আলোচনায় কক্সবাজারের পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা, সুশাসনের সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অভাব নিয়ে খোলামেলা মতামত তুলে ধরা হয়।

নাগরিক সংলাপের ১৩ দফা সুপারিশ-

সুপারিশে বলা হয়—কক্সবাজারের সব মেগা প্রকল্প ও পর্যটন উদ্যোগকে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনার সঙ্গে কঠোরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও নৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে টেকনাফ স্থলবন্দর দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে রাখাইন অঞ্চলে কৌশলগত স্টেক ও কার্যকর কূটনীতি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয়-লেন এক্সপ্রেসওয়ে প্রশস্তকরণ এবং স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত আধুনিকায়নের সুপারিশ করা হয়।

নারী, শিশু ও পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত পুলিশ ফাঁড়ি, ২৪ ঘণ্টার হটলাইন এবং প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পণ্য, হস্তশিল্প ও বিকল্প পর্যটনকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সুপারিশে আরও বলা হয়—স্বচ্ছ কর কাঠামো ও নিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয়দের অধিকার সুরক্ষিত রেখে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাতারবাড়ি ও মহেশখালীর সব মেগা প্রকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দাবিও ওঠে।

লবণ শিল্প রক্ষা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মেগা প্রকল্পে স্থানীয় জনবল নিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেটসহ মৌলিক ইউটিলিটি সেবাকে উন্নয়নের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কক্সবাজার-টেকনাফ এলাকায় মাদক ও চোরাচালানকে উন্নয়ন, পর্যটন, যুবসমাজ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে সীমান্ত নজরদারি জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং বিকল্প জীবিকার মাধ্যমে সমন্বিত দমন কৌশলের সুপারিশ করা হয়।

শনিবার সকালে অনলাইনে অনুষ্ঠিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে নাগরিক সংলাপের এসব দফা তুলে ধরেন কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স-ঢাকা (সিসিএডি)-এর মুখ্য সংগঠক মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম এবং জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কক্সবাজারের ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট মনোয়ার কামাল যিশান।