ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি জোবায়ের, সা: সম্পাদক ওসমান জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই কক্সবাজার-টেকনাফ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধি কক্সবাজারে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবাসহ ১৩৫ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘন্টায় গ্রেপ্তার ২৯ হলদিয়ায় কিশোরকে মারধর করে অপহরণ : থানায় অভিযোগ দায়ের মহেশখালীতে ঘুরতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় চকরিয়ার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু লিংক রোডে এসআরবির হাতে আটক ২ ২ মাদক কারবারি : ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

মাতারবাড়ি বন্দরের মালামাল পাচার: মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাক আটক

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর এলাকা থেকে কোটি টাকার সরকারি মালামাল পাচারের সময় একটি ট্রাক আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকটি মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনাল এলাকা থেকে মূল্যবান এলএনজি পাইপ, স্ক্র্যাপ ও সিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। চালক ও শ্রমিকরা মালামালের বৈধ চালান বা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ট্রাকটি মালামালসহ পটিয়া হাইওয়ে থানায় আটক রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কালারমার ছড়া আফজালিয়া পাড়ার কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মূল্যবান মালামাল চুরি ও পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি প্রকল্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় বন্দর এলাকার মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে- মীর আক্তার কোম্পানির পাথর ভেন্ডার মারুফের ট্রাক থেকে এসব মাল উদ্ধার করা হয়। কোম্পানির হিসাবরক্ষক মিরাজ প্রথমে দাবি করেন, তারা টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ ও পাইপ কিনেছেন, তবে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভেন্ডার মারুফ ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মীর আক্তার কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম বলেন, “আমরা শুধু পাথর বিক্রি করেছি, এলএনজি পাইপ বা স্ক্র্যাপ বিক্রির কোনো অনুমতি দেইনি।”

মহেশখালী থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি- ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চোরাই মাল কীভাবে বন্দর এলাকা থেকে বের হলো, তা অনুসন্ধান করা হবে।

মাতারবাড়ি বন্দরের ক্যাপ্টেন আতাউল বলেন- এসব সামগ্রী ‘সাবিট’ নামের আরেক সংস্থা তত্ত্বাবধান করে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি মূল্যবান সম্পদ চুরি ও পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ জেলা শাখার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি জোবায়ের, সা: সম্পাদক ওসমান

মাতারবাড়ি বন্দরের মালামাল পাচার: মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাক আটক

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর এলাকা থেকে কোটি টাকার সরকারি মালামাল পাচারের সময় একটি ট্রাক আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকটি মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনাল এলাকা থেকে মূল্যবান এলএনজি পাইপ, স্ক্র্যাপ ও সিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। চালক ও শ্রমিকরা মালামালের বৈধ চালান বা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ট্রাকটি মালামালসহ পটিয়া হাইওয়ে থানায় আটক রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কালারমার ছড়া আফজালিয়া পাড়ার কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মূল্যবান মালামাল চুরি ও পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি প্রকল্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় বন্দর এলাকার মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে- মীর আক্তার কোম্পানির পাথর ভেন্ডার মারুফের ট্রাক থেকে এসব মাল উদ্ধার করা হয়। কোম্পানির হিসাবরক্ষক মিরাজ প্রথমে দাবি করেন, তারা টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ ও পাইপ কিনেছেন, তবে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভেন্ডার মারুফ ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মীর আক্তার কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম বলেন, “আমরা শুধু পাথর বিক্রি করেছি, এলএনজি পাইপ বা স্ক্র্যাপ বিক্রির কোনো অনুমতি দেইনি।”

মহেশখালী থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি- ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চোরাই মাল কীভাবে বন্দর এলাকা থেকে বের হলো, তা অনুসন্ধান করা হবে।

মাতারবাড়ি বন্দরের ক্যাপ্টেন আতাউল বলেন- এসব সামগ্রী ‘সাবিট’ নামের আরেক সংস্থা তত্ত্বাবধান করে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি মূল্যবান সম্পদ চুরি ও পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।