ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩০ লক্ষ টাকার ঔষধ জব্দ : আটক ৩ সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

মাতারবাড়ি বন্দরের মালামাল পাচার: মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাক আটক

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর এলাকা থেকে কোটি টাকার সরকারি মালামাল পাচারের সময় একটি ট্রাক আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকটি মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনাল এলাকা থেকে মূল্যবান এলএনজি পাইপ, স্ক্র্যাপ ও সিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। চালক ও শ্রমিকরা মালামালের বৈধ চালান বা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ট্রাকটি মালামালসহ পটিয়া হাইওয়ে থানায় আটক রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কালারমার ছড়া আফজালিয়া পাড়ার কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মূল্যবান মালামাল চুরি ও পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি প্রকল্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় বন্দর এলাকার মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে- মীর আক্তার কোম্পানির পাথর ভেন্ডার মারুফের ট্রাক থেকে এসব মাল উদ্ধার করা হয়। কোম্পানির হিসাবরক্ষক মিরাজ প্রথমে দাবি করেন, তারা টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ ও পাইপ কিনেছেন, তবে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভেন্ডার মারুফ ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মীর আক্তার কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম বলেন, “আমরা শুধু পাথর বিক্রি করেছি, এলএনজি পাইপ বা স্ক্র্যাপ বিক্রির কোনো অনুমতি দেইনি।”

মহেশখালী থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি- ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চোরাই মাল কীভাবে বন্দর এলাকা থেকে বের হলো, তা অনুসন্ধান করা হবে।

মাতারবাড়ি বন্দরের ক্যাপ্টেন আতাউল বলেন- এসব সামগ্রী ‘সাবিট’ নামের আরেক সংস্থা তত্ত্বাবধান করে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি মূল্যবান সম্পদ চুরি ও পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা

মাতারবাড়ি বন্দরের মালামাল পাচার: মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাক আটক

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি বন্দর এলাকা থেকে কোটি টাকার সরকারি মালামাল পাচারের সময় একটি ট্রাক আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার ভোররাতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকটি মাতারবাড়ি এলএনজি টার্মিনাল এলাকা থেকে মূল্যবান এলএনজি পাইপ, স্ক্র্যাপ ও সিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। চালক ও শ্রমিকরা মালামালের বৈধ চালান বা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ট্রাকটি মালামালসহ পটিয়া হাইওয়ে থানায় আটক রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা ও কালারমার ছড়া আফজালিয়া পাড়ার কিছু অসাধু ব্যক্তি মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে মূল্যবান মালামাল চুরি ও পাচার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি প্রকল্পের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় বন্দর এলাকার মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়।

জানা গেছে- মীর আক্তার কোম্পানির পাথর ভেন্ডার মারুফের ট্রাক থেকে এসব মাল উদ্ধার করা হয়। কোম্পানির হিসাবরক্ষক মিরাজ প্রথমে দাবি করেন, তারা টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ ও পাইপ কিনেছেন, তবে কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ভেন্ডার মারুফ ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, মীর আক্তার কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম বলেন, “আমরা শুধু পাথর বিক্রি করেছি, এলএনজি পাইপ বা স্ক্র্যাপ বিক্রির কোনো অনুমতি দেইনি।”

মহেশখালী থানার ওসি মনজুরুল হক জানান, বিষয়টি জেনেছি- ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চোরাই মাল কীভাবে বন্দর এলাকা থেকে বের হলো, তা অনুসন্ধান করা হবে।

মাতারবাড়ি বন্দরের ক্যাপ্টেন আতাউল বলেন- এসব সামগ্রী ‘সাবিট’ নামের আরেক সংস্থা তত্ত্বাবধান করে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি মূল্যবান সম্পদ চুরি ও পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।