ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়া সীমান্তে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ পুলিশ বাহিনীকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়ান শুটারগানসহ যুবক আটক পালংখালী খালে মাছ ধরতে গিয়ে দুই রোহিঙ্গা শিশু নিখোঁজ, একজনের মরদেহ উদ্ধার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলার সাথে থাকতে চেয়ে ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি কক্সবাজারে বহুল প্রত্যাশিত মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ‎ একরাম হত্যায় মিফতাহ ও বদিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাতকানিয়ার জাবেদের মৃত্যু মহাসড়কে অভিযান, চারটি বাসকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা , ৭ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ লোহাগাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পুনরায় পুলিশ ফাঁড়ির অনুমোদন

মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পুনরায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের অনুমোদন প্রদান কারা হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মহেশখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্যাহ্’র সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় মহেশখালী উপজেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্যাহ্ বলেন, মহেশখালীতে অপরাধ দমনে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ইতিপূর্বে থানা ও উপজেলা প্রশাসন দপ্তর থেকে দূরে হওয়ায় কালারমারছড়ায় বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত পুলিশ টহল অব্যাহত থাকার পরেও কিছুটা অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। তারজন্য পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়েছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের প্রতিনিধিরাও জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে সমুদ্র ও স্থলপথে যৌথ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সভায় বক্তারা মহেশখালীর সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ধলঘাট, কালারমারছড়া, মাতারবাড়ি ও হোয়ানক এলাকায় সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই, জমি দখল সংক্রান্ত সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সকলে সম্মিলিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, নৌবাহিনীর মহেশখালী কন্টিনজেন্টের প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট মোহাইমেন হোসেন, মহেশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউসার হোসেন, কোস্টগার্ড প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও এনজিও প্রতিনিধিগণ।

তথ্যমতে, বিগত দুই বছরে মহেশখালী কালারমারছড়া, হোয়ানক, ধলঘাট ও মাতারবাড়ি এলাকায় প্রায় ৮-১০টি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জমি বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনাস্থলে দ্রুত প্রশাসন পৌঁছাতে না পারায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে ধারণা এসব ঘটনার ভুক্তভোগীদের।

স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি হলে জননিরাপত্তা বাড়তে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনসাধারণ। তবে এর জন্য নিরপেক্ষ এবং জনবান্ধন পুলিশ হতে হবে বলে দাবী তাদের। পূর্বের পুলিশ ফাঁড়ির মতো হলে পুলিশ প্রশাসন পুনরায় জনরোষে পড়বে বলে ধারণা সচেতন মহলের।

এর আগে ২০১২ সাল থেকে মহেশখালী কালারমারছড়া সোনালী ব্যাংকের দ্বিতীয় তলায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ছিল। যা ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকলেও করোনার সময় এই পুলিশ ফাঁড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তৎকালিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ ও জনগণের দীর্ঘ দাবীর প্রেক্ষিতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৩ সালে ১৯ জুলাই তৎকালিন কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) হাসানুজ্জামান পিপিএম পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে জায়গা সংক্রান্ত জটিলতায় এই পুলিশ ক্যাম্প নির্মাণের অগ্রগতি থেমে যায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পুনরায় পুলিশ ফাঁড়ির অনুমোদন

আপডেট সময় : ১০:১০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পুনরায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের অনুমোদন প্রদান কারা হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মহেশখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্যাহ্’র সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় মহেশখালী উপজেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্যাহ্ বলেন, মহেশখালীতে অপরাধ দমনে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ইতিপূর্বে থানা ও উপজেলা প্রশাসন দপ্তর থেকে দূরে হওয়ায় কালারমারছড়ায় বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত পুলিশ টহল অব্যাহত থাকার পরেও কিছুটা অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। তারজন্য পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়েছে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের প্রতিনিধিরাও জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে সমুদ্র ও স্থলপথে যৌথ টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সভায় বক্তারা মহেশখালীর সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ধলঘাট, কালারমারছড়া, মাতারবাড়ি ও হোয়ানক এলাকায় সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই, জমি দখল সংক্রান্ত সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সকলে সম্মিলিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, নৌবাহিনীর মহেশখালী কন্টিনজেন্টের প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট মোহাইমেন হোসেন, মহেশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউসার হোসেন, কোস্টগার্ড প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও এনজিও প্রতিনিধিগণ।

তথ্যমতে, বিগত দুই বছরে মহেশখালী কালারমারছড়া, হোয়ানক, ধলঘাট ও মাতারবাড়ি এলাকায় প্রায় ৮-১০টি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জমি বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনাস্থলে দ্রুত প্রশাসন পৌঁছাতে না পারায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে ধারণা এসব ঘটনার ভুক্তভোগীদের।

স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি হলে জননিরাপত্তা বাড়তে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনসাধারণ। তবে এর জন্য নিরপেক্ষ এবং জনবান্ধন পুলিশ হতে হবে বলে দাবী তাদের। পূর্বের পুলিশ ফাঁড়ির মতো হলে পুলিশ প্রশাসন পুনরায় জনরোষে পড়বে বলে ধারণা সচেতন মহলের।

এর আগে ২০১২ সাল থেকে মহেশখালী কালারমারছড়া সোনালী ব্যাংকের দ্বিতীয় তলায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ছিল। যা ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকলেও করোনার সময় এই পুলিশ ফাঁড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তৎকালিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ ও জনগণের দীর্ঘ দাবীর প্রেক্ষিতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৩ সালে ১৯ জুলাই তৎকালিন কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) হাসানুজ্জামান পিপিএম পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে জায়গা সংক্রান্ত জটিলতায় এই পুলিশ ক্যাম্প নির্মাণের অগ্রগতি থেমে যায়।