ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে ভুল চিকিৎসায় অসুস্থ ৫০ শিশু! ইউএনও’র হস্তক্ষেপে উখিয়ায় শ্মশানের ভাঙচুর করা দেয়াল পুন:র্নির্মাণ শুরু সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন দখলদারদের উচ্ছেদে নামছে নৌবাহিনী : পরিবেশবাদীদের স্বস্তি জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ বৈঠকে আমীর -“তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে” কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে চেইন্দায় ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি যাত্রী নিহত বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ২৫ জন, ১৭ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক লোহাগাড়ায় বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ১.৫ লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি, তার মধ্যে ৫,৭৬৬ টন লবণ গায়েব উখিয়ায় কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার কক্সবাজারে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি চকরিয়ায় ৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ৩ জন আটক শহরে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে পর্যটকের মৃত্যু ৭০ বছর পর আসাম থেকে নৌপথে পণ্য এলো বাংলাদেশে আ.লীগ সমঝোতা চাইলে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

ভারি বর্ষনে রোহিঙ্গা শিবিরে ৫৩ ভূমিধস ও নিহত এক আহত ১১

চলমান প্রবল বৃষ্টিপাতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে হতাহতসহ ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন ইউএনএইচসিআর।

সোমবার বিকেলে সংস্থাটির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি শিবিরে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় এক হাজার চারশোর বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দেওয়াল ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও বজ্রপাতে আহত হয়েছেন এগারো জন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনএইচসিআর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, “খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা এবং অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আর ঝড়ো হাওয়ায় বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে এবং কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। কিন্তু শেল্টারের জন্য আমাদের আরও জায়গা দরকার।”

সংস্থাটি জানায়, বর্ষার আগেই ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয়ের সংকট ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। কেউ কেউ আত্মীয়দের সঙ্গে থাকছেন যাদের ঘরও সুরক্ষিত নয়।

মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বর্ষা চলবে বলে সতর্ক করে ইউএনএইচসিআর জানায়, ঘুমানোর ম্যাট, পানিশোধন ট্যাবলেট, দড়ি ও জেরিক্যানের মতো জরুরি উপকরণ মজুত রাখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছেন।

তবে অর্থ সংকটে এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ এমন এলাকায় বাস করছেন যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময় থাকে।

২০২৫ সালের জন্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল চেয়েছে মানবিক সংস্থাগুলো। তবে বছরের অর্ধেক পার হলেও এখনও ২০ শতাংশেরও কম অর্থায়ন মিলেছে বলে জানান লুইস।

তিনি বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব কিন্তু এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গাদের অবহেলা করতে পারি না, এই সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে আমরা দাতাদের জরুরি সহায়তার আহ্বান জানাই।

ট্যাগ :

সেন্টমার্টিনে ভুল চিকিৎসায় অসুস্থ ৫০ শিশু!

ভারি বর্ষনে রোহিঙ্গা শিবিরে ৫৩ ভূমিধস ও নিহত এক আহত ১১

আপডেট সময় : ০৮:২৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

চলমান প্রবল বৃষ্টিপাতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে হতাহতসহ ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন ইউএনএইচসিআর।

সোমবার বিকেলে সংস্থাটির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি শিবিরে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় এক হাজার চারশোর বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দেওয়াল ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও বজ্রপাতে আহত হয়েছেন এগারো জন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনএইচসিআর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, “খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা এবং অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আর ঝড়ো হাওয়ায় বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে এবং কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। কিন্তু শেল্টারের জন্য আমাদের আরও জায়গা দরকার।”

সংস্থাটি জানায়, বর্ষার আগেই ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয়ের সংকট ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। কেউ কেউ আত্মীয়দের সঙ্গে থাকছেন যাদের ঘরও সুরক্ষিত নয়।

মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বর্ষা চলবে বলে সতর্ক করে ইউএনএইচসিআর জানায়, ঘুমানোর ম্যাট, পানিশোধন ট্যাবলেট, দড়ি ও জেরিক্যানের মতো জরুরি উপকরণ মজুত রাখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছেন।

তবে অর্থ সংকটে এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ এমন এলাকায় বাস করছেন যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময় থাকে।

২০২৫ সালের জন্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল চেয়েছে মানবিক সংস্থাগুলো। তবে বছরের অর্ধেক পার হলেও এখনও ২০ শতাংশেরও কম অর্থায়ন মিলেছে বলে জানান লুইস।

তিনি বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব কিন্তু এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গাদের অবহেলা করতে পারি না, এই সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে আমরা দাতাদের জরুরি সহায়তার আহ্বান জানাই।