ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বন্যা কবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এমপি কাজলের ডিও লেটার: রামুর ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি চন্দ্রিমায় আবু বক্কর মার্কেট দখলচেষ্টার মামলায় নুরুল ইসলাম ও আরাফাতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপহরণ, নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার তারেক রহমানের নির্দেশনায় কক্সবাজারে কৃষক দলের ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন, উপকৃত ২২০ পরিবার কক্সবাজারে জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণ ঝিলংজা ইউনিয়নে পাহাড় ধসে নিহত পরিবারে পাশে সরওয়ার সাইদ মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার প্রাণহানির আশঙ্কা: জাতিসংঘ ২ দিনের সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার আসছেন শুক্রবার বিশ্ব সাপ দিবস আজ লোহাগাড়ায় আসছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিদর্শন করবেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা কক্সবাজারে জুলাই শহিদ দিবস পালিত জননেতা নুরুল আবছারের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন : আইসিইউতে স্থানান্তর বিশ্বকাপ ফাইনালে গুরু-শিষ্যের ট্যাকটিক্যাল লড়াই আন্দোলনকারীদের অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ত্রীকে হত্যা করে হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন, স্বামী গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে স্ত্রীকে হত্যা করে পরিচয় লুকাতে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজারে এনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনভর ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তারেক মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসি মাঝি পাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। নিহত শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমান উল্লাহর মেয়ে।

পুলিশ জানায়, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজের তথ্য ও স্বজনদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে মরদেহটি শাহিদা আক্তার রিপার বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ স্ত্রীর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও দুই হাতের কব্জি আলাদা করে ফেলেন। হত্যার একদিন পর মস্তক ও হাতবিহীন দেহাংশ ঝিলংজা এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর বিচ্ছিন্ন করা মাথা ও হাতের কব্জি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল নতুন সেতু এলাকা থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাঁকখালী নদীতে নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা কবলিত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত

স্ত্রীকে হত্যা করে হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে স্ত্রীকে হত্যা করে পরিচয় লুকাতে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজারে এনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনভর ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তারেক মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসি মাঝি পাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। নিহত শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমান উল্লাহর মেয়ে।

পুলিশ জানায়, গত ১১ এপ্রিল বিকেলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজের তথ্য ও স্বজনদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে মরদেহটি শাহিদা আক্তার রিপার বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত ২৬ মার্চ স্ত্রীর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করার পর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহের মাথা ও দুই হাতের কব্জি আলাদা করে ফেলেন। হত্যার একদিন পর মস্তক ও হাতবিহীন দেহাংশ ঝিলংজা এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর বিচ্ছিন্ন করা মাথা ও হাতের কব্জি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল নতুন সেতু এলাকা থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাঁকখালী নদীতে নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।