ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনে জামাল কমপ্লেক্সে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেপালের বন্যার্তদের পাশে কাঠমান্ডুর রোহিঙ্গারা, নিজেদের সংকটের মধ্যেও মানবিক সহায়তা চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা মায়ের কোলে ফিরল চার মাস বয়সী মাহি, ৩ অপহরণকারী গ্রেফতার চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক ইলিয়াছ পেকুয়ায় মাছে বিষ প্রয়োগ করে বিক্রির অভিযোগে আটক ১ কক্সবাজারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন : গুরুত্ব পায় পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষার ইস্যু কক্সবাজারে সাংবাদিকদের ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়ায় র‍্যালি ও পথসভা দশ মিনিটেই পুড়ে ছাই ব্যবসায়ী কাইছারের শেষ সম্বল দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানের জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী

ভারি বর্ষনে রোহিঙ্গা শিবিরে ৫৩ ভূমিধস ও নিহত এক আহত ১১

চলমান প্রবল বৃষ্টিপাতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে হতাহতসহ ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন ইউএনএইচসিআর।

সোমবার বিকেলে সংস্থাটির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি শিবিরে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় এক হাজার চারশোর বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দেওয়াল ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও বজ্রপাতে আহত হয়েছেন এগারো জন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনএইচসিআর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, “খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা এবং অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আর ঝড়ো হাওয়ায় বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে এবং কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। কিন্তু শেল্টারের জন্য আমাদের আরও জায়গা দরকার।”

সংস্থাটি জানায়, বর্ষার আগেই ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয়ের সংকট ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। কেউ কেউ আত্মীয়দের সঙ্গে থাকছেন যাদের ঘরও সুরক্ষিত নয়।

মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বর্ষা চলবে বলে সতর্ক করে ইউএনএইচসিআর জানায়, ঘুমানোর ম্যাট, পানিশোধন ট্যাবলেট, দড়ি ও জেরিক্যানের মতো জরুরি উপকরণ মজুত রাখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছেন।

তবে অর্থ সংকটে এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ এমন এলাকায় বাস করছেন যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময় থাকে।

২০২৫ সালের জন্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল চেয়েছে মানবিক সংস্থাগুলো। তবে বছরের অর্ধেক পার হলেও এখনও ২০ শতাংশেরও কম অর্থায়ন মিলেছে বলে জানান লুইস।

তিনি বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব কিন্তু এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গাদের অবহেলা করতে পারি না, এই সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে আমরা দাতাদের জরুরি সহায়তার আহ্বান জানাই।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনে জামাল কমপ্লেক্সে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

ভারি বর্ষনে রোহিঙ্গা শিবিরে ৫৩ ভূমিধস ও নিহত এক আহত ১১

আপডেট সময় : ০৮:২৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

চলমান প্রবল বৃষ্টিপাতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে হতাহতসহ ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশন ইউএনএইচসিআর।

সোমবার বিকেলে সংস্থাটির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি শিবিরে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় এক হাজার চারশোর বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। দেওয়াল ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও বজ্রপাতে আহত হয়েছেন এগারো জন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনএইচসিআর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, “খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা এবং অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আর ঝড়ো হাওয়ায় বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে এবং কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। কিন্তু শেল্টারের জন্য আমাদের আরও জায়গা দরকার।”

সংস্থাটি জানায়, বর্ষার আগেই ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয়ের সংকট ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমার থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। কেউ কেউ আত্মীয়দের সঙ্গে থাকছেন যাদের ঘরও সুরক্ষিত নয়।

মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বর্ষা চলবে বলে সতর্ক করে ইউএনএইচসিআর জানায়, ঘুমানোর ম্যাট, পানিশোধন ট্যাবলেট, দড়ি ও জেরিক্যানের মতো জরুরি উপকরণ মজুত রাখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছেন।

তবে অর্থ সংকটে এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ এমন এলাকায় বাস করছেন যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময় থাকে।

২০২৫ সালের জন্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার তহবিল চেয়েছে মানবিক সংস্থাগুলো। তবে বছরের অর্ধেক পার হলেও এখনও ২০ শতাংশেরও কম অর্থায়ন মিলেছে বলে জানান লুইস।

তিনি বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব কিন্তু এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গাদের অবহেলা করতে পারি না, এই সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে আমরা দাতাদের জরুরি সহায়তার আহ্বান জানাই।