ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টুয়াকের নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি আনোয়ার কামাল ও সাধারণ সম্পাদক আকতার নূর মহেশখালীর ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত ‘ফজল’ র‍্যাবের কব্জায় টেকনাফে অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার পলাতক আসামি ‘ল্যাংড়া রাসেল’ গ্রেফতার টেকনাফে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে ২১ মামলার আসামি ‘কলিম ডাকাত’ গ্রেপ্তার ঘুষ মামলার আসামি অনিক দে’র ‘ভালো পোস্টিং’: স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন টেকনাফে নতুন ৫টি ইউনিয়ন করার উদ্যোগ: এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সুপারিশে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ ইয়াবাসহ তিন নারী আটক নয়ন সাধুকে হত্যার প্রতিবাদে কক্সবাজারে পূজা উদযাপন পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল ঈদগাঁওয়ে ৩ কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন স্টল বসানো নিয়ে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা তেলের দাম বাড়ানোর কারণ জানালেন পরিবহণমন্ত্রী সংসদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, সতর্ক করল পুলিশ সদর দপ্তর তীব্র গরমে আরাম পেতে যা করতে পারেন জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ঝুঁকি

খোরশেদ মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, আমাকে বানিয়ে গেছে জিন্দা লাশ-তারিন

কক্সবাজারে চাঞ্চল্যকর খোরশেদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো অমীমাংসিত। ঘটনার পর থেকেই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন খোরশেদের সঙ্গে থাকা তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ও সমন্বয়ক তারিন।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হলেও, গণমাধ্যমের সামনে দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি তিনি। তবে অনুসন্ধানে নেমে টিটিএনের টিম ২৪ তারিখের ঘটনার দিন তার গতিবিধি বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে টিটিএনের অনুসন্ধানী টিমের হাতে এসেছে তারিনের একটি অডিও বার্তা, যেখানে তিনি বলেন,“খোরশেদ মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, কিন্তু আমাকে জিন্দা লাশ বানিয়ে গেছে।”

এই বক্তব্যে তার মানসিক অবস্থার গভীর আঘাতের প্রতিফলন দেখা গেলেও, একইসঙ্গে রহস্যও আরও ঘনীভূত হয়েছে। অডিওতে তিনি আরও বলেন,“খোরশেদ কখনো চাইতো না আমি মিডিয়াতে আসি।”তারিনের এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তাদের সম্পর্ক, পারস্পরিক অবস্থান এবং ঘটনার অন্তর্নিহিত প্রেক্ষাপট নিয়ে।

অন্যদিকে, খোরশেদের পরিবার, সহযোদ্ধা ও ঘনিষ্ঠজনদের একটি অংশের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে ঘনিষ্ঠ মহলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। অনেকেই সরাসরি তারিনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

খোরশেদের চাচা নুরুল আলম বলেন, তারিন বারবার কল করে বিরক্ত করতো এবং সেই কলের মাধ্যমে খোরশেদকে হত্যা করা হয়েছে।

এনসিপি নেতা রাইয়ান কাশেম বলেন, “তারিন এখন পর্যন্ত কোন সাংবাদিকের সামনে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দেয়নি। আমরা জানি না সেখানে কি হয়েছিল এবং তারা কয়জন ছিল। তারিন কোথায় আছে, কেউ জানে না।”

ছাত্রদল নেতা রিয়াদ মনি বলেন, “তারিন মূল সাক্ষী হলেও এখনো খোরশেদ হত্যার কারণ স্পষ্ট করেনি। আমরা জানি সে সেখানে ছিল, তবে ঘটনার সত্য উদঘাটিত হয়নি।”

ছাত্রশক্তির নেতা আতাহার সাকিফ মন্তব্য করেন, “তারিনের বক্তব্যে প্রথমে বলা হয়েছে ছিনতাই, পরে বলা হয়েছে আরেকজনকে মারার দায়ে হত্যার ঘটনা। আমার মনে হয় এটা স্পষ্ট কারো প্রেসক্রিপশনের উপর থেকে বলছে। ”

গত ৩ এপ্রিল খোরশেদ হত্যার বিচারের প্রতিবাদে ছাত্রজনতার বিক্ষোভ সমাবেশে আলোচিত নারী সমন্বয়ক জিনিয়া বলেন, “তারিনই এই রহস্যের জট খুলতে পারবে।এমনতো না যে তিনি হুজুর  এর আগে মিড়িয়াতে আসেনি।”

তবে মামলার আনুষ্ঠানিক নথিতে এখনো তার নাম নেই। নিহত খোরশেদের ভাই নওশাদ ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলেও সেখানে তারিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাটি ঘিরে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে তদন্ত। প্রযুক্তিগত প্রমাণ, সাক্ষ্য ও অন্যান্য সূত্র মিলিয়ে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

খোরশেদ হত্যাকাণ্ড এখন শুধু একটি অপরাধের ঘটনা নয়, বরং এটি পরিণত হয়েছে এক জটিল সম্পর্ক, সন্দেহ এবং অমীমাংসিত প্রশ্নের গল্পে-যার উত্তর এখনো অপেক্ষায়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টুয়াকের নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি আনোয়ার কামাল ও সাধারণ সম্পাদক আকতার নূর

খোরশেদ মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, আমাকে বানিয়ে গেছে জিন্দা লাশ-তারিন

আপডেট সময় : ০৭:২১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে চাঞ্চল্যকর খোরশেদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো অমীমাংসিত। ঘটনার পর থেকেই নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন খোরশেদের সঙ্গে থাকা তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ও সমন্বয়ক তারিন।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হলেও, গণমাধ্যমের সামনে দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি তিনি। তবে অনুসন্ধানে নেমে টিটিএনের টিম ২৪ তারিখের ঘটনার দিন তার গতিবিধি বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে টিটিএনের অনুসন্ধানী টিমের হাতে এসেছে তারিনের একটি অডিও বার্তা, যেখানে তিনি বলেন,“খোরশেদ মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, কিন্তু আমাকে জিন্দা লাশ বানিয়ে গেছে।”

এই বক্তব্যে তার মানসিক অবস্থার গভীর আঘাতের প্রতিফলন দেখা গেলেও, একইসঙ্গে রহস্যও আরও ঘনীভূত হয়েছে। অডিওতে তিনি আরও বলেন,“খোরশেদ কখনো চাইতো না আমি মিডিয়াতে আসি।”তারিনের এই বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলছে তাদের সম্পর্ক, পারস্পরিক অবস্থান এবং ঘটনার অন্তর্নিহিত প্রেক্ষাপট নিয়ে।

অন্যদিকে, খোরশেদের পরিবার, সহযোদ্ধা ও ঘনিষ্ঠজনদের একটি অংশের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে ঘনিষ্ঠ মহলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। অনেকেই সরাসরি তারিনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

খোরশেদের চাচা নুরুল আলম বলেন, তারিন বারবার কল করে বিরক্ত করতো এবং সেই কলের মাধ্যমে খোরশেদকে হত্যা করা হয়েছে।

এনসিপি নেতা রাইয়ান কাশেম বলেন, “তারিন এখন পর্যন্ত কোন সাংবাদিকের সামনে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দেয়নি। আমরা জানি না সেখানে কি হয়েছিল এবং তারা কয়জন ছিল। তারিন কোথায় আছে, কেউ জানে না।”

ছাত্রদল নেতা রিয়াদ মনি বলেন, “তারিন মূল সাক্ষী হলেও এখনো খোরশেদ হত্যার কারণ স্পষ্ট করেনি। আমরা জানি সে সেখানে ছিল, তবে ঘটনার সত্য উদঘাটিত হয়নি।”

ছাত্রশক্তির নেতা আতাহার সাকিফ মন্তব্য করেন, “তারিনের বক্তব্যে প্রথমে বলা হয়েছে ছিনতাই, পরে বলা হয়েছে আরেকজনকে মারার দায়ে হত্যার ঘটনা। আমার মনে হয় এটা স্পষ্ট কারো প্রেসক্রিপশনের উপর থেকে বলছে। ”

গত ৩ এপ্রিল খোরশেদ হত্যার বিচারের প্রতিবাদে ছাত্রজনতার বিক্ষোভ সমাবেশে আলোচিত নারী সমন্বয়ক জিনিয়া বলেন, “তারিনই এই রহস্যের জট খুলতে পারবে।এমনতো না যে তিনি হুজুর  এর আগে মিড়িয়াতে আসেনি।”

তবে মামলার আনুষ্ঠানিক নথিতে এখনো তার নাম নেই। নিহত খোরশেদের ভাই নওশাদ ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলেও সেখানে তারিনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাটি ঘিরে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে তদন্ত। প্রযুক্তিগত প্রমাণ, সাক্ষ্য ও অন্যান্য সূত্র মিলিয়ে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

খোরশেদ হত্যাকাণ্ড এখন শুধু একটি অপরাধের ঘটনা নয়, বরং এটি পরিণত হয়েছে এক জটিল সম্পর্ক, সন্দেহ এবং অমীমাংসিত প্রশ্নের গল্পে-যার উত্তর এখনো অপেক্ষায়।