কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক তিন ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ায় অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। রামুতে এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বজনদের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আর নাইক্ষ্যংছড়িতে মসজিদের ওয়াশরুম থেকে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনটি ঘটনায়ই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানের মরদেহ অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, রোববার রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে কাকারা এলাকা থেকে জিসানকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে মালুমঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, মরদেহের গলা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে কারা জিসানকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকায় মুফিজুর রহমান বাবু (২০) নামে এক তরুণের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
স্বজনদের অভিযোগ, চট্টগ্রামে বাবুকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাদের এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকার নিজ বোনের বাসা থেকে বাবুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা পুলিশকে অবহিত না করে মরদেহ রামুতে নিয়ে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রামুর বাড়িতে মরদেহ নেওয়ার পর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ার দাবি করেন স্বজনরা। এরপরই তারা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করেন এবং তদন্তের দাবি জানান।
পরে স্থানীয়রা রামু থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হয়।
নিহত বাবু পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে বোনের বাড়িতে থেকে চাকরি করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
বাবুর বাবা আবুল কালাম বলেন, তার ছেলে কেন গলায় ফাঁস দিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করতে হবে।
রামু থানা পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনরা কর্ণফুলী থানা পুলিশকে অবহিত করেননি। ঘটনাস্থল চট্টগ্রামে হওয়ায় রামু থানা পুলিশও শুরুতে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানত না।
পুলিশের ভাষ্য, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঘটনাস্থলও তদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ওয়াশরুম থেকে আবুল কালাম প্রকাশ আবু (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাজার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মসজিদের ওয়াশরুমে আবুল কালামের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত আবুল কালাম দক্ষিণ বড়বিল এলাকার মৃত আবদুল হামিমের ছেলে। তিনি দক্ষিণ বাইশারী এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে ‘আবু’ নামে পরিচিত এই ব্যবসায়ী চার সন্তানের বাবা। বাইশারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে তার একটি মুদির দোকান ছিল।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মনজুর আহসানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাইশারীর ছাদুঅং পাড়ায় একটি বৌদ্ধ বিহারের কাছে কাঠ ব্যবসায়ী জাফর আলম বাবুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে আবুল কালামের মৃত্যু ও জাফর আলম বাবুলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























